ফোনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলা এক রকম, আর মুখোমুখি বসা আর এক রকম। ডেটিংয়ে তাই যেমন রোমাঞ্চ আছে, তেমনই আছে ঝুঁকিও। কথা বলে যাঁকে ভাল লেগেছে, তাঁকে হয়তো মুখোমুখি দেখে, হাবে ভাবে ততটা ভাল লাগল না!
প্রথম সাক্ষাতে যাতে হিসাব উল্টে না যায়, তার জন্য পুরুষেরা সাজগোজের কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখতে পারেন।
পুরুষদের সাজগোজ বা ‘গ্রুমিং’ এর ক্ষেত্রে অনেক ছোটখাটো বিষয় অনেকখানি পার্থক্য গড়ে দেয়। পরিচ্ছন্ন এবং ভাল ফিটিংয়ের পোশাক তো রইলই। তার বাইরে চেহারায় আভিজাত্য এবং ধারালো ভাব আনতে কী করবেন?
১. দাড়ি-গোঁফের পরিচ্ছন্নতা
দাড়ি এবং গোঁফ থাকুক বা না থাকুক, উল্টো দিকের মানুষটির নজর কাড়বে আপনার মুখের ‘শার্প লাইনস’। অর্থাৎ পরিচ্ছন্ন একটি রেখা বোঝা যাচ্ছে কি না। এই রেখা গাল আর গলার সীমারেখা হতে পারে আবার দাঁড়ি থাকা আর না থাকা অংশের মাঝের রেখাও হতে পারে। হতে পারে সুন্দর করে ট্রিম করা গোঁফ। বিষয় হল সীমারেখাটি যেন পরিচ্ছন্ন থাকে। ধরা যাক, আপনার দাড়ি আছে। তবে গালের উপরের অংশ এবং গলার নিচের অংশ একদম নিখুঁতভাবে ট্রিম বা শেভ করে একটি বর্ডার তৈরি করুন। এতে মুখে অগোছালো ভাব আসবে না। মুখের রেখাগুলির জন্য আপনার পুরুষালি বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠবে। ফলে আরও ধারালো এবং আকর্ষণীয় দেখাবে।
আরও পড়ুন:
২. ভ্রু ও নাকের লোম ট্রিম করা
অনেকেই বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দেন না। কিন্তু মুখোমুখি বসে কথা বলার সময় বিষয়টি খুব তাড়াতাড়ি দৃষ্টি আকর্ষণ করে। দুই ভ্রুর মাঝে অতিরিক্ত লোম থাকলে তা স্যাঁল বা পার্লারে গিয়ে তুলে নিন। নাকের বাইরে বেরিয়ে আসা লোম অস্বাভাবিক নয়, তবে তা ট্রিম করা পরিচ্ছন্নতার মধ্যেই পড়ে। এতে চেহারায় একটি পরিষ্কার এবং মার্জিত ভাব আসবে।
৩. নখ ও হাতের যত্ন
প্রথম সাক্ষাতে হাত মেলানোর সময়ে বা কফি খাওয়ার সময়ে আপনার হাত এবং নখ দৃষ্টি আকর্ষণ করবেই। নখ যেন অবশ্যই ছোট এবং পরিষ্কার করে কাটা থাকে। নখের কোনায় ময়লা থাকলে তা যে কারও মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। আর ডেটে যাওয়ার আগে হাতে সামান্য হ্যান্ড লোশন বা ময়েশ্চারাইজারও মেখে নিন। হাত মেলানোর সময়ে খসখসে হাতের চেয়ে নরম ও আর্দ্র হাতের স্পর্শ নিঃসন্দেহে কিছু বাড়তি নম্বর দেবে আপনাকে।
আরও পড়ুন:
৪. ঠোঁটের যত্ন
কথা বলার সময় উল্টো দিকের মানুষটির মুখ এবং ঠোঁটের দিকে আপনিও দেখেন। ঠোঁট যদি শুষ্ক হয় বা ঠোঁটে ফেটে থাকে, তবে আপনারই কি তা ভাল লাগে। ফাঁটা ঠোঁট মুখে অপরিচ্ছন্ন ভাব আনে। এ-ও মনে হতে পারে যে আপনি নিজের প্রতি যত্নবান নন। সাক্ষাতের আগে রংহীন ভালো মানের ‘ম্যাট’ লিপবাম ব্যবহার করুন। এতে ঠোঁটে একটা ভিজে ভাব থাকবে। মুখে অনেকটা তরতাজা ভাব আসবে।
৫. সুগন্ধ এবং মিন্ট
পরিচ্ছন্ন পোশাক আর হাত-মুখের পরিচ্ছন্নতার যেমন চোখে পড়ে, তেমনই প্রথম দর্শনে প্রভাব ফেলে সুগন্ধও। তবে খুব বেশি চড়া বা উগ্র গন্ধের পারফিউম বেশি পরিমাণে ব্যবহার করবেন না। হালকা গন্ধের কোনও সুগন্ধী ব্যবহার করুন। এটি ভাল রুচির পরিচয় দেবে। পাশাপাশি মুখের সতেজ ভাব বজায় রাখার জন্য সাক্ষাতের আগে মাউথ ফ্রেশনার বা মিন্ট গাম ব্যবহার করতে পারেন।
৬. হাসি
মুখের আকর্ষণ আরও বাড়ে হাসলে। প্রথম সাক্ষাতে সেই হাসি যেন অনুজ্জ্বল না হয়। দাঁতে যেন হলদেটে ছোপ না থাকে, সে দিকে খেয়াল রাখবেন অবশ্যই। বাজারে দাঁত সাদা করার নানা চটজলদি সমাধান রয়েছে। তার কোনও একটি বেছে নিন।