কৃষি ক্ষেত্রে কেন্দ্রের ‘সবুজ বিপ্লব’ প্রকল্প হুগলি জেলায় ৫ বছরে পা দিল। কিন্তু এখনও সরকারি প্রদর্শনী ক্ষেত্রের বাইরে প্রকল্পটি প্রয়োগের ক্ষেত্রে চাষিদের বিশেষ সাড়া মিলছে না। এমনই আক্ষেপ জেলার ব্লক কৃষি দফতরের আধিকারিকদের। এ বিষয়ে চাষিদের উৎসাহের ঘাটতির কথা স্বীকার করেছেন তাঁরা।
তবে জেলার কৃষি আধিকারিক অশোক তরফদার বলেন, ‘‘যে সব প্রজাতির বীজ ব্যবহার করছি সেই বীজ ব্যবহারে চাষিরা ধীরে ধীরে ক্রমশ উৎসাহিত হচ্ছেন। এটা কম পাওনা নয়। উন্নত পদ্ধতিতে খরিফ ধানের (আমন ও আউস) চাষ করে বেশি ফলন এবং শস্য নিবিড়তা বাড়ানো লক্ষ্যে প্রকল্পটি নিয়ে চাষিদের উৎসাহ বাড়াতে চেষ্টা চলছে।”
হুগলি জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এ বছর আমন ধানের ক্ষেত্রে গত বছরের থেকে ১০টি প্রদর্শনী ক্ষেত্র বাড়িয়ে জেলায় ১৮টি ব্লকে মোট ৫৪টি প্রদর্শনী ক্ষেত্র হয়েছে। প্রদর্শনী ক্ষেত্র পিছু ১০০ হেক্টর জমি নিয়ে মোট ৫৪০০ হেক্টর জমিতে ওই চাষ প্রক্রিয়া হয়েছে। সবুজ বিপ্লব প্রকল্পটি কেন্দ্রীয় সরকারের। প্রকল্পটির সূচনা হয় ২০১১-’১২ আর্থিক বছরে। হুগলি জেলায় এটি শুরু হয় ২০১২ সালে। প্রকল্পের রূপরেখা হল, এক লপ্তে ১ হাজার হেক্টর জমির উপরে উন্নত পদ্ধতিতে খরিফ ধানের (আমন ও আউস) চাষ করে বেশি ফলন এবং শস্য নিবিড়তা বাড়ানো। উন্নত প্রযুক্তিগুলির প্রতিটি ধাপ হাতে-কলমে শেখাবেন কৃষি দফতরের বিশেষজ্ঞরা।
কিন্তু এ রাজ্যে এক লপ্তে ১ হাজার হেক্টর জমি পাওয়ায় সমস্যা হওয়ায় মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে সেটি ন্যূনতম ১০০ হেক্টর করা হয়েছে। প্রথম বছর জেলায় মোট ২৬টি প্রকল্প ক্ষেত্র করা হয়েছিল। ক্রমশ তা বাড়তে বাড়তে গত বছর ছিল ৪৫টি। এবছর হয়েছে ৫৪টি। এক একটি প্রকল্প এলাকায় ১০০ হেক্টর জমিপিছু ৩০০ থেকে ৫০০ চাষির মালিকানা। সেই সব চাষি হাতে-কলমে কৃষি দফতরের সহায়তা পাওয়া ছাড়াও সরকারি খরচে পাবেন জমির মাটি পরীক্ষা, বিনামূল্যে বীজ, বীজ শোধনের ওষুধ, আগাছা নাশক, কীটনাশক ও রোগনাশক ওষুধ এবং অনুখাদ্য। ১০০ হেক্টর প্রকল্প পিছু কেন্দ্রীয় সরকারের তহবিল প্রায় ৮ লক্ষ টাকা।
সবুজ বিপ্লব প্রকল্পে সামিল হওয়া চাষিরা কেন উদ্যোগী হচ্ছেন না?
আরামবাগের সালেপুরের বিভাস দাস বলেন, “বছর দুই আগে সুবুজ বিপ্লব প্রকল্পে আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগ করে আগের চেয়ে বিঘা পিছু ৪ মণ ধান বেশি পেয়েছি ঠিকই। কিন্তু সেই পদ্ধতি মেনে নিজে চাষ করার সাহস পাচ্ছি না। সরকারি অনুদান থাকলে ঝুঁকি নেওয়া যেত।” খানাকুলের আর এক চাষি দিবাকর মণ্ডল বলেন, “প্রকল্পের মতো হুবহু চাষ করতে সাহস পাচ্ছি না ঠিকই। তবে আমাদের অনেকেই দুটি জিনিস শিখে নিয়ে ইতিমধ্যেই সুফল পাচ্ছি। যেমন ধান চাষের জন্য সার্টিফায়েড বীজ জোগাড়। এবং মাটি পরীক্ষার ভিত্তিতে মাটির অনুখাদ্য জনিত অভাব মেটাতে জিঙ্ক সালফেট ব্যবহার করা।’’