এই প্রথম সম্ভবত ভারতীয় সিনেমার তারকাদ্বয়ের বিয়েতে নজর কাড়লেন বধূ নন, বর। দক্ষিণী নায়ক-নায়িকা বিজয় দেবরকোন্ডা এবং রশ্মিকা মন্দানার বিয়ের ছবিতে বিজয়ের পোশাক দেখে মনে হল কোনও মন্দিরের বিগ্রহ জীবন্ত হয়ে চলে এসেছেন বিয়ের মণ্ডপে।
বলিউডের আর পাঁচ জন নায়কের বিয়ের পোশাকের সঙ্গে বিজয়ের পোশাকের আকাশ-পাতাল তফাত। শেরওয়ানি-কুর্তা-গলাবন্ধ যোধপুরী গলাবন্ধ স্যুটের বদলে তিনি পরলেন সাদা ধুতির সঙ্গে একটি মাত্র উত্তরীয়। নগ্ন ঊর্ধ্বাঙ্গে এর বেশি আর কোনও পোশাক নয়। শুধুই গয়না। আর সেই গয়নাও মন্দিরের বিগ্রহের মতো। চওড়া সোনার মালার মতো হার। হাতে চওড়া একদন্ত বালা। বাহুতে বাজুবন্ধ। কানে বড় কানপাশা, সোনার কোমরবন্ধ আর পায়ে খাড়ু। যা আসলে কড়া বা বালার মতো দেখতে পায়ের গয়না।
বিজয় পরেছিলেন অনুজ্জ্বল সোনালি সুতোর কাজ করা সাদা ধুতি আর একই ধরনের সুতোর নকশা করা লাল উত্তরীয়। সেই সাজ আর গয়নার সঙ্গে চোখে পড়ছিল বিজয়ের সাজের আরও একটি বিশেষত্ব। হাতে আর পায়ে আলতা পরেছিলেন রশ্মিকার নায়ক। ঠিক যে ভাবে মেয়েরা মেহন্দি বা আলতার রঙে হাত এবং পা রাঙান বিয়ের আগে, সে ভাবেই বিজয়ের হাত এবং পায়ের আঙুল রাঙানো হয়েছিল আলতায়। সঙ্গে ভিজে চুল ব্যাকব্রাশ করে আঁচড়ানো। কপালে বাঁধা ‘বাসিকম’। যা তেলুগুমতে বিবাহের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। বর-বধূ উভয়কেই পরতে হয় হলুদ সুতোয় বাঁধা সোনার তাবিজের মতো দেখতে অলঙ্কার। যা স্বামী-স্ত্রী-র আত্মিক বন্ধনের প্রতীক।
এই পোশাকে বিজয় বিয়ের মণ্ডপে এসেছিলেন ঘোড়ায় চড়ে। কপালে তিলক, সাদা গোলাপের সাজ আর মুখের মিষ্টি হাসিটি অমলিন। বোঝা গেল, কেন বিজয়ের ছবি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে রশ্মিকা লিখেছেন, ‘‘আয়্যাম সো সো সো সো এক্সাইটেড টু বিকামিং ইয়োর ওয়াইফ, টু বি ইয়োর ওয়াইফ, টু বি কলড ইয়োর ওয়াইফ!’’ অর্থাৎ ‘‘তোমার স্ত্রী হতে পেরে আমি দারুণ উত্তেজিত। উত্তেজিত তোমার স্ত্রীর হওয়ার যোগ্য হয়ে উঠতে পারার জন্য। তোমার স্ত্রী হতে পেরে এবং তোমার স্ত্রী বলে আগামী দিনে আমাকে সম্বোধিত করা হবে বলে উত্তেজিত আমি।’’