সিঁড়িতে ডাঁই করে রাখা বালির বস্তা। তার উপর দিয়েই আড়াই বছরের শিশুর খোঁজে ছোটাছুটি চলছে। যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছে বলে শিশুটির দিদিমা বিরক্ত হয়েই স্বামীকে কয়েকটা বস্তা সরিয়ে দিতে বলেন! কিন্তু বস্তা সরাতেই বেরিয়ে এল নিখোঁজ শিশুর নিথর দেহ। বস্তাচাপা শিশুটির উপর দিয়ে ছুটছিলেন যাঁরা, তাঁরাই দেহ নিয়ে এ বার ছুটলেন হাসপাতালে।
গত ২৩ এপ্রিল রাজ্যে প্রথম দফার ভোটের দিন ট্যাংরার এই ঘটনা সে ভাবে পুলিশ-প্রশাসনের নজরে পড়েনি বলে অভিযোগ। খেলতে খেলতে মেয়ে বস্তার তলায় চাপা পড়েছে বলে ধরে নিয়ে স্থানীয় হাসপাতাল থেকে ফিরে এসেছিলেন শিশুটির বাবা-মা। কিন্তু সন্দেহ হওয়ায় ট্যাংরা থানা দেহের ময়না তদন্ত করায় নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ (এন আর এস) হাসপাতালে।
গত ২ জুন ময়না তদন্তের রিপোর্ট এলে দেখা যায়, যৌন নিগ্রহের পরে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছিল শিশুটিকে। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে বাড়ির সিঁড়িতে তাকে বালির বস্তা চাপা দিয়ে দেওয়া হয়। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ১০৩ (১) (খুন), ২৩৮ (তথ্যপ্রমাণ লোপাট)-সহ বেশ কয়েকটি ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। দেওয়া হয়েছে ‘প্রোটেকশন অব চিলড্রেন ফ্রম সেক্সুয়াল অফেন্সেস’ বা পকসো আইনের ৬ নম্বর ধারাও। কিন্তু প্রাথমিক তদন্তে কেন পুলিশের সন্দেহ হয়নি ও সেই অনুযায়ী মামলা রুজু হয়নি, সেই প্রশ্ন উঠছে।
সোমবার রাতে পুলিশ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ১৭ বছরের এক কিশোরকে আটক করেছে। সে শিশুটির প্রতিবেশী। বাবার একটি হোটেলের দেখাশোনা করে ওই কিশোর। পুলিশ সূত্রের দাবি, তাকে আপাতত সরকারি হোমে পাঠানো হয়েছে। অপরাধের ধরন ও নানা দিক বিশ্লেষণ করে কিশোরকে সাবালক হিসাবে ধরে নিয়ে তদন্তের আওতায় আনা যায় কিনা, তা নিয়ে আদালতের কাছে আর্জি জানাতে পারে পুলিশ।
শিশুটির বাড়ি পূর্ব কলকাতার একটি থানা এলাকার এক বস্তিতে। ঘিঞ্জি এলাকায় গা-ঘেঁষাঘেঁষি করে উঠেছে একাধিক বহুতল। শিশুটির বাবা অ্যাপ-ক্যাব চালক। দাদু-দিদিমার একটি মুদির দোকান রয়েছে। যে বাড়িতে শিশুটি থাকত, সেটির উল্টো দিকেই তার দাদু-দিদিমার ফ্ল্যাট। তারই উল্টো দিকের ফ্ল্যাটে থাকে অভিযুক্ত।
ঘটনার দিন দিদিমার ফ্ল্যাটেই যাচ্ছিল ওই শিশু। প্রাথমিক তদন্তের পরে পুলিশের অনুমান, সেখানে ঢোকার আগেই অভিযুক্ত তাকে নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে যায় এবং যৌন নির্যাতনের পরে শ্বাসরোধ করে খুন করে। শিশুটির বাবা বলেন, ‘‘বালির বস্তা চাপা দিয়ে ব্যাপারটা এমন ভাবে সাজানো হয়েছিল যে আমাদের
সন্দেহ হয়নি। আমরা অপরাধীর কঠোর শাস্তি চাই।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)