কলকাতা পুলিশের সাব-ইনস্পেক্টর পদের জন্য লিখিত পরীক্ষা দিতে এসে পুলিশের হাতে গ্রেফতারহওয়া যুবকও এক জন সরকারি চাকরির পরীক্ষার্থী। সূত্রের খবর, ডব্লিউবিসিএস (প্রিলিমিনারি) উত্তীর্ণ হওয়ার পরে মেনস পরীক্ষা দিয়েছিলেন ওইঅভিযুক্ত। এ ছাড়াও, বিভিন্ন সরকারি চাকরির পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। আর ওই পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য তাঁর টাকার দরকার,সে জন্যই টাকার বিনিময়ে ভুয়ো পরীক্ষার্থী সেজে কলকাতায় পরীক্ষা দিতে এসেছিলেন বলেপুলিশি জেরায় ধৃত দাবি করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, অন্যের হয়ে পরীক্ষায় বসতে ধৃতের সঙ্গে পলাতক পরীক্ষার্থীর মোটা টাকা রফা হয়েছিল। প্রাথমিক ভাবে ধৃত যুবক কিছু টাকা পেয়েওছিলেন বলে জেরায় জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার কলকাতা পুলিশের সাব-ইনস্পেক্টর এবং সার্জেন্ট পদের জন্য লিখিত পরীক্ষা ছিল। নিউ আলিপুর কলেজ-সহ সাতটি কেন্দ্রে ওই দিন পরীক্ষা হয়। নিউ আলিপুর কলেজে পরীক্ষা দিতে এসেছিলেন মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জের বাসিন্দা, ধৃত অভিযুক্ত লকাই ঘোষ। পুলিশ জানিয়েছে, ওই দিন পরীক্ষা শুরুর আগে অ্যাডমিট কার্ডের ছবির সঙ্গে পরীক্ষার্থীদের ছবি মিলিয়ে দেখার সময়ে লকাইকে দেখে সন্দেহ হয় পরীক্ষকদের। এর পরেই তাঁকে আলাদা করে তাঁর স্বাক্ষরের সঙ্গে অ্যাডমিট কার্ডের সইমিলিয়ে দেখেন পরীক্ষকেরা। ওই দু’টি সই মেলেনি। তার পরেই লকাই স্বীকার করেন, তিনি সুতির বাসিন্দা আব্দুল খালেক নামে এক জনের হয়ে ওই পরীক্ষা দিতে এসেছেন।
লকাইকে জেরার পরে পুলিশ জানতে পেরেছে, পলাতক খালেক ও লকাই একসঙ্গে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সেখানেইতাঁদের মধ্যে আলাপ হয়। লকাই ডব্লিউবিসিএস (প্রিলিমিনারি) এবং পিএসসি পরীক্ষাও পাশ করেছিলেন। কিন্তু, বাকি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য টাকার দরকার বলে তিনি খালেকের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তাঁর হয়ে পরীক্ষা দিতে এসেছিল বলে জেরায় দাবি করেছেন।
এক তদন্তকারী জানান, প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, লকাইয়ের দেওয়া তথ্য ঠিক।তবে, খালেককে গ্রেফতার করলেই পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হবে বলে ওই পুলিশকর্তা জানান। এই ঘটনার পিছনে বুধবার পর্যন্ত কোনওচক্রের সন্ধান মেলেনি বলে দাবি পুলিশের।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)