একটি কলেজের মধ্যে শাসকদলের ছাত্র সংগঠনেরই দুই গোষ্ঠী। আর সেই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে মারামারির জেরে উত্তেজনা ছড়াল হাওড়ার নরসিংহ দত্ত কলেজে। সোমবার বিকেলে এই সংঘর্ষের জেরে এক ছাত্রী সহ মোট ছয় জন আহত হয়েছেন।
পুলিশ ও কলেজ সূত্রের খবর, এ দিন বিকেল ৪টে নাগাদ ওই কলেজের ইউনিট সভাপতি অভিষেক গঙ্গোপাধ্যায় অধ্যক্ষের কাছে একটি ডেপুটেশন জমা দিতে গিয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, গত ১০ জুলাই কলেজে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন সান্ধ্য বিভাগের তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রোহিত রাউত। সেই অনুষ্ঠানে নেশা করা হয়েছে। এমনকী, কয়েক জন ছাত্রীর সঙ্গেও অশালীন আচরণ হয়েছিল বলে অভিযোগ। অভিষেকের দাবি, এ দিন ডেপুটেশন দিয়ে বেরিয়ে আসার সময় তাঁদের উপর হামলা চালায় রোহিত ও তাঁর দলবল, যাঁর অধিকাংশই বহিরাগত।
কলেজ সূত্রের খবর, দুই গোষ্ঠীর মধ্যে প্রথমে বচসা পরে মারামারি শুরু হয়। কলেজ চত্বর থেকে তা বাইরের রাস্তায় ছড়িয়ে পরে। এ দিন কলেজে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিকম দ্বিতীয় বর্ষের বাংলা পরীক্ষা ছিল। তার মধ্যেই এই গণ্ডগোল শুরু হয়। অভিযোগ, কলেজে পুলিশ থাকলেও তাঁদের সামনেই দু’দল মারামারি শুরু করে। ক্রমশ গণ্ডগোল বাড়তে দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয়েরা। খবর পেয়ে ব্যাঁটরা থানা থেকে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে আসে। হাওড়া সিটি পুলিশের এক কর্তা বলেন, ‘‘পরীক্ষা চলছিল বলে কয়েক জন পুলিশ কর্মী কলেজে ডিউটি করছিলেন। তবে গণ্ডগোলের খবর পেয়েই থানা ব্যবস্থা নিয়েছে।’’
এ দিন দুই গোষ্ঠীর গণ্ডগোলে মোট ছয় জন আহত হন। এক ছাত্রের মাথা ফেটে যায়। সংবাদ মাধ্যমের উপরেও চড়াও হন গণ্ডগোলকারীরা। এ দিন অভিষেক বলেন, ‘‘আমাদের দলের ছেলেরাই অশান্তি করছে। বহিরাগতদের কলেজে ঢোকাচ্ছে। অনুষ্ঠানের নামে নেশা-নোংরামি করছেন। এর প্রতিবাদেই অধ্যক্ষের কাছে শান্তিপূর্ণ ভাবে ডেপুটেশন দিতে গিয়েছিলাম।’’
যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রোহিত। তিনি বলেন, ‘‘অনুষ্ঠানে এ রকম কিছু ঘটেনি। মিথ্যা রটানো হচ্ছে। এ দিনও ওঁরাই আমাদের মারধর করেছে।’’ কলেজের অধ্যক্ষ প্রশান্ত মাহাতো বলেন, ‘‘কলেজে এত বড় ক্যাম্পাস। কখন কোথায় কি ঘটছে তা সব সময় জানা সম্ভব নয়। তবে অনুষ্ঠানে মদ্যপান হয়েছে বলে শুনেছি। বিষয়টি আমরা দেখছি।’’
তৃণমূলের হাওড়া জেলা সভাপতি (শহর) তথা মন্ত্রী অরূপ রায় বলেন, ‘‘কলেজে অশান্তি হচ্ছে। কিন্তু অধ্যক্ষ কড়া হাতে কোনও ব্যবস্থা নিতে পারছেন না। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে হবে।’’