Advertisement
E-Paper

বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে খুন

মোবাইলে একটা কল পেয়ে সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন তিনি। রাত পেরিয়ে গেলেও বাড়ি ফেরেননি। রাতে পাড়ার কয়েক জনের সঙ্গে বাস ভাড়া করে দিঘা বেড়াতে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেখানেও যাননি। সারা রাত খোঁজাখুঁজি করেও বাড়ির লোক তাঁর হদিস পাননি। শেষমেশ শনিবার সকালে বাড়ি থেকে এক কিলোমিটারের মধ্যেই মিলল বিজয় সরকারের (১৮) গলাকাটা দেহ।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১২ মার্চ ২০১৬ ২১:৩৯

মোবাইলে একটা কল পেয়ে সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন তিনি। রাত পেরিয়ে গেলেও বাড়ি ফেরেননি। রাতে পাড়ার কয়েক জনের সঙ্গে বাস ভাড়া করে দিঘা বেড়াতে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেখানেও যাননি। সারা রাত খোঁজাখুঁজি করেও বাড়ির লোক তাঁর হদিস পাননি। শেষমেশ শনিবার সকালে বাড়ি থেকে এক কিলোমিটারের মধ্যেই মিলল বিজয় সরকারের (১৮) গলাকাটা দেহ।নৈহাটির মামুদপুরের রামকৃষ্ণ পল্লির ঘটনা। বিজয় এ বার উচ্চ-মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছেন। তাঁর বাবা বিকাশ সরকার বাউল শিল্পী হিসেবে ওই তল্লাটে পরিচিত। পুলিশ জানায়, ছেলের রক্তাক্ত মৃতদেহ তাঁরই প্রথম নজরে আসে।

ওই ঘটনায় বিজয়ের এক বন্ধু পাপাই দাসকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। বিজয়ের দেহ যেখানে পড়ে ছিল, সেখানে বিয়ারের দু’টি খালি বোতলও মিলেছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, খুনের পিছনে প্রণয়ঘটিত কারণ থাকতে পারে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, নৈহাটি আদর্শ বিদ্যানিকেতন থেকে এ বছরই উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দেন বিজয়। লেখাপড়ায় সাধারণ হলেও প্রতিবেশীদের বক্তব্য অনুযায়ী, পাড়ার সকলের সঙ্গেই বিজয়ের সদ্ভাব ছিল। বন্ধু-বান্ধব বা চেনা পরিচিতের মধ্যে কারও সঙ্গেই তাঁর ঝগড়াঝাটি হয়নি বলেই দাবি বিজয়ের পরিবারের।

তবে বিজয়ের বাড়ির লোকজন জানান, তবে শুক্রবার সন্ধ্যা সওয়া সাতটা নাগাদ তাঁর মোবাইলে বেশ কয়েক বার ফোন এসেছিল। বার কয়েক ফোন কেটে দেওয়ার পর শেষ পর্যন্ত ফোনের অন্য প্রান্তে থাকা ব্যক্তিকে বিরক্ত হয়ে ‘আসছি’ বলে বেরিয়ে যান বিজয়।

রাত ১১টা বেজে গেলেও ছেলে ফিরছে না দেখে তাঁর মোবাইলে ফোন করেন বিজয়ের মা শিল্পীদেবী। কিন্তু তখন ফোন সুইচড অফ।

শনিবার ছেলের মৃত্যুর খবর শোনার পরও বিশ্বাস করতে পারেননি শিল্পীদেবী। বাড়ি বাড়ি পরিচারিকার কাজ করে কোনও রকমে সংসার চালান। পরিবারে তাঁর রোজগারটুকুই সম্বল। গান গাওয়ার ডাক পেলে তবেই বিকাশবাবু উপার্জন করেন। এ দিন বিকাশবাবু বার বার বলছিলেন, ‘‘এ ভাবে কে ডেকে নিয়ে গিয়ে খুন করল আমার ছেলেকে! কী এমন অপরাধ করেছিল যে ওকে এত কষ্ট দিয়ে মেরে ফেলল!’’ বিজয়ের বন্ধুদের সঙ্গেও কথা বলছে পুলিশ। বিজয়ের মোবাইলে কে শুক্রবার ফোন করায় তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান, সেটা পুলিশ খতিয়ে দেখছে।

ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনার নীরজকুমার সিংহ বলেন, ‘‘প্রাথমিক তদন্তে কিছু সূত্র আমরা পেয়েছি। তদন্তের স্বার্থেই আরও কিছু বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy