শিশুদের ত্বকে মাঝেমধ্যে লালচে ছোপ দেখা যায়, যা উঁচু হয়ে থাকে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় একে বলে হেমানজিয়োমা। এটি এক ধরনের রক্তনালির টিউমার। হেমানজিয়োমা শরীরের যে কোনও স্থানে হতে পারে তবে মুখ, মাথার ত্বক, বুক বা পিঠে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। কেন হয় এই রোগ?
শিশুরোগ চিকিৎসক অর্পণ সাহার মতে, রক্তনালির অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণ এই রোগ হয়। এই সমস্যা সাধারণত জন্ম থেকেই হয়। অর্পণ বলেন, ‘‘হেমানজিয়োমার দু’টি পরিণতি হতে পারে। এক, এটা ক্রমাগত ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। দুই, এটা আস্তে আস্তে কমতে পারে। এই লাল চাকতির মতো অংশে যদি কোনও কোনও রকম আঁচড় লাগে, তা হলে গলগল করে রক্ত বেরোতে পারে। এমন হলে পরিষ্কার কাপড় বা গজ দিয়ে জায়গাটা চেপে রাখতে হবে এবং সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।’’
হেমানজিয়োমার বিকাশে্র কিছু কারণের মধ্যে রয়েছে জেনেটিক প্রবণতা, হরমোনের প্রভাব এবং নির্দিষ্ট প্ল্যাসেন্টাল অস্বাভাবিকতা। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় মায়ের কোনও ক্রিয়া বা আচরণের কারণে হেমানজিয়োমা হয় না।
লক্ষণ:
এ ক্ষেত্রে ত্বকে একটি উজ্জ্বল বা গাঢ় লাল চিহ্ন লক্ষ করা যায়। এগুলির আকার এবং আকৃতিতে পরিবর্তন হতে পারে। হেমানজিয়োমা ত্বকের স্তরগুলির গভীরেও থাকতে পারে, সে ক্ষেত্রে বাইরে থেকে তা বোঝা যায় না।
চিকিৎসা
হেমানজিয়োমার চিকিৎসা বিভিন্ন বিষয়ের উপর নির্ভর করে, যার মধ্যে রয়েছে আকার, অবস্থান এবং বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত সম্ভাব্য জটিলতা। অনেক ক্ষেত্রে ৬ মাস নির্দিষ্ট অসুধ খেলে এই রোগ কমে যায়। জটিলতা থাকলে লেসার থেরাপি কিংবা অস্ত্রোপচার করারও প্রয়োজন হতে পারে। তবে হেমানজিয়োমা বিনাইন, অর্থাৎ ক্যানসারের ইঙ্গিতবাহী নয়, আবার একে ফেলে রাখাও ঠিক নয়।