আধুনিক যুগে টুথব্রাশও স্মার্ট। দাঁতন তো মানুষ কবেই ছেড়েছেন। সাধারণ টুথব্রাশও এখন অনেকে বর্জন করছেন। বেছে নিচ্ছেন আরও আধুনিক উপায়। বৈদ্যুতিন টুথব্রাশও অনেক দিনই চলছে, কিন্তু এখন এসেছে স্মার্ট টুথব্রাশ। সাধারণ বৈদ্যুতিনের সঙ্গে স্মার্ট টুথব্রাশের বৈশিষ্ট্যগত কিছু ফারাক আছে।
সাধারণ ইলেকট্রনিক টুথব্রাশ ব্যাটারিচালিত হয়, আবার চার্জও দেওয়া যায়। এতে দাঁতের প্রত্যেকটা কোণ পরিষ্কার করা সহজ হয়। যে সব জায়গায় সাধারণ ব্রাশ পৌঁছতে পারে না, অটোমেটিক ব্রাশ সেখানে সহজেই পৌঁছে যায়। ব্রাশের ভাইব্রেটরের কারণে মাড়ির রক্ত চলাচল প্রক্রিয়া ভাল হয়। এর চেয়ে আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে স্মার্ট টুথব্রাশ। এটি অ্যাপ-নির্ভর। ব্রাশ করার পরে দাঁতের কোন অংশ কতটা পরিষ্কার হল, কোথায় বাকি থেকে গেল— তা স্পষ্ট ভাবে জানান দেবে এই অ্যাপ। সামনের দাঁত এবং চোয়ালের দাঁতের ব্রাশের পদ্ধতি আলাদা। টুথব্রাশ জায়গা বুঝে পরিষ্কার করবে। এই ধরনের ব্রাশের আলাদা ব্রিসল হয়। আলাদা আকৃতিও হয়। মুখের গড়ন, দাঁতের শেপ অনুযায়ী সেটা পাল্টে নেওয়া যায়। ছোটদের জন্য বৈদ্যুতিন বা স্মার্ট ব্রাশ উপযোগী। কারণ, ওরা নিজেরা সব সময়ে ঠিক ভাবে ব্রাশ করতে পারে না।
এআই চালিত অ্যাপ আগাম জানান দেবে দাঁতের স্বাস্থ্যের বিষয়ে। দাঁত ক্ষয় হচ্ছে কি না, মাড়ির অবস্থা কেমন, দাঁতের এনামেল সুরক্ষিত আছে কি না... তা জানান দেয় স্মার্ট টুথব্রাশ। অনেক সময়েই হয়রাতের বেলা ব্রাশ করার কথা মনে থাকে না, অ্যাপ নিজেই তা মনে করিয়ে দেবে।
অটোমেটিক বা স্মার্ট ব্রাশ কি আদৌ কার্যকরী? দন্ত চিকিৎসক ডা. শমিত শিকদার বলছিলেন, “স্বয়ংক্রিয় ব্রাশ ভাল ভাবে দাঁত পরিষ্কার করতে পারে। মুখের সব জায়গায় সমান ভাবে পৌঁছে যায়, যেটা এমনিতে সে ভাবে সম্ভব নয়।” আর্থ্রাইস, নার্ভের সমস্যা রয়েছে এমন রোগী, মানসিক রোগগ্রস্ত কিংবা পক্ষাঘাতের রোগীদের জন্য এ ধরনের ব্রাশ বিশেষ ভাবে কার্যকর। “কারণ, এঁরা নিজেরা ঠিক মতো ধরে ব্রাশ করতে পারেন না। অটোমেটিক টুথব্রাশ নিজে থেকেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে,” মন্তব্য ডা. শিকদারের।
তবে অ্যাপ-চালিত স্মার্ট ব্রাশ নিয়ে চিকিৎসকেরা এখনও সন্দিহান। কারণ, দাঁতের অবস্থা কেমন, সেটা অ্যাপের পক্ষে নির্ণয় করা কি আদৌ সম্ভব? অ্যাপ হয়তো জানান দিল, মাড়িতে সমস্যা আছে কিংবা দাঁত ক্ষয়ে যাচ্ছে। সেটা দেখে কেউ বাজার থেকে নিজের মতো ওষুধ খেয়ে নিতে পারেন। তাতে ফল খারাপ হতে পারে। তাই ব্রাশ করার জন্য বৈদ্যুতিন বা স্মার্ট ব্রাশ ঠিক আছে, কিন্তু কোনও সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।
বৈদ্যুতিন বা স্মার্ট ব্রাশের আর একটি ঝক্কি হল, এতে চার্জ দিতে হয়। ছোট ইউএসবি তার থাকে, তা দিয়েই চার্জ করা যায়। এগুলির দামও তুুলনায় বেশি। তবে অটোমেটিক টুথব্রাশের চেয়ে স্মার্ট টুথব্রাশ বেশি দামি। অতএব, বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পা না দিয়ে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী টুথব্রাশ বাছাই করা জরুরি।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)