E-Paper

জ্বলন্ত ডিমের ট্রে থেকে আগুন, মৃত যুবক

পুলিশ সূত্রের খবর, বিশেষ ভাবে সক্ষম ওই যুবক মা-বাবা ও দাদার সঙ্গে থাকতেন। তবে আসগরকে দেখাশোনা করার তেমন কেউ ছিলেন না।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ জুন ২০২৫ ০৮:৪২
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

মশার কামড় থেকে বাঁচতে প্রতি রাতে ঘরে ডিমের ট্রে জ্বালিয়ে রাখা অভ্যাস ছিল তাঁর। শনিবার রাতেও সে ভাবেই ডিমের ট্রে জ্বালিয়ে শুতে গিয়েছিলেন। কিন্তু, সেই ডিমের ট্রে থেকেই বিছানায় আগুন লেগে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু হল বিশেষ ভাবে সক্ষম ওই যুবকের। ঘটনাটি ঘটেছে গার্ডেনরিচ থানার মেহের মঞ্জিল এলাকায়।

পুলিশ জানিয়েছে, মৃত যুবকের নাম আসগর আলি (৪১)। রবিবার সকালে এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। পুলিশ জানিয়েছে, ওই যুবকের মৃত্যুর আগে তাঁর জবানবন্দি নথিভুক্ত করা হয়। সেখানেই তিনি পুরো ঘটনা জানিয়েছেন। সোমবার বিকেল পর্যন্ত আসগরের পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে কোনও অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। দেহটি ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ সূত্রের খবর, বিশেষ ভাবে সক্ষম ওই যুবক মা-বাবা ও দাদার সঙ্গে থাকতেন। তবে আসগরকে দেখাশোনা করার তেমন কেউ ছিলেন না। অন্য দিনের মতো শনিবার রাতেও খাওয়াদাওয়া করে ওই যুবক ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। তবে তার আগে বিছানার পাশে ডিমের ট্রে জ্বালিয়ে রাখেন। এর পরে গভীর রাতে সেই ঘর থেকে ধোঁয়া বার হতে দেখে সন্দেহ হয় স্থানীয়দের। তাঁরা ঘরের ভিতরে ঢুকে আসগরকে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করেন। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় ওই যুবককে রাতেই এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। রবিবার ভোরে চিকিৎসা চলাকালীন মৃত্যু হয় তাঁর।

আসগরের শরীরের প্রায় ৫০ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। ওই যুবকের দাদা আখতার আলি বলেন, ‘‘ঘুমন্ত অবস্থায় ভাইয়ের প্যান্টে আগুন ধরে গিয়েছিল। তাই কোমর পর্যন্ত জ্বলে যায়। পরে ধোঁয়া দেখে ঘরে ঢুকে ওকে উদ্ধার করতে পারলেও ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে।’’

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জেনেছে, ওই রাতে বাড়িতে একাই ছিলেন আসগর। ডিমের ট্রে থেকে আগুন বিছানায় লেগে গেলেও তিনি প্রথমে টের পাননি। পরে বুঝতে পারলেও বিশেষ ভাবে সক্ষম ওই যুবকের পক্ষে মশারির ভিতর থেকে বেরোনো সম্ভব হয়নি। পুলিশ মনে করছে, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন হওয়ায় আসগরের চিৎকার কারও কানে পৌঁছয়নি। পরে ঘর থেকে ধোঁয়া বেরোতে দেখে স্থানীয়েরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষরক্ষা হয়নি।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Gardenreach Fire Accident

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy