নীরব মোদী, মেহুল চোক্সীর বিরুদ্ধে ব্যাঙ্ক প্রতারণার অভিযোগ ওঠার পরে গুজরাতের এই দুই শিল্পপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পুরনো সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল বিরোধীরা। এ বার গুজরাতের ব্যবসায়ী রাজেশ মেহতার বিরুদ্ধে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ ওঠার পরেও গুজরাতের এই স্বর্ণ ব্যবসায়ীর সঙ্গে মোদীর পুরনো সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তুলল কংগ্রেস। ওই স্বর্ণব্যবসায়ীর ‘রাজেশ জুয়েলার্স’-এর সামনে তাঁর সঙ্গে মোদীর পুরনো ছবি তুলে ধরে কংগ্রেসের কটাক্ষ, ‘মেহুল চোক্সী, নীরব মোদী থেকে যে কোনও প্রতারক হোক, মহামানবের সঙ্গে তাঁর পুরনো সম্পর্কবেরিয়েই পড়ে।’
গুজরাতের রাজেশের সংস্থার শেয়ার কেলেঙ্কারিতে কংগ্রেস আজ যৌথ সংসদীয় কমিটি (জেপিসি) তদন্তের দাবি তুলেছে। একই সঙ্গে ওই ব্যবসায়ীর সংস্থায় জীবন বিমা নিগম (এলআইসি) কেন সাধারণ মানুষের সঞ্চয়ের ২ হাজার কোটি টাকা লগ্নি করেছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা। কংগ্রেসের অভিযোগ, এর আগে আদানি সংস্থার শেয়ার দরে ধস নামায় তাঁকে উদ্ধার করতে এলআইসি-কে দিয়ে লগ্নি করানো হয়েছিল। এখন দেখা যাচ্ছে, যে রাজেশ এক্সপোর্টস ১৫ লক্ষ কোটি টাকার বেশি আয়ের অঙ্কে গরমিল করেছে, সেখানে সংস্থার মালিকানার ১০.৮ শতাংশ শেয়ারে এলআইসি লগ্নি করে রেখেছে। কংগ্রেসের জনসংযোগ দফতরের প্রধান পবন খেরার অভিযোগ, ‘‘সাধারণ মানুষের বিপুল লোকসান হচ্ছে। তার সঙ্গে লগ্নির বাজারের বিশ্বাসযোগ্যতা চলে যাচ্ছে। কে এ দেশে লগ্নি করতে আসবে? এই জন্যই প্রতিঘণ্টায় ৪০০ কোটি টাকা লগ্নি বিদেশে চলে যাচ্ছে।’’
রাজেশের ‘রাজেশ এক্সপোর্টস’ সংস্থার বিরুদ্ধে শেয়ার বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেবি পাঁচ বছরে আয়ে ১৫.১৫ লক্ষ কোটি টাকা গরমিলের অভিযোগ তুলেছে। নিজের ৯৯ শতাংশ আয় ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দেখিয়ে শেয়ারের দর বাড়িয়েছে। সেখানে এলআইসি প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা লগ্নি করে বসে রয়েছে। বস্তুত, এলআইসি ছাড়া আর কোনও বড় প্রতিষ্ঠান রাজেশ এক্সপোর্টসে লগ্নি করেনি। সেবি রাজেশের সংস্থার শেয়ার লেনদেনে নিষেধাজ্ঞা জারির পরেই তার শেয়ার দরে ধস নেমেছে। ফলে এলআইসি-র প্রায় ১,৬০০ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। কংগ্রেস মুখপাত্র সুপ্রিয়া শ্রীনতের প্রশ্ন, ‘‘রাজেশ মেহতার সঙ্গে ছবি তোলা ছাড়া প্রধানমন্ত্রী এই লগ্নিকারীদের কষ্টের আয় রক্ষা করার জন্য কী পদক্ষেপ করেছেন?” খেরা প্রশ্ন তুলেছেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ও বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল কি এই বিপুল কেলেঙ্কারির দায় নেবেন? এলআইসি বা শেয়ার বাজারে লগ্নিকারী সাধারণ মানুষের বিশ্বাসভঙ্গের দায়িত্ব নেবেন?”
বিরোধীদের প্রশ্ন, এত দিন সেবি কী করছিল? প্রশ্ন উঠেছে সেবি-র প্রাক্তন কর্ণধার মাধবী পুরী বুচের ভূমিকা নিয়ে। যাঁর ভূমিকা নিয়ে আগেও প্রশ্ন উঠেছে। কংগ্রেসেরপ্রশ্ন, পাঁচ বছর ধরে রাজেশ এক্সপোর্টস নিজের আয়ের অঙ্কে গরমিল করেছে। এই সংস্থা শেয়ার বাজারেনথিবদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও কী ভাবে সেবি-র নজর এড়িয়ে গেল? কেন তদন্তে দেরি হল? কংগ্রেসের অভিযোগ, ২০২০-২১ থেকে ২০২৪-২৫-এর মধ্যে মেহতার সংস্থা শেয়ার কেলেঙ্কারি করেছে। এই সময়কালেই কেন্দ্রীয় ভারী শিল্প মন্ত্রকের ১৮ হাজার কোটি টাকার উৎপাদনে উৎসাহ ভাতা প্রকল্পেরও সুবিধা রাজেশ এক্সপোর্টকে দিয়েছিল। সেবি-ও চোখ বুজে থেকেছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)