দুর্গার বোধনের আগেই রক্ত ঝরল দাদপুরের গোবিন্দপুরে। বন্ধুর গুলিতে মৃত্যু হল এক যুবকের।
রবিবার বন্ধুদের নিয়ে মাসির বাড়ি ঘুরতে এসেছিলেন চুঁচুড়ার ধরমপুর ক্ষুদিরাম সরণির বাসিন্দা বিশ্বজিৎ দাস (২২)। সোমবার, পঞ্চমীর দুপুরে সেখানেই বসে মদের আসর। আসর চলাকালীনই বচসা শুরু হয়। সেখানেই চলে গুলি। মৃত্যু হল বিশ্বজিতের। প্রাথমিক তদন্তের পরে পুলিশ জানিয়েছে, পুরনো শক্রুতার জেরেই পরিকল্পনা করে বিশ্বজিৎকে খুন করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চুঁচুড়ার ধরমপুর ক্ষুদিরাম সরণির বাসিন্দা মাধব দাসের বড় ছেলে বিশ্বজিৎ রবিবার বিকেলে তাঁর দুই বন্ধুকে নিয়ে দাদপুরের গোবিন্দপুরে তাঁর মাসির বাড়ি যান। রবিবার সেখানেই রাত কাটান। সোমবার দুপুরে মাসির বাড়িতেই মদের আসর বসে। ক্ষুদিরাম সরণির আরও দুই বাসিন্দা ছোটকা ও জনাকেও সেখানে ডেকে নেওয়া হয়। তাঁরা চলেও আসে। অভিযোগ, আসর চলাকালীন কয়েক ঘণ্টা পরে নান্টু ও সাহেবের সঙ্গে বিশ্বজিতের বচসা হয়। তখন নান্টু একটি ওয়ানশটার বের করে বিশ্বজিতের মাথা লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় বিশ্বজিতের।
নিহত: বিশ্বজিৎ দাস
গুলির আওয়াজ পেয়ে মাসি চলে এসে দেখেন বিশ্বজিৎ মাটিতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। তিনি চিৎকার করে স্থানীয় বাসিন্দাদের ডাকাডাকি করতে শুরু করেন। লোকজন আসার আগেই নান্টু ও সাহেব মোটরবাইক নিয়ে পালায়। চুঁচুড়ার স্টেশনের কাছে একটি গ্যারেজে মোটরবাইকটি রেখে তারা ট্রেন ধরে চম্পট দেয়। ছোটকা ও জনা স্থানীয় খাদিনামোড় পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে বিষয়টি জানায়।
কী করে এই ঘটনা ঘটল বুঝতে পারছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশ জানিয়েছে, ওয়ানশটারটি কোথাল থেকে এল সেটিও ভাবাচ্ছে পুলিশকে। পুলিশের খাতায় নান্টু ও সাহেবের বিরুদ্ধে দুষ্কৃতীমূলক কাজকর্মের অভিযোগ রয়েছে। বিশ্বজিতের বিরুদ্ধে এর আগে তেমন কোনও অভিযোগ না থাকলেও পড়শি হিসেবে তাঁর সঙ্গে নান্টু ও সাহেবের বন্ধুত্ব ছিল। তদন্তকারী এক কর্তা জানান, খুনের পরিকল্পনা করেই বিশ্বজিতকে তাঁর মাসির বাড়িতে নিয়ে গিয়েছিল নান্টু ও সাহেব। বিশ্বজিতের মা রূপা দাসের আক্ষেপ, ‘‘ছেলে পড়াশুনা ছেড়ে দেওয়ার পরে টুকটাক কাজ করতো। সংসার নিয়েই চিন্তা করতো। ওকে এইভাবে কেন শেষ করে দেওয়া হল?’’ তাঁর ক্ষোভ, ছোটবেলার ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা ওকে খুন করেছে এটা ভাবতেই পারছি না।’’
পুলিশের এক কর্তা জানান, ঘটনার একজন প্রত্যক্ষদর্শীকে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।