আলু, ফুলকপি বা মাছের ঝোল, রেসিপি একই। কিন্তু দেখা যাবে সেই রান্নাটি দিদিমার হাতে ঠিক যতটা ভাল লাগে, ততটা স্বাদু হয় না মায়ের হাতে। কিংবা নিজে করতে গেলেও সেই স্বাদ আসে না।
রান্নার নেপথ্যে যেমন হাতযশ থাকে, তেমনই থাকে কৌশল, বলেন রন্ধনশিল্পীরা। পেঁয়াজ কতটা ভাজা হবে, নুন আগে না পরে, টম্যাটো কখন দিতে হবে, মাছ কতটা ভাজা হবে— এমন ছোট ছোট অনেক কৌশলই বদলে দিতে পারে রান্নার স্বাদ। আর ঠিক সেই কারণেই, মা বা ঠাকুরমার বা দিদার হাতের সবচেয়ে পছন্দের রান্নাটি অন্য কেউ করলে সেই স্বাদ হয়তো আসে না।
তবে যদি বিশেষ রন্ধনের কৌশলটি ঠিকমতো রপ্ত করে নেওয়া যায়, তা হলে একই স্বাদ না হোক সুস্বাদু রান্না করা সম্ভব। ঠিক এমন ভাবেই প্রতি দিনের ফুলকপির তারকারি বা ঝোলটিও হয়ে উঠতে পারে বাড়তি সুস্বাদু।
আরও পড়ুন:
ফুলকপির রান্নায় কোন ধাপ মানবেন?
১। ফুলকপি ভিনিগার ভেজানো জলে কেটে ভিজিয়ে রাখেন অনেকেই। তার পরেই তা জলে ধুয়ে সেই অবস্থায় সরাসরি কড়াইয়ে ভাজতে শুরু করেন। রন্ধনশিল্পীরা বলছেন, সঠিক কৌশলটি হল জল ঝরিয়ে নিয়ে তার পরে সেটি রান্না করা।
ফুলকপি রান্নার আগে ফুটন্ত জলে সেটি ৩-৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখতে পারেন। এতে ফুলকপির ময়লা ভাল পরিষ্কার হয়, হালকা সেদ্ধও হয়। তবে এর বেশি ক্ষণ রাখলে কপি গলে গিয়ে স্বাদ নষ্ট হবে। ভাপানো কপিও জল ঝরিয়ে তার পর রান্নার জন্য কড়াইয়ে দেওয়া দরকার।
৩। ফুলকপি কাটার সময় খেয়াল রাখা দরকার প্রতিটি ফুল যেন মোটামুটি সমান মাপের হয়। কোনওটি ছোট আবার কোনওটি বেশি বড় হলে দেখতে যেমন ভাল লাগবে না, তেমনই রান্নাতেও অসুবিধা হবে। একই সময় ধরে রান্নার পর দেখা যাবে বড় মাপের ফুলটি শক্ত রয়ে গেল, ছোট কপিটি গলে গেল।
৪। ফুলকপি ভাজার সময় আঁচ বেশি রাখা দরকার। মাঝারি বা কম আঁচে ভাজলে ফুলকপিতে রং আসবে না। সেটি ধীরে ধীরে ভিতর থেকেও সুসিদ্ধ হবে। তবে আঁচ বাড়িয়ে ভাজলে দ্রুত সোনালি রং ধরবে, ভিতর থেকে একটু কাঁচা ভাব থাকবে। ফলে তরকারি রান্নার সময় তা গলে যাবে না। তা ছাড়া নুন দেওয়া দরকার একদম শেষ ধাপে। না হলে ফুলকপি তাড়াতাড়ি গলে যাবে।
৫। তরকারি, ঝোল বা যে রান্নাই করুন না কেন, অন্তত আধ ঘণ্টা সেটি রেখে তার পরে পরিবেশন করুন। রান্নার পরে ঝোল বা মশলা আরও ভাল ভাবে ফুলকপির ভিতর পর্যন্ত যায়। তাই দেখা যায় যে কোনও আমিষ বা নিরামিষ তরকারি বাসি হলে অনেক সময় বেশি সুস্বাদু লাগে।
কোন ভুল এড়াবেন?
• ঝোল হোক বা তরকারি, ফুলকপি বেশি গলে গেলে স্বাদের তফাত হবেই। রান্না এমন হবে যাতে ফুলকপি নরম হবে কিন্তু একেবারে গলে যাবে না। আবার শক্ত থাকলেও চলবে না।
• ফুলকপি ভাজার সময়ে আঁচ বাড়িয়ে দিলেও তরকারি ফোটানোর সময় সেটি কম আঁচেই রান্না করতে হবে। ঢাকা দিয়ে রান্না করলে খাবার সুসিদ্ধ হবে, স্বাদও বাড়বে।