Advertisement
E-Paper

অভিযুক্তদের শনাক্ত করলেন নির্যাতিতার খুড়শ্বশুর

মাসদেড়েক বন্ধ থাকার পরে সোমবার থেকে ফের আমতা আদালতে শুরু হল মুক্তিরচক গণধর্ষণ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ। এ দিন অতিরিক্ত জেলা দায়রা বিচারক শ্যামলকুমার রায়চৌধুরীর এজলাসে নির্যাতিতা বধূর খুড়শ্বশুর স্থানীয় তৃণমূল নেতা বরুণ মাকাল-সহ অভিযুক্ত দশ জনকে শনাক্ত করেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০০:৩৪

মাসদেড়েক বন্ধ থাকার পরে সোমবার থেকে ফের আমতা আদালতে শুরু হল মুক্তিরচক গণধর্ষণ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ। এ দিন অতিরিক্ত জেলা দায়রা বিচারক শ্যামলকুমার রায়চৌধুরীর এজলাসে নির্যাতিতা বধূর খুড়শ্বশুর স্থানীয় তৃণমূল নেতা বরুণ মাকাল-সহ অভিযুক্ত দশ জনকে শনাক্ত করেন। নির্যাতিতাদের মুখে শোনা নির্যাতনের কথাও বিস্তারিত জানান বিচারককে।

এলাকার ট্রান্সফর্মার থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে গত বছর ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে জনা দশেক দুষ্কৃতী মুক্তিরচকের এক বধূ ও তাঁর জেঠশাশুড়িকে গণধর্ষণ ও মারধর করে বলে অভিযোগ। প্রহৃত হন ওই পরিবারের আর এক মহিলাও। মামলায় অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে স্থানীয় দুই তৃণমূল নেতা বরুণ মাকাল এবং রঞ্জিত মণ্ডল-সহ ৯ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। শুনানি চলাকালীন ধরা পড়ে জগৎ মণ্ডল নামে আর এক অভিযুক্ত। সপ্তাহ তিনেক আগে শেষ বারের শুনানিতে এক নির্যাতিতার সাক্ষ্য নেওয়া হয়। তিনি জগৎকে শনাক্তও করেন। এর পরেই ডিএনএ এবং ফরেন্সিক পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে না আসায় অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবী বিমল রক্ষিত এই মামলার উপরে স্থগিতাদেশের জন্য কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন জানান। হাইকোর্টের নির্দেশমতো মামলার শুনানি তিন সপ্তাহ স্থগিত হয়ে যায়। কিন্তু বাদী পক্ষের আইনজীবী রেজাউল করিমের আবেদনের ভিত্তিতে হাইকোর্ট স্থগিতাদেশ বাতিল করে শুনানি শুরুর নির্দেশ দেয় দিন কয়েক আগে।

সেই নির্দেশমতোই সোমবার থেকে শুরু হল সাক্ষ্যগ্রহণ। এ দিন বিচারকের কাছে সেই নির্দেশের কপিও জমা দেন বাদী পক্ষের আইনজীবী। সরকারি আইনজীবী সিদ্ধার্থ মজুমদার নির্যাতিতা বধূর খুড়শ্বশুরের কাছে ঘটনার বিষয়ে জানতে চান। খুড়শ্বশুর জানান, তাঁর বাড়ি নির্যাতিতাদের বাড়ির কাছেই। ওই রাতে তিনি বাড়িতে ঘুমিয়েছিলেন। নির্যাতিতাদের বাড়ি থেকে চেঁচামেচি শুনে সেখানে যান। গিয়ে বাড়ির জিনিসপত্র লন্ডভন্ড অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। নির্যাতিতারা তাঁকে পুরো ঘটনা জানান। পুলিশ এসে নির্যাতিতাদের হাসপাতালে নিয়ে যায়। তিনিও সেখানে যান। নির্যাতিতাদের মুখেই বরুণ-রঞ্জিতদের বিরুদ্ধে অভিযোগ শোনেন।

Advertisement

এই সময়ে অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবী দাবি করেন, ‘‘অভিযুক্তেরা শাসকদলের কর্মী-সমর্থক। রাজনৈতিক কারণে তাঁদের ফাঁসাতে এই কথা বলছেন সাক্ষী।’’ যদিও সাক্ষী দাবি করেন, তিনি সত্য ঘটনাই বলেছেন। এর পরেই এজলাসে হাজির অভিযুক্তদের শনাক্ত করেন তিনি। সরকারি আইনজীবী জানান, আগামী ৩ নভেম্বর পর্যন্ত মামলাটির টানা শুনানি চলবে।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy