Advertisement
E-Paper

তপন ডাক্তারের প্রতিবেশী এ বার গোয়েন্দাদের জালে

একে তপনে রক্ষে নেই, দোসর নিত্যানন্দ। শিশু পাচার চক্রে জড়িত অভিযোগে অভিযোগে দিন কয়েক আগেই সিআইডি গ্রেফতার করে ছিল গাইঘাটার বড়া গ্রামের হাতুড়ে চিকিৎসক তপনকুমার বিশ্বাসকে। এ বার ওই একই অভিযোগে বেহালা থেকে গ্রেফতার হল তপনের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ওই গ্রামেরই পুরনো বাসিন্দা, চিকিৎসক নিত্যানন্দ বিশ্বাস।

সীমান্ত মৈত্র

শেষ আপডেট: ০১ ডিসেম্বর ২০১৬ ০২:০৯
নিত্যানন্দের পৈতৃক ভিটে। নিজস্ব চিত্র।

নিত্যানন্দের পৈতৃক ভিটে। নিজস্ব চিত্র।

একে তপনে রক্ষে নেই, দোসর নিত্যানন্দ।

শিশু পাচার চক্রে জড়িত অভিযোগে অভিযোগে দিন কয়েক আগেই সিআইডি গ্রেফতার করে ছিল গাইঘাটার বড়া গ্রামের হাতুড়ে চিকিৎসক তপনকুমার বিশ্বাসকে। এ বার ওই একই অভিযোগে বেহালা থেকে গ্রেফতার হল তপনের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ওই গ্রামেরই পুরনো বাসিন্দা, চিকিৎসক নিত্যানন্দ বিশ্বাস।

বহু দিন বড়া গ্রামের বাড়িতে পা পড়ে না নিত্যানন্দের। এলাকার লোক জানতেন, গাঁয়ের ছেলে মস্ত বড় ডাক্তার হয়েছে। চোখে না দেখলেও শ্রদ্ধা-ভক্তি ছিল মনে মনে। কচিৎ-কদাচিৎ গ্রামে এলে ডাক্তারবাবু সকলের সঙ্গে ভাল ব্যবহারই করতেন। এক যুবকের কথায়, ‘‘তপনের গ্রেফতারের পরে আমরা আশ্চর্য হইনি। কারণ, আমাদের মনে হতো, ওর কাজকর্ম বেশ সন্দেহজনক। কিন্তু নিত্যানন্দবাবুকে আমরা বড় ভাল মানুষ হিসাবেই চিনতাম।’’

বুধবার টিভিতে নিত্যানন্দবাবুর গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই বড়া গ্রামের বাসিন্দাদের লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে যাচ্ছেন।

সাধন বিশ্বাস নামে এক গ্রামবাসীর কথায়, ‘‘নিতাইকে (নিত্যানন্দবাবুর ডাক নাম) আমরা বড় চিকিৎসক হিসাবেই জানতাম। আমরা খুবই অবাক হচ্ছি উনি ধরা পড়ায়। তবে একের পর এক আমাদের গ্রামের লোকের নাম পরপর গ্রামের নাম জড়িয়ে যাওয়ায় গ্রামবাসী হিসাবে আমরা লজ্জিত বোধ করছি।’’

স্থানীয় সূত্রে জানা গেল, বহু বছর আগেই গ্রামের বাড়ি ছেড়ে নিত্যানন্দ বেহালায় চলে গিয়েছিলেন। গ্রামের বাড়িতে তাঁর বাবা-মা থাকতেন। বাবাও কয়েক বছর আগে মারা যান। মা মারা গিয়েছেন মাস তিনেক আগে। মায়ের মৃত্যুর পরে ও শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানে নিত্যানন্দ শেষবার গ্রামে এসেছিলেন। প্রতিবেশীদের নিমন্ত্রণ করে খাইয়েও ছিলেন।

গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল, টিনের ছাউনি ও পাকা দেওয়ালের বাড়িতে তালা দেওয়া। গ্রামের বাড়ির এই হাল হলেও বেহালায় বিশাল বাড়ি হাঁকিয়েছিলেন ডাক্তারবাবু। সেখানে অবশ্য মায়ের ঠাঁই হয়নি।

শ্যামলী দাস নামে এক মহিলা জানালেন, এলাকার লোকের সঙ্গে তেমন মেলামেশা না থাকলেও গ্রামের বাড়িতে এলে তপন ডাক্তারকে তিনি বাড়িতে ডেকে নিতেন। দু’জনের বাড়ি প্রায় মুখোমুখি।

তপনের সঙ্গে নিত্যানন্দের যে পরিচয় ছিল, তা মেনে নিয়েছেন তপনের স্ত্রী কণিকাও। বুধবার তিনি বলেন, ‘‘ওঁদের যোগাযোগ কী সূত্রে, তা অবশ্য আমি জানি না। কারণ, স্বামীর সঙ্গে আমার নিজেরই সম্পর্ক ভাল ছিল না।’’

Inborn trafficking
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy