Advertisement
E-Paper

খেলতে গিয়ে বোমা ফেটে জখম তিন শিশু

বাড়ির কাছেই খেলছিল তিনটি শিশু। খেলতে খেলতে জলতেষ্টা পেলে রাস্তার ধারে নলকূপে জল খেতে যায় তারা। কলের একপাশে পড়েছিল গোটা চারেক স্টিলের কৌটো। ভিতরে কী আছে জানতে তিনজনই সেগুলোর ঢাকনা খুলতে যায়। মুহূর্তে বিকট শব্দে তিনজনই ছিটকে পড়ে রাস্তায়।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৪ জুলাই ২০১৫ ০১:৪৪

বাড়ির কাছেই খেলছিল তিনটি শিশু। খেলতে খেলতে জলতেষ্টা পেলে রাস্তার ধারে নলকূপে জল খেতে যায় তারা। কলের একপাশে পড়েছিল গোটা চারেক স্টিলের কৌটো। ভিতরে কী আছে জানতে তিনজনই সেগুলোর ঢাকনা খুলতে যায়। মুহূর্তে বিকট শব্দে তিনজনই ছিটকে পড়ে রাস্তায়। আওয়াজ শুনে কী হয়েছে দেখতে আশপাশের লোকজন বেরিয়ে তিনজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে সঙ্গে সঙ্গে চুঁচুড়া হাসপাতালে নিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার সকালে ব্যান্ডেলের পাকুড়তলা মানসপুর বস্তি এলাকায় বোমা ফেটে তিন শিশুর জখম হওয়ার এই ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়। কারা, কেন ওই জায়গায় বোমা রেখেছিল, তদন্ত করছে পুলিশ।

খবর পেয়ে চুঁচুড়ার বিধায়ক তপন মজুমদার হাসপাতালে আহত তিন কিশোরীকে দেখতে যান। পরে ঘটনাস্থলেও যান। সেখানে আহত তিন কিশোরীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সন্তানের চিকিৎসার সব রকম আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

ব্যান্ডেলের পাকুড়তলায় মানসপুর বস্তির পাশেই রেলের কিছু পরিত্যক্ত আবাসন রয়েছে। স্থানীয় ছেলেমেয়েরা সেখানে খেলাধূলাও করে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, এদিন সকাল সাতটা নাগাদ ওই এলাকার বাসিন্দা বছর আটেকের খুসবু খাতুন, পাঁচ বছরের নাদরা ও ৬ বছরের রুকসানা বাড়ির কাছে খেলছিল। খেলার মাঝে তারা রাস্তার ধারে নলকূপে জল খেতে যায়। কলের পাশে কিছু কৌটো পড়ে থাকতে দেখে তা খুলতে গেলেই বিস্ফোরণ ঘটে। এতই জোরাল বিস্ফোরণ ছিল যে, খুসবুর ডান হাতের কবজি থেকে উড়ে যায়। বোমার সপ্লিন্টারের আঘাতে সারা শরীর ক্ষতবিক্ষত হয়। স‌প্লিন্টারের আঘাতে গুরুতর জখম হয় তার বোন নাদরা এবং মামাতো বোন রুকসানাও। ঘটনায় উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। ছড়ায় আতঙ্ক। ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এলাকায় ক্রমাগত বাড়তে থাকা দুষ্কৃতীদের দাপটেই এই ঘটনা ঘটেছে। তাঁদের আরও অভিযোগ, রেলের পরিতক্ত আবাসনগুলি সন্ধের পর সমাজবিরোধীদের আখড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। সন্ধ্যার পর মহিলারা রাস্তায় বেরোতে পারেন না। বেরোলে ছিনতাইকারীদের খপ্পরে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে। অথচ এ সব বন্ধ করতে পুলিশের দেখা মেলে না। আর তার ফলেই এমন ঘটনা ঘটল। বাড়ির সামনে যদি এ ভাবে খোলা জায়গায় বোমা ফেলে রাখা হয় তাহলে তাঁদের নিরাপত্তা কোথায়?

নজরদারি নেই, এমন অভিযোগ মানতে নারাজ পুলিশ। হুগলির পুলিশ সুপার প্রবীণ ত্রিপাঠী বলেন, ‘‘ওই এলাকায় পুলিশের টহলদারি বাড়ানো হয়েছে। দুষ্কৃতীদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এলাকায় অপরিচিত কাউকে দেখলে পুলিশকে জানাতে বলা হয়েছে। রেল দফতরের সঙ্গে আলোচনা করে পরিত্যক্ত আবাসনগুলি ভেঙে ফেলার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’’

খুসবু ও নাদরার বাবা মহম্মদ জাহাঙ্গির বলেন, ‘‘সকালে বাড়িতে ছিলাম। মেয়েগুলো বাড়ির সামনেই খেলছিল। ৭টা নাগাদ হঠাৎই বিকট আওয়াজ পাই। প্রথমে কিছু বুঝতে পারিনি। দেখি সবাই ছোটাছুটি করছে। পরে বাড়ির পিছন দিকে গিয়ে আমার মেয়ে দুটো এবং বোনের মেয়েটা পড়ে কাতরাচ্ছে। রক্তে ভেসে যাচ্ছে রাস্তা। পাড়ার লোকেরাই ওদের হাসপাতালে চলে যায়।’’

তপনবাবু বলেন, ‘‘এলাকার সমাজবিরোধীদের দৌরাত্ম্য রুখতে বাসিন্দাদের পুলিশ সুপার, থানার ওসি, বিধায়ক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ফোন নম্বর দেওয়া হবে। দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্য রুখতে এলাকার সমস্ত বাসিন্দাদের একত্রিত হতে হবে।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy