Advertisement
E-Paper

বৃষ্টি কম, দুই বিকল্প পদ্ধতিতে আমন চাষে জোর হুগলিতে

এ বছর সারা দেশেই বৃষ্টি কম হবে বলে দিল্লির মৌসম ভবন পূর্বাভাস দিয়েছে আগেই। সেই ‘অনিশ্চয়তা’র কথা মাথায় রেখে হুগলি জেলায় আমন ধান চাষে ‘জিরো টিলেজ’ এবং ‘শ্রী’ পদ্ধতির উপরে বিশেষ জোর দিল কৃষি দফতর। কম জলে, কম সময়ে উন্নত মানের এবং বেশি ফলনের জন্য এই দুই পদ্ধতির ব্যবহার নিয়ে পঞ্চায়েত এলাকাগুলিতে প্রচারও শুরু হয়েছে বলে ওই দফতর জানিয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৩ জুন ২০১৫ ০২:০৭

এ বছর সারা দেশেই বৃষ্টি কম হবে বলে দিল্লির মৌসম ভবন পূর্বাভাস দিয়েছে আগেই। সেই ‘অনিশ্চয়তা’র কথা মাথায় রেখে হুগলি জেলায় আমন ধান চাষে ‘জিরো টিলেজ’ এবং ‘শ্রী’ পদ্ধতির উপরে বিশেষ জোর দিল কৃষি দফতর। কম জলে, কম সময়ে উন্নত মানের এবং বেশি ফলনের জন্য এই দুই পদ্ধতির ব্যবহার নিয়ে পঞ্চায়েত এলাকাগুলিতে প্রচারও শুরু হয়েছে বলে ওই দফতর জানিয়েছে।

জেলার মুখ্য কৃষি আধিকারিক শান্তিরঞ্জন সরকার বলেন, ‘‘কয়েক বছর ধরেই দক্ষিণবঙ্গে বর্ষা অনিয়মিত। এই পরিস্থিতিতে প্রকৃতির উপরে ভরসা না রেখে ওই দুই পদ্ধতিতে চাষের জন্য চাষিদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এই দুই পদ্ধতি ক্রমেই গ্রহণযোগ্য এবং জনপ্রিয় হয়ে উঠবে বলে আশা করি।’’

জেলা কৃষি দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘জিরো টিলেজ’ পদ্ধতিতে চাষ হলে বীজতলা তৈরি না করেই সরাসরি জমিতে যন্ত্রের সাহায্যে ধান বপন করা যায়। সাধারণ ভাবে বীজতলা তৈরি করতে যে পরিমাণ জল লাগে, এখানে তা লাগে না। ফসল তোলা পর্যন্ত চিরাচরিত চাষের চেয়ে প্রায় ৫০ শতাংশ কম জল খরচ হবে এই পদ্ধতির চাষে। বীজ বপনের সময়ে একই সময়ে সার দেওয়া যায়। ফলে, বিভিন্ন খাতে খরচও অনেক কম হয়। যে হেতু বীজ সরাসরি জমিতে ফেলা হচ্ছে, তাই ধান তৈরি হওয়ার সময়ও ১৬০ দিনের চেয়ে ২০-৩০ দিন কম লাগে। এক বিঘা জমিতে মাত্র ২ কেজি বীজ লাগে।

‘শ্রী’ পদ্ধতিতেও কম জলে এবং কম সময়ে চাষ করা সম্ভব। এই পদ্ধতিতে জমিতে জল জমিয়ে রাখার প্রয়োজনই নেই। শুধু আর্দ্রতা ঠিক রাখা হয়। বীজতলা থেকে ৩০ দিনের বদলে মাত্র ১০-১২ দিনের মাথায় ধানের চারা জমিতে রোপণ করা যায়। ওই দফতরের দাবি, স্বাভাবিক ক্ষেত্রে বীজতলা তৈরিতে যেখানে বিঘাপ্রতি ৭-৮ কেজি বীজের প্রয়োজন, সেখানে এই পদ্ধতিতে চাষ করলে বীজ লাগবে এক কেজি। ধানের ফলনও ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বেশি মেলে। সাবেক পদ্ধতিতে বিঘাপিছু যেখানে ২-৩ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ থাকে, সেখানে ‘শ্রী’ পদ্ধতিতে বিঘাপিছু লাভের অঙ্ক ৯-১০ হাজার টাকা।

জেলায় আমন ধান চাষের এলাকা প্রায় ১ লক্ষ ৮৫ হাজার হেক্টর। এ বছর ওই জমির মধ্যে ‘জিরো টিলেজ’ পদ্ধতিতে অন্তত ২২০ হেক্টর এলাকা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। প্রায় সম পরিমাণ জমি ‘শ্রী’ পদ্ধতিতেও চাষের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। চাষিরা ‘শ্রী’ পদ্ধতি লাভজনক বলে মনে করলেও পরিকাঠামোগত সমস্যার কারণে বীজতলা তৈরি কঠিন বলে মনে করছেন।

hoogly farmers alternative farming monsoon farmers shortage of rain
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy