E-Paper

দিন ঘোষণা হয়নি, তবু ভোটের জন্য গাড়ি নিচ্ছে পুলিশ!

ভোটের জন্য গাড়ি তোলা নিয়ে এই পুলিশি তৎপরতা বাস, স্কুলবাস, অ্যাপ-ক্যাব-সহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক পরিবহণ সংগঠনের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। নির্বাচনের প্রয়োজনে কমিশনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন আঞ্চলিক পরিবহণ দফতরের মাধ্যমেও গাড়ি সংগ্রহ করা হয়।

ফিরোজ ইসলাম , শিবাজী দে সরকার

শেষ আপডেট: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৭:২৬

— প্রতীকী চিত্র।

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের দিন এখনও ঘোষণা হয়নি। কিন্তু, নির্বাচনের সময়ে পুলিশের যাতায়াতের প্রয়োজনে গাড়ি সংগ্রহের পর্ব শুরু হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ। অর্থাৎ, কলকাতা ও লাগোয়া বিভিন্ন কমিশনারেট এলাকারবাণিজ্যিক বাস, মিনিবাস, ক্যাব-সহ বিভিন্ন গাড়ি আটক করার পর্ব শুরু হয়ে গিয়েছে। রাস্তায় চালকদের হাতে ভোটের জন্য ওই গাড়ি চেয়েনেওয়ার চিঠি ধরানো হচ্ছে বলে অভিযোগ। এমনকি, গাড়ির ব্লু বুকও নেওয়া হচ্ছে।

ভোটের জন্য গাড়ি তোলা নিয়ে এই পুলিশি তৎপরতা বাস, স্কুলবাস, অ্যাপ-ক্যাব-সহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক পরিবহণ সংগঠনের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। নির্বাচনের প্রয়োজনে কমিশনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন আঞ্চলিক পরিবহণ দফতরের মাধ্যমেও গাড়ি সংগ্রহ করা হয়। ওই প্রক্রিয়া নিয়ে ততটা ক্ষোভ না থাকলেও রাস্তায় নেমে সরাসরি চালকের হাতে চিঠি ধরানোর প্রক্রিয়া নিয়ে অনেকের মধ্যেই ক্ষোভ জমছে।

এই কাজে ভাড়া বাড়ানোর আর্জি নিয়ে পরিবহণ সচিবকে চিঠি লিখেছে বাস, মিনিবাস, স্কুলগাড়ি এবং ক্যাব সংগঠনের যৌথ মঞ্চ ‘জয়েন্ট ফোরাম অব ট্রান্সপোর্ট অপারেটর্স’। যার পরিপ্রেক্ষিতে ভাড়া কিছুটা বাড়ানো হতে পারে বলে প্রশাসন সূত্রের খবর।

অন্য দিকে, পরিবহণ সংগঠনগুলির অভিযোগ, পুলিশ রাস্তা থেকে আচমকা গাড়ি তুলে নিলে ভোটের মুখে বিভিন্ন রুটে প্রতিকূল অবস্থা হয়। ফলে, বাস পরিষেবা চালু রাখতে সমস্যা হয়। কম টাকায় এ ভাবে গাড়ি তুলে নেওয়াটা পুলিশের জবরদস্তির মানসিকতার প্রতিফলন বলে অভিযোগ এনেছেন বাসমালিকের একাংশ। ‘অল বেঙ্গল বাস-মিনিবাস সমন্বয় সমিতি’র সাধারণ সম্পাদক রাহুল চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘নির্দিষ্ট পদ্ধতি অবলম্বনের বদলে এলোমেলো ভাবে গাড়ি নেওয়ার পুলিশি প্রক্রিয়া অযথা জটিলতা তৈরি করছে। একই গাড়ির চালককে একাধিক থানা বা কমিশনারেট এলাকা থেকে চিঠি ধরানোর মতো ঘটনাও ঘটছে।’’

‘বাস-মিনিবাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন’-এর সাধারণ সম্পাদক প্রদীপনারায়ণ বসু বলেন, ‘‘নির্বাচন ক’টি পর্বে, কবে হবে, তা জানার আগেই এ ভাবে গাড়ি তুলে নেওয়ার চিঠি দেওয়াটা নানা সমস্যা তৈরি করে। এতে বাসমালিকদের বিভ্রান্তি বাড়ে।’’ ‘সিটি সাবার্বান বাস সার্ভিসেস’-এর সাধারণ সম্পাদক টিটু সাহা ও ‘পুলকার ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন’-এর সাধারণ সম্পাদক সুদীপ দত্ত বলেন, ‘‘আঞ্চলিক পরিবহণ দফতর বা পরিবহণ সংগঠনগুলির সঙ্গে পুলিশ সরাসরি যোগাযোগ করে গাড়ি নিলে বিভ্রান্তি কমে।’’

পুলিশ সূত্রের খবর, নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষিত না হলেও কলকাতার ২৭টি ট্র্যাফিক গার্ড এলাকা মিলে প্রায় ছ’হাজার গাড়ির ব্যবস্থা করার নির্দেশ এসেছে। যার মধ্যে প্রায় ১৫০০ বাস এবং বাকি সব ছোট গাড়ি। নির্বাচনের সময়ে রুট মার্চ, এরিয়া ডমিনেশন-সহ নানা কাজে কলকাতা ও রাজ্যের নানা প্রান্তে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়। ওই বাহিনীর যাতায়াতের জন্য পুলিশ ওই সব যানবাহন ব্যবহার করে থাকে। পরিবহণ দফতর সূত্রের খবর, পরিবহণ আইন অনুযায়ী বিশেষ পরিস্থিতিতে ব্যবহারের জন্য গাড়ি নেওয়ার অধিকার সরকারি আইনে রয়েছে। তবে, এ নিয়ে হয়রানি কমাতে গাড়ির মালিকদের ডেকে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পুলিশের আধিকারিকদের দাবি, নির্বাচন পর্বে ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন রুটের বাস ও বাণিজ্যিক গাড়ির বহু মালিক নিজেরাই তা দিয়ে যান। এ জন্য জ্বালানি ছাড়াও নির্দিষ্ট ভাড়া দেওয়ার ব্যবস্থা আছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে গাড়ি কম থাকলে রাস্তা থেকেও তুলে নেওয়া হয় বলে মানছেন আধিকারিকেরা। কেউ অসুবিধার উপযুক্ত কারণ জানালে ছাড় দেওয়া হয়। কিন্তু জোরাজুরি কী ভাবে বন্ধ করা যাবে, সেই উত্তর পুলিশের থেকে মেলেনি।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Kolkata Police West Bengal Assembly Election 2026 police Van West Bengal Police

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy