Advertisement
E-Paper

সুস্থ থাকতে নুন খাওয়া কমাচ্ছেন, সোডিয়ামের মাত্রা একেবারে কমে গেলেই বিপদ! কী হতে পারে এতে?

হার্ট, কিডনির অসুখে নুন কম খেতেই বলেন চিকিৎসকেরা। তবে নুন খাওয়া কমাতে গিয়ে বিপদ ডাকছেন কি?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:১৯
নুন কম খাওয়া ভাল, কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে কম সোডিয়াম খাওয়ার ফল কী হতে পারে?

নুন কম খাওয়া ভাল, কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে কম সোডিয়াম খাওয়ার ফল কী হতে পারে? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

নুন খেলেও কমই খাওয়া ভাল, অনেক সময়েই বলেন চিকিৎসকেরা। কেউ কেউ বলেন, ওজন ঝরাতে গেলেও নুনের মাত্রা কমিয়ে ফেলা দরকার। হার্ট, কিডনির অসুখেও নুন খাওয়ার মাত্রা বেঁধে দেন চিকিৎসক।

তাই কি ভেবেচিন্তেই নুন খাওয়া কমিয়ে ফেলবেন ঠিক করেছেন? দিল্লি নিবাসী মেডিসিনের চিকিৎসক প্রভাতরঞ্জন সিংহ এক সাক্ষাৎকারে সতর্ক করলেন, ইচ্ছামতো নুন খাওয়া কমিয়ে ফেলার বিপদ সম্পর্কে। শরীরে সোডিয়াম বা নুনের কোনও ভূমিকা নেই এমনটা ভাবা একেবারেই ভুল। বরং চিকিৎসক বলছেন, লম্বা সময় ধরে নুনের মাত্রা অনেকটা কমিয়ে দিলে হিতে বিপরীতও হতে পারে।

শরীরে তরলের ভারসাম্য রক্ষায় নুন বা সোডিয়ামের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও নুনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। স্নায়ুর কাজ থেকে মাংসপেশির সক্রিয়তা বজায় রাখতেও সোডিয়ামের প্রয়োজন। নুনের মাত্রা কমলে শরীরে ইলকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। তাই নুনকে শুধু খাবারে স্বাদ বৃদ্ধির উপকরণ হিসেবে ভাবা বড় ভুল হতে পারে।

লম্বা সময় ধরে কম নুনযুক্ত খাবার খেলে কী প্রভাব পড়তে পারে?

চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নুন খাওয়া হঠাৎ করে অনেকটা কমিয়ে দিলে তার প্রভাব পড়তে পারে শরীরে। রক্তের ঘনত্ব কম-বেশি হতে পারে, রক্তচাপ আচমকা নেমে যেতে পারে, এমনকি কিডনির উপরেও চাপ বাড়তে পারে। রক্তচাপ, শরীরের তরল নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন রেনিন-অ্যাঞ্জিওটেনসিন-অ্যালডোস্টেরনের মতো হরমোনের মাত্রার উপরেও প্রভাব ফেলে নুনের ঘাটতি।

শরীরের সোডিয়ামের মাত্রা মারাত্মক রকম কমে গেলে হাইপোন্যাট্রেমিয়াও হতে পারে। এমনটা হলে দুর্বল বোধ হবে, মস্তিষ্ক ঠিক ভাবে কাজ করতে পারবে না।

আচমকা ক্লান্তি

নুন খাওয়ার মাত্রা এক ধাক্কায় অনেকটা কমিয়ে ফেললে ক্লান্তি, দুর্বলতাও ঘিরে ধরতে পারে। কারণ, স্নায়বিক বার্তা প্রেরণের ক্ষেত্রেও সোডিয়ামের জরুরি ভূমিকা থাকে। ফলে খনিজের অভাব ঘটলে, মস্তিষ্কেও তার প্রভাব পড়বে। রক্তচাপ আচমকা কমে গেলে মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালনের অভাব ঘটতে পারে। ফলে শরীর স্বাভাবিক দৈহিক কাজকর্ম করতেও অসমর্থ হবে। তার ফলে মাথা ঘোরা, ক্লান্তির মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। তা ছাড়া শরীরে জল এবং খনিজের মাত্রার হেরফের হলে পেশিতে টান ধরতেও পারে।

কিডনির অসুখের রোগীদের নুন কম খেতে বলা হয়, তবে সোডিয়ামের মাত্রা উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে গেলে কিডনির পক্ষেও কাজ করা সম্ভব হবে না।

তা হলে কী করা উচিত?

বেশি নুন খাওয়া অবশ্যই উচিত নয়, তবে স্বল্প মাত্রায় হলেও সোডিয়াম জরুরি। অতিরিক্ত নুন খাওয়া এড়াতে চিকিৎসক প্রক্রিয়াজাত, প্যাকেটজাত নোনতা খাবার বাদ দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। অনেকেরই খাওয়ার সময় নুন ছড়িয়ে নেওয়ার অভ্যাস থাকে, তা বন্ধ করতে বলছেন। রান্নাতেও অতিরিক্ত নুনের প্রয়োগ কমিয়ে ফেলা দরকার। তবে চিকিৎসক বলছেন, হার্ট, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনির অসুখের রোগীদের অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে নুনের মাত্রা কমানো দরকার।

Low Sodium Diet Risk
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy