অবশেষে প্রেম পরিণতি পেল। বিয়ের বন্ধনে জুড়লেন বিজয় দেবরকোন্ডা এবং রশ্মিকা মন্দানা। পাত্রের বাড়ির মতে, তেলুগু নিয়মে তাঁদের বিয়ে সম্পূর্ণ হয়েছে। পরের পর্বের বিয়ে হবে রশ্মিকার পরিবারের ‘কোডাভা’ মতে।
শোনা গিয়েছিল, সিটি প্যালেসেই চার হাত এক হতে চলেছে তাঁদের।কিন্তু বৃহস্পতিবার উদয়পুরের একটি রিসর্টেই বিয়ে সারেন তাঁরা। অরাবলী পাহাড় আর পিছোলা লেকের মেলবন্ধনে উদয়পুর এমনিই ছবির মতো সুন্দর। তবে বিজয়-রশ্মিকা যেখানে বিয়ে সারলেন, সেই জায়গাও কম সুন্দর নয়।
রিসর্ট থেকে দেখা যায় অরাবলীর সূর্যাস্ত। ছবি:সংগৃহীত।
উদয়পুরের কেন্দ্রীয় বা মধ্য অংশ থেকে ২৫-৩০ কিলোমিটার দূরে পাহাড়ি এলাকায় রয়েছে রিসর্টটি। কাছ থেকে দেখা যায় অরাবলীর সৌন্দর্য। পাহাড়ের কোলে যখন সূর্য ডোবে, রক্তিম আভা ছড়িয়ে পড়ে আকাশজুড়ে। সেই রূপ ধরা পড়ে রিসর্টের নানা প্রান্ত থেকে। দুই তারকার বিয়ের জন্য বেছে নেওয়া জায়গাটি আভিজাত্য এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মেলবন্ধনে তৈরি।
৪১ একর জায়গা জুড়ে রিসর্টটির বিস্তৃতি।২৯ কিলোমিটার দূরে রয়েছে নাথদ্বারা মন্দির। ৯ কিলোমিটার দূরে একলিঙ্গ এবং নাগাড়া মন্দির।
সূর্যাস্তের রূপ বড় সুন্দর এখানে। ছবি:সংগৃহীত।
বিশাল রিসর্ট চত্বরে রয়েছে ১১৭টি স্যুটস এবং ভিলা। আছে ৫টি রকমারি থিমের রেস্তরাঁ এবং অনুষ্ঠানের জন্য তিনটি ব্যাঙ্কোয়েট। বিশাল চত্বরে বাঁধাই করা রাস্তা গিয়েছে এঁকেবেঁকে। রাস্তার দু’পাশে সবুজ গালিচার মতো ঘাসের চাদর, ফুল। সৌন্দর্যায়নে কৃত্রিম ভাবে তৈরি করা হয়েছে জলাধার। হেলিকপ্টার নিয়েও যাতে অতিথি-অভ্যাগতরা আসতে পারেন, সে জন্য রয়েছে হেলিপ্যাড।
ঘর থেকে দেখা যায়া অরাবলী পাহাড়। ছবি:সংগৃহীত।
এই জায়গাকে শুধু কংক্রিটের স্থাপত্য ভাবলে ভুল হবে। বরং এমন ভাবেই এখানকার স্যুট, রেস্তরাঁগুলি তৈরি যাতে প্রকৃতির সঙ্গ মেলে সব সময়। পাহাড়ের কোলে উন্মুক্ত ‘উদয় প্যাভিলিয়ন’-এর রেস্তরাঁ মধুচন্দ্রিমা বা অবসরযাপনের আদর্শ জায়গা হতে পারে। রয়েছে কবাব-কারি, রয়্যাল ভেগার মতো রকমারি থিমের ছিমছাম রেস্তরাঁ। যার বিশাল কাচের জানলা দিয়ে উপভোগ করা যায় পাহাড়ের সৌন্দর্য।
‘উদয় প্যাভিলিয়ন’-রেস্তরাঁ । ছবি:সংগৃহীত।
আরামের সঙ্গে প্রকৃতি উপভোগের সমস্ত বন্দোবস্তই এখানে নিখুঁত। রয়েছে আধুনিক মানের স্পা।স্যুইটের সঙ্গে থাকা স্নানঘরেও রয়েছে পাথরের বাথটাব, জাকুজ়ির সুবিধা। আছে বিশাল জিম এবং অত্যাধুনিক সমস্ত সুবিধাও।
রিসর্টের রূপ বদলে যায় সূর্যাস্তের পর আলো জ্বলে উঠলে। পাহাড়ের উপর রিসর্ট সেজে ওঠে আলো-আঁধারির খেলায়।
সন্ধ্যায় এমনই দেখায় রিসর্টটি।
স্যুট এবং ভিলাগুলির নকশা এমন ভাবে তৈরি যাতে পর্দা সরালে স্বচ্ছ কাচের জানলা দিয়ে দৃশ্যমান হয় অরাবলীর রূপ। সূর্যাস্তের সৌন্দর্য, প্রকৃতির রূপ বদল ধরা দেয়। কোনও কোনও ঘরের সঙ্গে রয়েছে উন্মুক্ত ছাদও, নিভৃতে প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য সেই জায়গাগুলিও কম রোম্যান্টিক নয়।
রিসর্টের ওয়েব সাইট থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখানে এক রাতে থাকার ন্যূনতম খরচ ৩৫-৪০ হাজার টাকা।