Advertisement
E-Paper

ব্লু লাইনের ভূগর্ভস্থ স্টেশনের ‘টানেল ভেন্টিলেশন’ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণের কাজে বরাদ্দ কত? স্পষ্ট করলেন রেলমন্ত্রী

সংসদে লিখিত প্রশ্নের জবাবে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানান, ব্লু লাইনে পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ (সিইএস) বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং টানেল ভেন্টিলেশন সিস্টেমের আধুনিকরণের কাজ চলছে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:১৭
1,201 crore allocated for modernisation of tunnel ventilation system of Blue Line underground station

ব্লু লাইনের আধুনিকরণ নিয়ে সবিস্তারে জানালেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

কলকাতা মেট্রোর প্রাচীতম লাইন উত্তর-দক্ষিণ শাখা। সাধারণত, এই লাইনের একটা বড় অংশই মাটির তলায়। ভূগর্ভস্থ পথে মেট্রো ছুটে চলে এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে। ভূগর্ভস্থ স্টেশনগুলিতে যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য, নিরাপত্তা এবং পরিবেশ সুরক্ষাকে আরও উন্নত এবং সুদৃঢ় করতে আধুনিকীকরণের কাজের কথা আগেই ঘোষণা করেছিলেন মেট্রো কর্তৃপক্ষ। কাজ শুরুর কথা উল্লেখ করে তাঁরা জানিয়েছিলেন, প্রায় ৫৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এই কাজ সম্পন্ন হবে। কিন্তু সংসদে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানান, আধুনিকরণের কাজে বরাদ্দ হয়েছে ১,২০১ কোটি টাকা!

আধুনিকরণ কর্মকাণ্ডে কী কী করা হবে, তারও আভাস দিয়েছেন রেলমন্ত্রী। বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকারের এক লিখিত প্রশ্নের উত্তরে অশ্বিনী জানান, ব্লু লাইনে পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ (সিইএস) বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং টানেল ভেন্টিলেশন সিস্টেমের আধুনিকরণের কাজ চলছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং উন্নত আরামদায়ক পরিষেবা প্রদান করতে বদ্ধপরিকর মেট্রো।

রেলমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগে ভূগর্ভস্থ স্টেশনগুলিতে বর্তমানে ‘ওয়াটার-কুলড চিলার’ ব্যবহার করা হয়। ‘ওয়াটার কুলড চিলার’ চালানোর জন্য বিপুল পরিমাণ ভূগর্ভস্থ জলের ব্যবহার করা হত। নতুন ব্যবস্থায় মেট্রো স্টেশনগুলির বাইরে পরিচিত ‘কুলিং টাওয়ারে’র দৃশ্যও বদলে যাবে। কিন্তু আধুনিকরণ প্রক্রিয়ায় পুরনো ব্যবস্থা পাল্টে ফেলা হবে। ‘ওয়াটার-কুলার চিলার’-এর পরিবর্তে বসানো হবে ‘এয়ার-কুলড চিলার’, তাতে বছরে প্রায় ১৮ কোটি লিটার জল সাশ্রয় করা সম্ভব হবে। জল সাশ্রয়ের পাশাপাশি, এটি পরিবেশ ও ভূগর্ভস্থ জলস্তর রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে দাবি করেছেন মেট্রো কর্তৃপক্ষ। আধুনিক টানেল ভেন্টিলেশন সিস্টেমের মধ্যে ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থাকবে। আধুনিকরণ কাজ শেষ হতে অন্তত চার বছর সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী।

ব্লু লাইনে টালিগঞ্জের (মহানায়ক উত্তম কুমার) পরই মেট্রো ঢুকে পড়ে মাটির তলায়। বেলগাছিয়া পর্যন্ত মাটির নীচের সুড়ঙ্গ দিয়ে মেট্রো চলাচল করে। আবার দমদম স্টেশনের আগে সুড়ঙ্গ থেকে বেরিয়ে মাটির উপরে চলে আসে। এই দীর্ঘপথে ১৫টি স্টেশন রয়েছে, যেগুলি ভূগর্ভস্থ।

আধুনিকরণ প্রসঙ্গে মেট্রোর এক আধিকারিক বলেন, ‘‘মাটির নীচে মেট্রো যখন প্রথম চালু হয় শহরে, পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও বায়ু চলাচল ব্যবস্থা সেই মতো পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তখন নন-এসি ট্রেন ছিল। এখনকার তুলনায় যাত্রীসংখ্যাও কম ছিল। চার দশকের বেশি সময় পরিষেবা দেওয়ার পর এখন পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, শীতাতপ ব্যবস্থা, টানেল বায়ু প্রবাহ ও ধোঁয়া নিষ্কাশন ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ করা হচ্ছে।’’

ওই আধিকারিক আরও জানিয়েছেন, এর মোট প্রকল্প ব্যয় ১,২০১ কোটি টাকা। এর মধ্যে অত্যাধুনিক টানেল ভেন্টিলেশন সিস্টেম, পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ (এয়ার-কন্ডিশনিং) ব্যবস্থার জন্য বরাদ্দ হয়েছে ৫৮৫ টাকা। বাকি টাকা এই প্রকল্পেরই বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা-সহ অন্যান্য খাতে ব্যবহৃত হবে।

Kolkata Metro Ashwini Vaishnaw
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy