Advertisement
E-Paper

অচলাবস্থা বহাল জয়শ্রী টেক্সটাইলসে

বর্ধিত বেতনের দাবিতে মঙ্গলবার থেকে কাজ বন্ধ করে বিক্ষোভ-ঘেরাও শুরু করেছিলেন রিষড়ার জয়শ্রী টেক্সটাইলস কারখানার শ্রমিকেরা। বুধবারেও অচলাবস্থা কাটল না। মালিকপক্ষের তরফে আশ্বাস না-মেলায় বুধবারেও কাজে যোগ দিলেন না শ্রমিকরা।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৮ মে ২০১৭ ০৪:২১

বর্ধিত বেতনের দাবিতে মঙ্গলবার থেকে কাজ বন্ধ করে বিক্ষোভ-ঘেরাও শুরু করেছিলেন রিষড়ার জয়শ্রী টেক্সটাইলস কারখানার শ্রমিকেরা। বুধবারেও অচলাবস্থা কাটল না। মালিকপক্ষের তরফে আশ্বাস না-মেলায় বুধবারেও কাজে যোগ দিলেন না শ্রমিকরা।

বিশ্ৃঙ্খলার অভিযোগে কারখানার ১২ জন শ্রমিককে সাসপেন্ড করেন কারখানা কর্তৃপক্ষ। তাঁদের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআরও করা হয়েছে।

রিষড়া স্টেশন লাগোয়া আদিত্য বিড়লা গোষ্ঠীর পোশাক তৈরির এই কারখানা কয়েক দশকের পুরনো। প্রায় চার হাজার শ্রমিক কাজ করেন। তাঁদের দাবি, প্রতি বছর নির্দিষ্ট হারে বেতন বাড়ানো হয়। গত জানুয়ারিতে নতুন চুক্তি অনুযায়ী প্রতিদিন ৬ টাকা অর্থাৎ মাসে (২৬ দিন) ১৫৬ টাকা করে বেতন বাড়ার কথা ছিল। পাঁচ মাসেও সেই অনুযায়ী টাকা দেওয়া হয়নি। শ্রমিক সংগঠনগুলির সঙ্গে কর্তৃপক্ষের বৈঠকেও সমস্যা মেটেনি।

জানুয়ারিতে চুক্তির কথা মানেননি কারখানা কর্তৃপক্ষ। লিখিত বিবৃতিতে কারখানার ‘ইউনিট হেড’ মনমোহন সিংহ জানান, বেতন বাড়ানো নিয়ে ২০১৫ সালে যে চুক্তি হয়েছিল, তা আগামী বছরের জুলাই মাস পর্যন্ত বহাল রয়েছে। কাজের ভিত্তিতে শ্রমিকদের মাইনে বাড়ানো নিয়ে আলোচনা হোক। শ্রমিকেরা যে ভাবে কাজ বন্ধ রেখেছেন, তা অযৌক্তিক এবং বেআইনি বলেও দাবি করেছেন কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার শ্রমিকেরা আধিকারিকদের ঘেরাও করে বেতন বৃদ্ধির দাবি জানান। রাত পর্যন্ত বিক্ষোভ চলাকালীন রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় নামে কারখানার এক শীর্ষকর্তাকে আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ। দাবি মানা না-হলে কাজে যোগ দেবেন না বলে শ্রমিকেরা জানিয়ে দেন। মুকেশ প্রসাদ রাউত নামে এক শ্রমিক বলেন, ‘‘কর্তৃপক্ষ মর্জিমতো কারখানা চালাচ্ছেন। আমাদের দিকটা ভাবছেন না।’’

কারখানা কর্তৃপক্ষের দাবি, বাজারে প্রতিযোগিতার জন্য কঠিন পরিস্থিতিতে সে ভাবে লাভ হচ্ছে না। তা ছাড়া, শ্রমিকদের যে হারে কাজ করার কথা, তা তাঁরা করছেন না। পক্ষান্তরে, কারখানায় অচলাবস্থার জন্য কর্তৃপক্ষকেই দায়ী করেছে শ্রমিক সংগঠনগুলি। এআইটিউসি নেতা অশোক দাসের অভিযোগ, ‘‘মালিকপক্ষ শ্রমিকদের সঙ্গে প্রতারণা করছেন। বাড়তি কাজ করলে তবে বর্ধিত বেতন দেওয়া হবে বলছেন। এটা অনৈতিক। শ্রমিকেরা বাধ্য হয়েই কাজ বন্ধ করেছেন।’’ সিটুর জেলা সভাপতি শান্তশ্রী চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘মালিকপক্ষ সঠিক ভূমিকা পালন করুক। অবিলম্বে বিষয়টি মিটিয়ে ফেলুক।’’ আইএনটিটিইউসি নেতা অন্বয় চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘উৎপাদিত দ্রব্য কোথায় বিক্রি করবেন, সেটা মালিকপক্ষের মাথাব্যথা। শ্রমিকরা তো কাজে ফাঁকি দিচ্ছেন না। ওঁদের প্রাপ্য কেন দেওয়া হবে না!’’

Jayashree Textiles
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy