Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৩ জানুয়ারি ২০২২ ই-পেপার

উচ্চশিক্ষায় শিক্ষক-শিক্ষিকা পিছু ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ৪৪!

মধুমিতা দত্ত ও সুপ্রিয় তরফদার
১৩ নভেম্বর ২০১৮ ০৪:০২
—প্রতীকী ছবি।

—প্রতীকী ছবি।

কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে এক জন শিক্ষক বা শিক্ষিকা-পিছু ক’জন ছাত্রছাত্রী থাকা উচিত?

ঔচিত্যের প্রশ্ন সরিয়ে রাখলেও দেখা যাচ্ছে, রাজ্যে উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে শিক্ষক বা শিক্ষিকা-পিছু ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ৪৪! অথচ এর সর্বভারতীয় অনুপাত ৩৪। বাংলার কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-প্রতি পড়ুয়ার সংখ্যা যে সর্বভারতীয় অনুপাতের তুলনায় অনেক বেশি, সেই তথ্য উঠে এসেছে কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের ২০১৭-’১৮ সালের ‘অল ইন্ডিয়া সার্ভে অন হায়ার এডুকেশন’-এ। রাজ্যে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষক-ঘাটতির ছবি এই সমীক্ষাতেও প্রকট। ওই সমীক্ষার রিপোর্ট বলছে, শিক্ষক-পড়ুয়া অনুপাতের প্রশ্নে কর্ণাটক, কেরল, অন্ধ্র, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, এমনকি ছত্তীসগঢ়েরও পিছনে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। দূরশিক্ষা ও রেগুলার কোর্স বা সাধারণ পাঠ্যক্রমের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে শিক্ষক-পড়ুয়া অনুপাতিক হার দেওয়া হয়েছে ওই রিপোর্টে। শুধু রেগুলার কোর্সে সর্বভারতীয় অনুপাত ৩০। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে সেটা ৩৯!

রাজ্যের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রচুর শিক্ষকপদ শূন্য থাকার অভিযোগ নিয়ে বিরোধী শিক্ষক সংগঠনগুলি সরব হয়েছে বারবার। তাদের অভিযোগ, সময়ে নিয়োগ না-হওয়ায় পড়াশোনা থেকে গবেষণা— সবই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সম্প্রতি কলেজে শিক্ষক নিয়োগে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্যের কলেজ সার্ভিস কমিশন বা সিএসসি। শিক্ষক ও ছাত্রের অনুপাতে সামঞ্জস্য না-থাকায় সম্প্রতি রাজ্যের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে দূরশিক্ষার পাঠ্যক্রম চালানোর অনুমোদন বাতিল করে দিয়েছিল ইউজিসি বা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন। তাদের মধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে ফের ওই পাঠ্যক্রম চালু হলেও শিক্ষক-ঘাটতির সমস্যার বিশেষ সুরাহা হয়নি।

Advertisement

আরও পড়ুন: বেতন বাড়েনি, স্কুলের খেলায় অনুদান বয়কট

রাজ্যে কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় মিলিয়ে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় ৮০০। স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে পড়ুয়া ভর্তির সংখ্যা দিনে দিনে বাড়ছে। কিন্তু সেই তুলনায় শিক্ষক নিয়োগ হচ্ছে না। অনেকে অবসর নিয়েছেন। কিন্তু সর্বত্র সেই সব আসনও পুরোপুরি ভর্তি হয়নি।

কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের বাম শিক্ষক সমিতি ওয়েবকুটা-র সাধারণ সম্পাদক কেশব ভট্টাচার্যের বক্তব্য, রাজ্যের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগের বিষয়টি এমনিতেই ঢিলেঢালা। তার উপরে অনেক নতুন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে। সেখানে নিয়োগই হয়নি। অধিকাংশ ক্লাস আংশিক সময়ের শিক্ষকদের দিয়ে চালানো হয়। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি জুটা-র সাধারণ সম্পাদক পার্থপ্রতিম রায় বলেন, ‘‘বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া অত্যন্ত ঢিমেতালে চলছে। যাদবপুরও তার ব্যতিক্রম নয়। প্রায় ৩৫ শতাংশ শিক্ষকপদ খালি। ফলে পঠনপাঠন ও গবেষণার ক্ষতি হচ্ছে।’’

কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃণমূল শিক্ষক সমিতির সভানেত্রী কৃষ্ণকলি বসুর দাবি, বাম আমলে শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া খুবই শ্লথ ছিল। তৃণমূল সরকার তাতে গতি সঞ্চার করেছে। তিনি বলেন, ‘‘আগের যে-খামতি রয়েছে, সেটা পূরণ করতে তো সময় লাগবে।’’ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়েও শিক্ষকপদ খালি থাকার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এ বিষয়ে সহ-উপাচার্য (শিক্ষা) এবং সিএসসি-র চেয়ারম্যানকে ফোন এবং মেসেজ করেও উত্তর পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন

Advertisement