এ যেন অনেকটা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে রাজ্য সরকারের টাকা চাওয়ার রেপ্লিকা। তবে সরাসরি নয়, ঘুরপথে।
এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রের জায়গা নিয়েছে রাজ্য, আর রাজ্যের জায়গায় বিধাননগর পুরনিগম।
সম্প্রতি পুরনিগম রাজ্য সরকারের কাছে প্রায় ১০০ কোটি টাকা চেয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছে। পুরনিগম সূত্রের দাবি, প্রথম পুর-বোর্ড তৈরি হওয়ার পরে আর্থিক পরিস্থিতির বিচার করতে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ১২৮ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। অথচ সেই টাকার সংস্থান করা তো দূর-অস্ত্, বর্তমানে পরিকাঠামো সংস্কারের কাজ করার মতো পরিস্থিতিও নেই।
তাই রাজ্য সরকারের কাছে টাকার দরবার করেছে বিধাননগর পুরনিগম, এমনটাই তাঁদের দাবি। মেয়র সব্যসাচী দত্ত বলেন, ‘‘যে দু’টি পুরসভাকে নিয়ে পুরনিগম তৈরি হয়েছে- তাদের
বকেয়া রয়েছে। পুরনিগমের বর্তমান আর্থিক অবস্থা বিচার করেই রাজ্য সরকারের কাছে টাকা চেয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।’’
ঠিক যেমন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার অভিযোগ করেছেন, পূর্বতন বাম সরকারের রেখে যাওয়া বিপুল পরিমাণ বকেয়ার বোঝা তাঁদের নিতে হয়েছে। সেই বাবদ প্রতি বছরে কেন্দ্র সরকার কোটি কোটি টাকা কেটে নেয়। ফলে উন্নয়নের কাজ বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে।
কলকাতা-সহ অন্যান্য পুরনিগমের নিজস্ব পরিকাঠামো রয়েছে। কিন্তু বিধাননগর পুরনিগম সবেমাত্র তৈরি হয়েছে। এখনও সব ক’টি ওয়ার্ডে ওয়ার্ড অফিস, বরো অফিস পর্যন্ত নেই। পরিকল্পিত সল্টলেকের উন্নয়ন দেখা গেলেও পুরনিগমের বাকি অংশ এখনও অনুন্নত। সেখানে পরিকাঠামো গড়ে তোলার বিষয় রয়েছে। ফলে ওই পরিমাণ বকেয়া পুরনিগমকে দিতে হলে আগামী উন্নয়নের পথে অন্তরায় হবে বলেই মত পুরকর্তাদের একাংশের।
কিন্তু কী ভাবে এত টাকার বকেয়া তৈরি হল?
পূর্বতন সল্টলেক এবং রাজারহাট-গোপালপুর পুর প্রশাসনের একটি বড় অংশের দাবি, দু’টি পুর এলাকাতেই উন্নয়নের জন্য রাজ্য সরকারের কাছে বিভিন্ন প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। অনুমতি মেলায় সেই প্রকল্পের কাজ হয়েছে। সেই সব টাকা এখনও পাওয়া যায়নি।
পুরনিগম সূত্রের খবর, পূর্বতন সল্টলেক পুরসভার দেনা প্রায় ১০০ কোটি এবং রাজারহাট-গোপালপুর পুরসভার দেনা ছিল প্রায় ২৮ কোটি টাকা। অবশ্য পূর্বতন রাজারহাট-গোপালপুর পুরসভার চেয়ারম্যান তাপস চট্টোপাধ্যায়ের কথায়, ‘‘আমি ২০১৪-র জুলাই মাসে দায়িত্ব ছাড়ার সময়ে কোনও দেনা ছিল না। পরে কী হয়েছে, বলতে পারব না।’’
পূর্বতন সল্টলেক পুরসভার চেয়ারপার্সন তথা বর্তমান পুরনিগমের চেয়ারপার্সন কৃষ্ণা চক্রবর্তীর দাবি, প্রকল্প অনুসারে রাজ্য সরকার অর্থ বরাদ্দ করেছিল। সেই পরিকল্পনা অনুসারে কাজ হয়েছিল। আগে পুরসভা ছিল, এখন পুরনিগম। দু’টিই নগরোন্নয়ন দফতরের অধীন। ফলে বকেয়া থাকলেও তা মেটানোর ক্ষেত্রে নিশ্চিত ভাবেই ব্যবস্থা করবে রাজ্য সরকার।
কিন্তু কী ভাবে এই বকেয়া মেটানো হবে, তার সুস্পষ্ট জবাব কোনও
স্তরেই মেলেনি।
রাজ্য পুর প্রশাসনের একটি অংশের অবশ্য দাবি, প্রকল্প অনুযায়ী টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়ার মাঝেই পুর-নির্বাচন হয়েছিল। এবং দু’টি পুরসভার অস্তিত্বও বাতিল হয়েছে। ফলে টাকা দেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিয়েছে।
তবে পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘দু’টি পুরসভা মিলেই নতুন পুরনিগম হয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই দু’টি পুরনো পুরসভার বিষয়গুলি বর্তমান পুরনিগমের উপরেই বর্তাবে। তবে পুরনিগম প্রস্তাব দিয়েছে। আমরা প্রস্তাব নিয়ে বিবেচনা করছি।’’