যুদ্ধবিমান থেকে ছোড়ার পরে ছেড়ে যায় পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল। তার পরে দ্রুত নামতে থাকে ভূপৃষ্ঠের দিকে। সরাসরি আঘাত হানে লক্ষ্যবস্তুতে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইকে হত্যার জন্য এই ‘ব্লু স্প্যারো’ ক্ষেপণাস্ত্রই ইজ়রায়েল ব্যবহার করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা।
খামেনেই-হত্যার পরে পশ্চিম ইরাকে এই ক্ষেপণাস্ত্রের কিছু ভগ্নাবশেষ পাওয়া গিয়েছে বলে জানিয়েছে একটি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম। সেখান লম্বা, ধূসর রঙের সিলিন্ডারের মতো দেখতে কয়েকটি অংশ পাওয়া গিয়েছে।
কী এই ব্লু স্প্যারো?
এই প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞেরা জানিয়েছেন, ইজ়রায়েলে তৈরি এই ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ১২৪০ মাইল বা ১৯৯৫ কিলোমিটার। এর বিশেষত্ব হল যুদ্ধবিমান থেকে ছোড়ার পরে ক্ষেপণাস্ত্রটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ছেড়ে মহাকাশে চলে যায়। তার পরে সরাসরি নেমে আসে ভূপৃষ্ঠে থাকা লক্ষ্যবস্তুর দিকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বায়ুমণ্ডল ছেড়ে বেরিয়ে ফের তাতে ফিরে আসার ক্ষমতার ফলেই আকাশ-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে এই ক্ষেপণাস্ত্রকে প্রতিহত করা কঠিন। এই অস্ত্রের ক্ষেত্রে লক্ষ্যবস্তুর কাছে থাকা সেনার পক্ষে পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণের সময়ও কম।
বিশেষজ্ঞেরা জানিয়েছেন, ‘ব্লু স্প্যারো’ ছাড়াও ইজ়রায়েলের হাতে রয়েছে একই শ্রেণিভুক্ত ‘ব্ল্যাক স্প্যারো’ ও ‘সিলভার স্প্যারো’। ১৯৯১ সালে ইজ়রায়েলের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত ইরাকের ‘স্কাড’ ক্ষেপণাস্ত্রের চরিত্র বুঝতে এই ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছিল ইজ়রায়েল। কিন্তু পরে ‘ব্লু স্প্যারো’কে আকাশ-থেকে-ভূমি যুদ্ধে পুরোদস্তুর ব্যবহারের সিদ্ধান্তনেওয়া হয়।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)