Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

১১ অগস্ট ২০২২ ই-পেপার

URL Copied
Something isn't right! Please refresh.

১৬ বছর আগেই এ রাজ্যে শাখা খোলে জামাত জঙ্গিরা

গত বছর অক্টোবরে বর্ধমানের খাগড়াগড়ে বিস্ফোরণের অন্তত ১৫ বছর আগে পশ্চিমবঙ্গে তাদের শাখা তৈরি করেছিল বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠন জামাতুল মুজাহিদিন

সুরবেক বিশ্বাস
কলকাতা ১৩ জুলাই ২০১৫ ০৩:৩৭
Save
Something isn't right! Please refresh.
Popup Close

গত বছর অক্টোবরে বর্ধমানের খাগড়াগড়ে বিস্ফোরণের অন্তত ১৫ বছর আগে পশ্চিমবঙ্গে তাদের শাখা তৈরি করেছিল বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠন জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)। ২০০৫-এ বাংলাদেশের নাশকতায় ‘ব্যাক অফিস’ হিসেবে কাজ করেছে এ রাজ্যে তাদের এই শাখাটি। খাগড়াগড় তদন্তে নেমে এই তথ্য জানতে পেরেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)।

এনআইএ জেনেছে— ধারাবাহিক বিস্ফোরণে গোটা বাংলাদেশ কাঁপিয়ে ২০০৫-এর অগস্ট মাসে জেএমবি যে তাদের অস্তিত্ব জাহির করে, তাতে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গের অন্তত তিন জন বাসিন্দা। এমনকী জেএমবি-র পরিকল্পনা মাফিক সেই সময়ে এ রাজ্য থেকে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢোকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরকও! খাগড়াগড় বিস্ফোরণের তদন্তে কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে এখন এমনই শঙ্খচূড়ের বাসার সন্ধান পেয়েছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা।

বাংলাদেশের নাশকতায় সরাসরি জড়িত হিসেবে এই রাজ্যের যে তিন জনের নাম উঠে আসছে, তাদের এক জন আবার খাগড়াগড় কাণ্ডে অভিযুক্ত ইব্রাহিম শেখ ওরফে লাল মহম্মদ ওরফে লাল্টু। এপ্রিলে ঝাড়খণ্ডের পাকুড় থেকে ধরা পড়ে এই জেএমবি চাঁই। মুর্শিদাবাদের নবগ্রামে তার বাড়ি। বাকি দুই জেএমবি সদস্যের এক জন বর্ধমান এবং অন্য জন মুর্শিদাবাদেরই লালগোলার বাসিন্দা। নাম জানার পর তাদের খোঁজখবর শুরু করেছে এনআইএ। ওই দু’জনের নাম অবশ্য এখনও খাগড়াগড় কাণ্ডে পাননি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। ইব্রাহিম এখন জেলে। জঙ্গি চক্রের শিকড় সন্ধানে তাকে ফের জেরা করতে আদালতে আর্জি জানাবেন গোয়েন্দারা।

Advertisement



২০০৫-এর ১৭ অগস্ট সকালে আধ ঘণ্টার মধ্যে বাংলাদেশের ৬৪টির মধ্যে ৬৩টি জেলার ৩০০টি জায়গায় প্রায় ৫০০টি ‘লো ইনটেনসিটি’ বিস্ফোরণ হয়। এক নাবালক-সহ দু’জন নিহত ও একশোরও বেশি মানুষ তাতে জখম হন। প্রতিটি বিস্ফোরণস্থল থেকে জেএমবি-র নামে ইস্তাহারের গোছা মেলে— যাতে তারা দেশের সর্বত্র অস্তিত্ব জাহির করে জানায়, প্রচলিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা উচ্ছেদ করে বাংলাদেশে শরিয়তি শাসন ব্যবস্থা কায়েমই তাদের লক্ষ্য। আদালত ও বিচারকদেরও তারা হামলার নিশানা হিসেবে ঘোষণা করে।

এই ঘটনার আগে পর্যন্ত বাংলাদেশের তৎকালীন বিএনপি-জামাতে ইসলামি জোট সরকার বলে আসছিল— জেএমবি নামে কোনও সংগঠনের অস্তিত্ব সে দেশে নেই। ওই ধারাবাহিক রিস্ফোরণের পরে জেএমবি-কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন তখনকার প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা জেনেছেন, ওই ধারাবাহিক বিস্ফোরণের কয়েক দিন আগে মুর্শিদাবাদ জেলার জঙ্গিপুরের খোদারামপুরে জেএমবি-র একটি গোপন ডেরায় এসে বনস্পতির দু’টি বড় পাত্র নিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশে সংগঠনের দুই চাঁই আরিফ ও মাহমুদ। ওই দু’টি পাত্রে ছিল বিস্ফোরক। অন্য ভাবেও বিপুল বিস্ফোরক ও ডিটোনেটর যায় সীমান্তের ও পারে। এই সূত্রেই গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, ১৬ বছর আগেই পশ্চিমবঙ্গে জঙ্গি-নেটওয়ার্ক তৈরি করে ফেলেছিল জেএমবি।

গোয়েন্দাদের হাতে আসা তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ থেকে জেএমবি চাঁই মামুদ ও হাতকাটা নাসিরুল্লা ওরফে সুহেল মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরে এসে এই রাজ্যে তাদের সংগঠনের গোড়াপত্তন করে। নাসিরুল্লা খাগড়াগড় কাণ্ডে অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত এবং এখনও ফেরার। জেএমবি এই রাজ্যে পুরোদস্তুর কাজ শুরু করে ২০০২-এ। আর সেই বছরই নবগ্রামের এক বাসিন্দাকে সংগঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়। বাংলাদেশের রাজশাহিতে জেএমবি-র শিবিরে নিয়ে গিয়ে তাকে জঙ্গি প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছিল। বস্তুত, নবগ্রামের সেই ব্যক্তিই ইব্রাহিম ওরফে লাল্টু এবং লালগোলা ও বর্ধমানের দুই যুবককে জেএমবি-তে ‘রিক্রুট’ করে। পরবর্তী সময়ে তারা টানা দেড় বছর বাংলাদেশে বসবাস করে ওই ব্যক্তি নাশকতার কাজে সামিল হয়।

কিন্তু কে সেই নবগ্রামের বাসিন্দা, যাকে এই রাজ্যে প্রথম জেএমবি-র দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল? এনআইএ এখনই তার নাম প্রকাশ্যে আনতে চাইছে না। কারণ সেই ব্যক্তি দাবি করেছে, সে বহু বছর আগে জেএমবি-র সংস্রব ত্যাগ করেছে।

তদন্তকারীরা জেনেছেন, নবগ্রামের ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে লাখ দেড়েক টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠায় বছর চারেকের মধ্যেই তাকে পশ্চিমবঙ্গে সংগঠনের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয় জেএমবি নেতৃত্ব। সে দায়িত্ব দেওয়া হয় বর্ধমানের মঙ্গলকোটের মৌলানা ইউসুফ শেখকে। খাগড়াগড় কাণ্ডে নাসিরুল্লার মতো ইউসুফের জন্যও ১০ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে এনআইএ।

খাগড়াগড়় তদন্তে নেমে একটা সময়ে এনআইএ-র মনে হয়, জেএমবি এই রাজ্যে সংগঠনের কাজকর্ম শুরু করেছিল ২০০৭-এর গোড়ায়। কিন্তু গত ১৮ জুন নুরুল হক ওরফে নইম নামে ডোমকলের বক্সিপুরের এক যুবককে গ্রেফতারের পরে গোয়েন্দারা জানতে পারছেন, জেএমবি এই রাজ্যের মাটিতে শিকড় গেড়েছিল অনেক আগেই।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram পেজ)


Something isn't right! Please refresh.

Advertisement