চড়িয়াল খাল থেকে এক কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত সংলগ্ন মহাত্মা গান্ধী রোডের সম্প্রসারণ ও উন্নয়নের কাজ করা হবে। এমনই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কলকাতা পুরসভা। পুরসভার ১৪২ ও ১৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার উন্নয়নে বরাদ্দ হয়েছে প্রায় সাড়ে ছ’কোটি টাকা। ইতিমধ্যে রাজ্যের নগরোন্নয়ন ও পুর বিষয়ক দফতর থেকে প্রকল্পের প্রশাসনিক অনুমোদনও মিলেছে। কিন্তু জটিলতা দেখা দিয়েছে সেখানকার বৈদ্যুতিক খুঁটি, কেবল, পিলার বক্স, ট্রান্সফর্মার সরানো ঘিরে।
পুরসভা সূত্রের খবর, সিইএসসি এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা, উভয়েরই খুঁটি ওই রাস্তায় রয়েছে। রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার খুঁটি সরানোর চার্জ নিয়ে কোনও জটিলতা নেই। তবে পুরসভার নথি অনুযায়ী, সিইএসসি-র খুঁটি, কেবল, পিলার বক্স এবং ট্রান্সফর্মার সরাতে দুই ধাপে খরচ ধরা হয়েছে— প্রথম ধাপে ৬৯ লক্ষ ৩৯ হাজার ১৭২ টাকা এবং দ্বিতীয় ধাপে ১ কোটি ৫৬ লক্ষ ৭২ হাজার ৯৫৮ টাকা। অর্থাৎ, মোট খরচ প্রায় ২.২৬ কোটি টাকা। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, রাস্তার দক্ষিণ দিকে ইতিমধ্যেই ২০০০ মিলিমিটার ব্যাসের নিকাশি পাইপলাইন পাতার কাজ শেষ। এখন শুধু রাস্তা চওড়া করা এবং পাকা করার কাজ বাকি। সেই কাজ শুরু করতে হলে সিইএসসি-র খুঁটি ও বিদ্যুৎ সরঞ্জাম সরানো বাধ্যতামূলক। অথচ, এখনও পর্যন্ত সেই খুঁটি সরানোর কাজ শুরু হয়নি। কারণ, পুরসভা ও সিইএসসি-র মধ্যে শিফটিং চার্জ নিয়ে জটিলতা কাটেনি।
পুর আধিকারিকদের একাংশের অবশ্য বক্তব্য, খুঁটি সরানোর কাজের জন্য রাস্তা সম্প্রসারণের কাজে দেরি হবে না। কারণ, সম্প্রসারণের প্রাথমিক স্তরে অনেক ধরনের কাজ থাকে। আগে সেগুলি করা হবে। যত দিনে খুঁটি সরানোর বিষয়টি আসবে, তত দিনে পুরসভা ও সিইএসসি-র মধ্যে আলোচনা সম্পূর্ণ হয়ে যাবে। গোটা বিষয়টি বর্তমানে মেয়র ফিরহাদ হাকিম নিজে দেখছেন বলে জানাচ্ছেন তাঁরা। এক পুরকর্তার বক্তব্য, ‘‘আশা করা যায়, পুজোর পরেই রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ শুরু করা যাবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ওই রাস্তায় যানজট অনেকটা কমবে এবং যান চলাচলও মসৃণ হবে।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)