Advertisement
E-Paper

স্ত্রী-বান্ধবীর অসম্মান রুখতে গিয়ে মার খেলেন দুই যুবক

একই দিনে গঙ্গার পূর্ব ও পশ্চিম পারে মহিলাদের সম্মান বাঁচাতে গিয়ে বেধড়ক মার খেলেন দুই যুবক। এক জন স্বামী। অন্য জন বন্ধু। আহত দু’জনকেই হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়। সোমবার সন্ধ্যায় একটি ঘটনা ঘটে গড়িয়াহাটে। রাতে মারধরের অন্য ঘটনাটি ঘটে বালি স্টেশনের কাছে। চৈত্রশেষে স্ত্রীকে নিয়ে সন্ধ্যার গড়িয়াহাটে কেনাকাটা করতে বেরিয়েছিলেন বিশ্বজিৎ চন্দ নামে চেতলার এক যুবক। ফুটপাথে দরাদরির সময়েই তাঁর স্ত্রীকে এক হকার কটূক্তি করে বলে অভিযোগ।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৪ এপ্রিল ২০১৫ ০৩:০১

একই দিনে গঙ্গার পূর্ব ও পশ্চিম পারে মহিলাদের সম্মান বাঁচাতে গিয়ে বেধড়ক মার খেলেন দুই যুবক। এক জন স্বামী। অন্য জন বন্ধু। আহত দু’জনকেই হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়। সোমবার সন্ধ্যায় একটি ঘটনা ঘটে গড়িয়াহাটে। রাতে মারধরের অন্য ঘটনাটি ঘটে বালি স্টেশনের কাছে।

চৈত্রশেষে স্ত্রীকে নিয়ে সন্ধ্যার গড়িয়াহাটে কেনাকাটা করতে বেরিয়েছিলেন বিশ্বজিৎ চন্দ নামে চেতলার এক যুবক। ফুটপাথে দরাদরির সময়েই তাঁর স্ত্রীকে এক হকার কটূক্তি করে বলে অভিযোগ। তার প্রতিবাদ করেন বিশ্বজিৎবাবু। পুলিশের কাছে ওই যুবক অভিযোগ জানিয়েছেন, তিনি রুখে দাঁড়ানোয় ২০-২৫ জন হকার দল বেঁধে তাঁর উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এলোপাথাড়ি কিল-চড়-ঘুষি মারা হতে থাকে। স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে মার খান তরুণী বধূও। দু’জনেরই মুখ-মাথা ফুলে যায়। তরুণী মাটিতে পড়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। ওই দম্পতির অভিযোগ, অন্যান্য হকার দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সব দেখলেও তাঁদের বাঁচাতে বা হামলাকারীদের থামাতে এগিয়ে আসেনি। তবে কিছু পথচারী প্রতিবাদ করেন। তাঁদেরই সাহায্যে কোনও মতে মারমুখী হকারদের হাত এড়িয়ে গড়িয়াহাট থানায় পৌঁছন স্বামী-স্ত্রী। কটূক্তি, শ্লীলতাহানি ও মারধরের অভিযোগ দায়ের করা হয়। পুলিশ পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে রামকৃষ্ণ মাইতি নামে এক হকারকে গ্রেফতার করে। গভীর রাত পর্যন্ত মারধরে অভিযুক্ত অন্য ২৩-২৪ জন হকারের কাউকে ধরতে পারেনি তারা। বাঙুর হাসপাতালে বিশ্বজিৎ এবং তাঁর স্ত্রীর প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা হয়।

গড়িয়াহাট-সহ সারা মহানগরেরই রাস্তা ও ফুটপাথে হকার-দৌরাত্ম্য স্থায়ী অসুখ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ। তাদের দাপটে ফুটপাথ যে আর পথচারীদের নেই, রাস্তায় বেরোলেই সেটা মালুম হয়। এ দিনের ঘটনায় ওই দম্পতিও সেটা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছেন। কিন্তু কেন হকারদের ব্যাপারে পুলিশ এত উদাসীন, সেই রহস্যের সমাধান মেলে না। কোনও কোনও শিবিরের মতে, রাজনৈতিক দলগুলির মদতেই এত রমরমা হকারদের। পুলিশও সেই জন্যই হকারদের ব্যাপারে হাত গুটিয়ে থাকে। ভুগতে হয় পথচারীদের।

Advertisement

বালির ঘটনায় হকার নয়, কিছু মদ্যপ যুবক জড়িত বলে অভিযোগ। পুলিশ জানায়, তমাল নন্দী নামে বরাহনগরের এক যুবক বান্ধবীকে ট্রেনে তুলে দিতে বালি স্টেশনে গিয়েছিলেন। তিনি থানায় অভিযোগ করেছেন, রাত ১০টা নাগাদ স্টেশনে পৌঁছলে কিছু মদ্যপ তাঁর বান্ধবীর উদ্দেশে কটূক্তি করে। প্রতিবাদ করায় তারা পলাশের উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে। বেধড়ক মারধর চলে। তমালের বান্ধবীর গায়েও তারা হাত দেয় বলে অভিযোগ। ওই তরুণী অজ্ঞান হয়ে যান। এলাকার লোকজন তমালের বান্ধবীকে নিয়ে এক চিকিৎসকের কাছে যান। সেখানে জ্ঞান ফেরানোর ব্যবস্থা হয়। পরে দু’জনকেই নিয়ে যাওয়া হয় ঘুসুড়ির হাসপাতালে।

বালির ঘটনাতেও পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ উঠছে। বাসিন্দারা জানান, বালির ওই হপ্তাবাজার এলাকায় দুষ্কৃতীদের স্থায়ী ডেরা। পথচলতি মানুষ তাদের দাপটে অস্থির। সব জেনেও পুলিশ-প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নেয় না। এ দিনের ঘটনার পরেও গভীর রাত পর্যন্ত পুলিশ কাউকে ধরতে পারেনি।

youth assaulted bali station gariahat junction wife assaulted girlfriend hurt hwaker problem
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy