গালভরা টোল, মিষ্টি হাসি, মনভোলানো চোখ, ঝলমলে কেশরাশি, জেল্লাদার ত্বক— আলিয়া ভট্টের সৌন্দর্যরক্ষার অন্যতম হাতিয়ার প্রকাশ্যে এল ফ্রান্সের শহর থেকে। কান চলচ্চিত্র উৎসবে গিয়ে এক সাক্ষাৎকারে বলিউডের নায়িকা জানান, তাঁর রূপের রহস্যের নেপথ্যে রয়েছে ঘুম। সুনিদ্রাই নাকি ত্বক ও স্বাস্থ্য ভাল রাখতে সাহায্য করে তাঁর।
সাক্ষাৎকারে তাঁর কথায় জানা যায়, মুম্বই থেকে ফ্রান্সে যাওয়ার সময়ে বিমানে লম্বা ঘুম দিয়েছেন তিনি। তাঁর ‘স্লিপ স্কোর’ না কি ৮৫! ঘুমের ট্র্যাকারে এই সংখ্যা দেখে গর্বিত বলি তারকা। ঘুমের সময়ে ট্র্যাকার ব্যবহার করার অভ্যাস তাঁর বহু দিনের। কিন্তু তিনি চমকে গিয়েছেন, বিমানেও তাঁর এত ভাল ঘুম হল কী ভাবে!
ঘুমই তাঁর রূপের চাবিকাঠি। ছবি: সংগৃহীত
‘স্লিপ স্কোর’ কী?
এক ধরনের ডিভাইস বা যন্ত্র যা ফিটনেসের দিকে নজর রাখে। তাই এগুলিকে ট্র্যাকার বলা হয়। কত ঘণ্টা ঘুম হয়েছে, কত বার ঘুম ভেঙেছে, গভীর ঘুমের দৈর্ঘ্য কত, হালকা ঘুমেরই বা সময়সীমা কত— অর্থাৎ ঘুমের সামগ্রিক গুণমান বিচার করে ০ থেকে ১০০-র মধ্যে নম্বর দেয় সেই যন্ত্রটি। আলিয়ার ক্ষেত্রে সেই সংখ্যাটি ছিল ৮৫। ট্র্যাকারের সেই সংখ্যার কথা উল্লেখ করেই তিনি প্রমাণ করলেন, তাঁর ঘুমের মান ভাল। সুনিদ্রাই তাঁর রূপের চাবিকাঠি।
ঘুম কী ভাবে রূপের চাবিকাঠি হতে পারে?
চিকিৎসকদের মতে, ঘুমের সময়ে ত্বকের ক্ষতিগ্রস্ত কোষ মেরামত হয়, কোলাজেন তৈরির প্রক্রিয়া সক্রিয় থাকে, প্রদাহ কমাতে শরীর কাজ করে, ত্বকের আর্দ্রতার ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। ফলে পর্যাপ্ত এবং ভাল ঘুম হলে ত্বক তুলনামূলক ভাবে সতেজ, কোমল, টানটান এবং উজ্জ্বল দেখাতে পারে। ঘুমের সময়ে শরীরে কর্টিসল নামক স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে এই হরমোন বেড়ে যেতে পারে, যা প্রদাহ বাড়াতে এবং ত্বকের বিভিন্ন সমস্যাকে উস্কে দিতে পারে। এ ছাড়া ঘুমের ঘাটতি থাকলে শরীরের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াও ব্যাহত হয়। ফলে ত্বক ক্লান্ত ও নিস্তেজ দেখাতে পারে। তাই আলিয়ার এই অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে সকলেরই হাতিয়ার। ভাল ভাবে ঘুমিয়ে আপনিও নিজের ত্বকের স্বাস্থ্য ভাল করতে পারেন।
আরও পড়ুন:
ভাল ঘুমের জন্য কী করবেন?
· প্রতি দিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমোতে যান।
· একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠার চেষ্টা করুন।
· ঘুমোনোর আগে মোবাইল বা অন্য কোনও যন্ত্রের ব্যবহার কমান।
· নৈশভোজে খুব দেরি করবেন না।
· শোয়ার ঘর অন্ধকার ও ঠান্ডা রাখুন।
· দিনের বেলা শারীরিক ভাবে সক্রিয় থাকুন।
· ঘুমের আগে অতিরিক্ত চা বা কফি এড়িয়ে চলুন।