Advertisement
E-Paper

তৃণমূলের গোষ্ঠী-কোন্দলে ব্যাহত পঞ্চায়েতের কাজ

বন্যার জল নেমে গিয়েছে দিন কুড়ি আগে। কিন্তু তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে এখনও বন্যা পরবর্তী এলাকা পুনর্গঠনের কাজ সে ভাবে শুরুই হল না গোঘাট-২ ব্লকের কুমারগঞ্জ পঞ্চায়েতে। গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে অগস্টের গোড়া থেকেই ভারপ্রাপ্ত প্রধান অফিস আসা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। বিডিও শোকজ করার পর কিছু দিন আগে অফিস আসা শুরু করলেও অচলাবস্থা সে ভাবে কাটেনি।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৬ অগস্ট ২০১৫ ০০:৫৫

বন্যার জল নেমে গিয়েছে দিন কুড়ি আগে। কিন্তু তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে এখনও বন্যা পরবর্তী এলাকা পুনর্গঠনের কাজ সে ভাবে শুরুই হল না গোঘাট-২ ব্লকের কুমারগঞ্জ পঞ্চায়েতে। গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে অগস্টের গোড়া থেকেই ভারপ্রাপ্ত প্রধান অফিস আসা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। বিডিও শোকজ করার পর কিছু দিন আগে অফিস আসা শুরু করলেও অচলাবস্থা সে ভাবে কাটেনি। দিন দুয়েক আগে শুধু ১১টি সংসদের মধ্যে কুমারগঞ্জ সংসদে ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পে একটি কাজ শুরু হয়েছে।

বিডিও শিবপ্রিয় দাশগুপ্ত বলেন, ‘‘পঞ্চায়েতটিতে কাজের গতি ফেরাতে প্রশাসনিক ভাবে চেষ্টা শুরু হয়েছে। প্রধানকে নিয়মিত অফিস আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সব ক’টি সংসদেই দ্রুত কাজ শুরু নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’’

১১টি সংসদ এলাকা নিয়ে গঠিত ওই পঞ্চায়েতটিতে তৃণমূলই ক্ষমতায়। প্রধানের পদটি তফসিলি মহিলার জন্য সংরক্ষিত। কিন্তু পঞ্চায়েত ভোটে সিপিএমের কাছে সেই মহিলা প্রার্থী পরাজিত হওয়ায় প্রধান পদের দায়িত্ব উপপ্রধানের উপরেই বর্তায়। আগামী ৩ সেপ্টেম্বর প্রধান পদে নির্বাচন রয়েছে। কিন্তু তার আগেই তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব সামনে এসেছে। আর এর জেরে ইন্দিরা আবাস যোজনা, গীতাঞ্জলি আবাসন প্রকল্প-সহ অন্যান্য উন্নয়নও প্রায় স্তব্ধ।

Advertisement

পঞ্চায়েতের ভারপ্রাপ্ত প্রধান তথা উপপ্রধান বংশী রায়ের দাবি, ‘‘বিভিন্ন প্রকল্পে উপভোক্তা নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিডিওর নির্দেশ মতো আমি যে তালিকা পাঠাই, তা অনুমোদন হয়ে আসার সময় দেখি সেই নামের একটিও নেই। ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পের ক্ষেত্রেও কোথায় কখন কাজ হবে সেই সংক্রান্ত আমার পরিকল্পনা বদলে যায়। এই সব কারণেই বীতশ্রদ্ধ হয়ে অফিস আসা বন্ধ করি।’’ আর এ সবের পিছনে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তপন মণ্ডলের হাত রয়েছে, অভিযোগ তুলে বংশীবাবু বলেন, ‘‘আমাকে ব্লক তৃণমূল নেতা চঞ্চল রায়ের গোষ্ঠীর ধরে নিয়ে তপনবাবুরা নিজেদের গোষ্ঠীর প্রাধান্য বজায় রাখতে এ সবে মদত দিচ্ছেন। পরিষেবা না পেয়ে মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। সুপারভাইজাররা শ্রমিকদের কাজ করাতে চাইছেন না।’’ চঞ্চলবাবুরও অভিযোগ, ‘‘তপন-গোষ্ঠীর লোকেরাই উন্নয়নে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে।’’ পক্ষান্তরে গোঘাট-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তথা দলের ব্লক সভাপতি তপন মণ্ডলের দাবি, ‘‘কোনও গোষ্টীদ্বন্দ্ব নেই। উপভোক্তাদের নাম পরিবর্তনের অভিযোগও ঠিক নয়। প্রধানের নিয়মিত অফিস না আসাই উন্নয়নের মূল বাধা।’’

বন্যায় ওই পঞ্চায়েতের ১১টি সংসদ এলাকাই বিধ্বস্ত হয়। পূর্ব ও পশ্চিম চাকলা, কমলা, আশুথখোলা, পুনিয়া, পুণ্ডহিত, আশপুর, জিতারপুর, মসিদবেরা ইত্যাদি গ্রামের বাসিন্দাদের অভিযোগ, বন্যার পর ২০ দিন পেরিয়ে গেলেও পুনর্নিমাণের কাজ শুরু হয়নি। পানীয় জলের কল থেকে শুরু করে খাল-বিল-নালা সংস্কারেও হাত পড়েনি। তৃণমূল নেতাদের কোন্দলে কোথাও কাজ শুরু হয়নি। তৃণমূলের গোষ্টীদ্বন্দ্ব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পের শ্রমিকেরাও। তাঁদের অভিযোগ, তৃণমূলের গোষ্টীদ্বন্দ্ব এমনই চরমে উঠেছে, যে প্রকল্পের সুপারভাইজাররাও তাতে জড়িয়ে গিয়েছেন। তাঁরা পঞ্চায়েতের পরিকল্পিত কাজের বৈঠকগুলিতে যাচ্ছেন না।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy