E-Paper

ফের হুমকি ‘ডিজিটাল গ্রেফতারি’র, ৫৪ লক্ষ খোয়া গেল বৃদ্ধের

অভিযোগকারী বছর বাহাত্তরের বৃদ্ধ আনন্দপুর থানা এলাকার একটি আবাসনের বাসিন্দা।লিখিত অভিযোগে তিনি জানিয়েছেন, গত ২৩ মার্চ তাঁর মোবাইলে একটি ফোন আসে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ১০:৪৬
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

‘ডিজিটাল গ্রেফতারি’র ভয় দেখিয়ে প্রতারিত করা হল এক বৃদ্ধকে। নিজের সঞ্চিত প্রায় ৫৪ লক্ষ টাকা খুইয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন ওই বৃদ্ধ। ঘটনাটি ঘটেছে আনন্দপুর থানা এলাকায়। বৃদ্ধের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে একটি সাইবার প্রতারণার মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগকারী বছর বাহাত্তরের বৃদ্ধ আনন্দপুর থানা এলাকার একটি আবাসনের বাসিন্দা।লিখিত অভিযোগে তিনি জানিয়েছেন, গত ২৩ মার্চ তাঁর মোবাইলে একটি ফোন আসে। নবি মুম্বইয়ের পুলিশ আধিকারিক বলে পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি তাঁকে একাধিক বার ফোন করে। বৃদ্ধকে সে জানায়, তাঁর ব্যক্তিগত নথি ব্যবহার করে আর্থিক তছরুপ ছাড়াও বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজ করা হয়েছে। সেইসমস্ত ঘটনার তদন্তভার সিবিআই নিয়েছে বলেও বৃদ্ধকে ভয় দেখানো হয়। অভিযোগে বৃদ্ধ আরও জানিয়েছেন, ২৩ মার্চের পরেও একাধিক বার তাঁর মোবাইলে ফোন করা হয়েছিল। এমনকি, এক জন নিজেকে সিবিআই-কর্তা পরিচয় দিয়েও বৃদ্ধকে ফোন করেছিল। বৃদ্ধের বিরুদ্ধে আর্থিক তছরুপের বিভিন্ন অভিযোগ এনে তাঁকে গ্রেফতারির ভয় দেখানো হয়।

বৃদ্ধের সঙ্গে কথা বলে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, ভিডিয়ো কলে নজরবন্দি করে রাখা হয়েছিল তাঁকে। বৃদ্ধের বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক তছরুপের অভিযোগ খতিয়ে দেখার নাম করে তাঁর একাধিক অ্যাকাউন্টে জমানো টাকা অভিযুক্তদের অ্যাকাউন্টে পাঠাতে জোর করা হয়। সিবিআইয়ের নাম শুনে ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন বৃদ্ধ। তাই তিনি তিন দফায় প্রায় ৫৪ লক্ষ টাকা পাঠিয়ে দেন জালিয়াতদের অ্যাকাউন্টে। জানা গিয়েছে, গত ২৭ মার্চ প্রথম দফায় ৩১ লক্ষ টাকা পাঠান বৃদ্ধ। এর পরে ৪ এপ্রিল সাড়ে ১৬ লক্ষ টাকা এবং ৭ এপ্রিল সাড়ে ছ’লক্ষ টাকা পাঠান।

আনন্দপুর থানার তদন্তকারী আধিকারিকদের বৃদ্ধ জানিয়েছেন, প্রাথমিক ভাবে তাঁকে বলা হয়েছিল, আর্থিক তছরুপের তদন্ত কয়েক দিনের মধ্যে শেষ হয়ে গেলেই টাকা ফেরত দিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু জালিয়াতেরা যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়ায় বৃদ্ধ বুঝতে পারেন, তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এর পরেই তিনি আনন্দপুর থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Anandabazar

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy