E-Paper

আর্থিক বৃদ্ধির হার ৭.৭%, তবু দুশ্চিন্তা

রিজার্ভ ব্যাঙ্কও শুক্রবার চলতি অর্থ বছরের আর্থিক বৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ফেলেছে। আগে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের পূর্বাভাস ছিল, ২০২৬-২৭-এ আর্থিক বৃদ্ধির হার ৬.৯ শতাংশ ছোঁবে। এখন সেই পূর্বাভাস ছেঁটে ফেলে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মত, বৃদ্ধির হার ৬.৬ শতাংশে আটকে যাবে।

প্রেমাংশু চৌধুরী

শেষ আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬ ০৭:৩০

— প্রতীকী চিত্র।

অপ্রত্যাশিত খুশির খবরেও নিশ্চিত হওয়ার উপায় নেই! পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের জেরে দেশের অর্থনীতি নিয়ে নরেন্দ্র মোদী সরকার এখন এমনই দোলাচলে। মোদী সরকারের অনুমান ছাপিয়ে বিগত অর্থ বছর বা ২০২৫-২৬-এ আর্থিক বৃদ্ধির হার ৭.৭ শতাংশ ছুঁয়েছে। মূলত কারখানার উৎপাদন ও পরিষেবা ক্ষেত্রের সাফল্যে ভর করেই এই রেকর্ড পরিমাণ আর্থিক বৃদ্ধি বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান মন্ত্রক। এর আগের বছরে আর্থিক বৃদ্ধির হার ছিল ৭.১ শতাংশ। সেই তুলনায় বিগত বছরে আর্থিক বৃদ্ধির হারঅনেকটাই বেশি।

একই সঙ্গে বিগত অর্থ বছরের শেষ বেলায় আর্থিক বৃদ্ধির হারের নিম্নগতিও টের পাওয়া গিয়েছে। গত অক্টোবর-ডিসেম্বরে বৃদ্ধির হার ছিল ৮ শতাংশ। সেই তুলনায় বিগত অর্থ বছরের শেষ তিন মাস বা জানুয়ারি-মার্চে বৃদ্ধির হার ৭.৮ শতাংশে নেমে এসেছে। আর্থিক বৃদ্ধির হার নিয়ে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘‘গোটা বিশ্বের মধ্যে তীব্র গতিতে এগিয়ে চলছে ভারতের অর্থনীতি। এ নিয়ে সব ভারতীয়ের গর্ব হওয়া উচিত।’’

কিন্তু তাঁর সরকারেরই মুখ্য আর্থিক উপদেষ্টা ভি অনন্ত নাগেশ্বরণ আশঙ্কার কথা শুনিয়েছেন। তাঁর মতে, গত বছরের আর্থিক বৃদ্ধির হার যতই প্রত্যাশার থকে বেশি হোক, চলতি অর্থ বছর বা ২০২৬-২৭-এ আর্থিক বৃদ্ধির হার ৭ শতাংশের নীচে নেমে যেতে পারে। কারণ, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ নিয়ে অনিশ্চয়তা, অশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি ও বর্ষায় খামতির ফলে চাষবাসে ধাক্কা লাগার আশঙ্কা। তাঁর বক্তব্য, ‘‘অর্থ বছরের প্রথম দু’মাস, এপ্রিল, মে মাসে অর্থনীতিতে চাপ তৈরির ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। সে দিকে কড়া নজর রাখতে হবে।’’ তাঁর আশা, আমেরিকা-ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হলে ২০২৭-২৮-এ ফের আর্থিক বৃদ্ধি ৭ শতাংশের উপরে যেতে পারে।

রিজার্ভ ব্যাঙ্কও শুক্রবার চলতি অর্থ বছরের আর্থিক বৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ফেলেছে। আগে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের পূর্বাভাস ছিল, ২০২৬-২৭-এ আর্থিক বৃদ্ধির হার ৬.৯ শতাংশ ছোঁবে। এখন সেই পূর্বাভাস ছেঁটে ফেলে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মত, বৃদ্ধির হার ৬.৬ শতাংশে আটকে যাবে। তারও কম হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। একই সঙ্গে খুচরো বাজারে মূল্যবৃদ্ধির হার বেড়ে ৫.১ শতাংশ হবে বলে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের আশঙ্কা। যা আরও বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে। নাগেশ্বরণ জানিয়েছেন, তিনি এর সঙ্গে এক মত।

লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন, দেশের অর্থনীতি সুনামির মুখে পড়তে চলেছে। যার ধাক্কায় নরেন্দ্র মোদী এক বছরের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর গদি হারাবেন। শুক্রবার পরিসংখ্যান মন্ত্রক আর্থিক বৃদ্ধির হার ৭.৭ শতাংশ বলে জানানোর পরে গোটা বিজেপি রাহুলকে পাল্টা নিশানা করেছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের যুক্তি, রাহুল যতই নৈরাশ্য তৈরির চেষ্টা করুন, পরিসংখ্যান বলছে, নতুন পুঁজি বা মূলধনী খাতে খরচ ও বেসরকারি ক্ষেত্রের খরচ, এই দু’টি ক্ষেত্রেই ৭.৫ শতাংশ বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন বলেন, কারখানার উৎপাদন, ব্যবসা, হোটেল, পরিবহণ, যোগাযোগ ও আর্থিক, আবাসনের মতো পরিষেবায় ১০ শতাংশের বেশি আর্থিক বৃদ্ধি ছিল। কেন্দ্রীয় সরকার ভবিষ্যতেও আর্থিক সংস্কারে দায়বদ্ধ। যাতে আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জের মুখেও অর্থনীতির গতি বজায় থাকে।

মুখ্য আর্থিক উপদেষ্টা নাগেশ্বরণ অবশ্য মনে করিয়ে দিয়েছেন, চলতি অর্থ বছরে পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কট অর্থনীতিতে জোগান ও চাহিদা,দু’দিক থেকেই ধাক্কা দিতে পারে। অশোধিত তেলের দাম এখন ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের কম হলেও ফাটকা বাজারে দাম বেড়েছে। হরমুজ় প্রণালীতে জাহাজ চলাচল, আন্তর্জাতিক বাজারে তেল উৎপাদন নিয়েও অনিশ্চয়তা। অর্থ মন্ত্রক তার আর্থিক বৃদ্ধি ও মূল্যবৃদ্ধি সম্পর্কে অনুমান বদলাবে কি না, সেই প্রশ্নের এখনও সময় আসেনি বলে দাবি করলেও নাগেশ্বরণের বক্তব্য, ‘‘বহু অজানা প্রশ্ন রয়েছে।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Indian Economy Economic Growth Central Government

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy