E-Paper

পিজিটি-শিপ খারিজ হবে না কেন অভীক দে-র, নতুন অভিযোগ জানাতে নির্দেশ কোর্টের

অভীকের দাবি, সব কিছু উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি বলেন, ‘‘২০২৪-এর ২৫ সেপ্টেম্বর শেষ বারের মতো তদন্ত কমিটি ডেকেছিল। আমার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, তা স্বাস্থ্য দফতর আমাকে আর জানায়নি। অথচ সাসপেন্ড করে রেখেছে।’’

শান্তনু ঘোষ

শেষ আপডেট: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:৩৪
অভীক দে।

অভীক দে। — ফাইল চিত্র।

আর জি কর আন্দোলনের সময়ে তাঁকে নিলম্বিত করেছিল স্বাস্থ্য দফতর। শুরু হয়েছিল বিভাগীয় তদন্ত। ওই চিকিৎসক অভীক দে যে যোগ্যতা দেখিয়ে সার্ভিস কোটায় স্নাতকোত্তরে পড়ার সুযোগ পেয়েছিলেন, তা অসত্য বলে অভিযোগ তুললেন শাসকদল ঘনিষ্ঠ জুনিয়র চিকিৎসকদের একাংশ। সেটি জানার পরেও রাজ্য সরকারের তরফে কেন অভীকের পিজিটি-শিপ খারিজ করা হবে না, তা নিয়ে জনস্বার্থ মামলাও করেছিলেন ওই চিকিৎসকদেরই এক জন। ওই জনস্বার্থ মামলার নিষ্পত্তি করে কলকাতাহাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, স্বাস্থ্য-শিক্ষা অধিকর্তার কাছে নতুন করে অভিযোগ জানাতে হবে মামলাকারীকে। তা জানানোর ৬০ দিনের মধ্যে ওই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন স্বাস্থ্য-শিক্ষা অধিকর্তা।

যদিও অভীকের দাবি, সব কিছু উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি বলেন, ‘‘২০২৪-এর ২৫ সেপ্টেম্বর শেষ বারের মতো তদন্ত কমিটি ডেকেছিল। আমার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, তা স্বাস্থ্য দফতর আমাকে আর জানায়নি। অথচ সাসপেন্ড করে রেখেছে।’’

বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের রেডিয়োলজি বিভাগের আরএমও-ক্লিনিকাল টিউটর ছিলেন অভীক। পরবর্তী সময়ে তিনি সার্ভিস কোটায় শল্য বিভাগে স্নাতকোত্তরে পড়ার সুযোগ পান। চিকিৎসক মহলের একাংশের দাবি, সার্ভিস কোটায় সুযোগ পেতে হলে সরকারি স্তরে গ্রামীণ ও দুর্গম এলাকায় অন্তত তিন বছর কাজ করতে হয়। কিন্তু বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের অ্যানেক্স ‘সুপার স্পেশালিটি উইংস হাসপাতাল’ বা অনাময় হাসপাতালে করোনাকালে কাজ করেছেন, এই যোগ্যতায় অভীক সার্ভিস কোটার সুযোগ পেয়েছেন বলে অভিযোগ। অনাময় হাসপাতাল কী ভাবে দুর্গম এলাকার আওতায় আসতে পারে, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে চিকিৎসক মহলে।

অনাময় হাসপাতালে অভীক কাজ না করেও ভুয়ো তথ্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন শাসক ঘনিষ্ঠ জুনিয়র চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁদেরই এক জন রৌনক হাজারি জনস্বার্থ মামলা করেছেন। রৌনকের দাবি, আর জি কর আন্দোলনের সময়ে অভীকের বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রশ্নের উত্তরে লিখিত রিপোর্ট দিয়েছিলেন অনাময় হাসপাতালের সুপার। তাতে জানানো হয়, ২০১৮-র ৩১ ডিসেম্বর থেকে ২০২৩-এর ১ নভেম্বর পর্যন্ত অভীক দে নামে কোনও চিকিৎসক ওই হাসপাতালের রেডিয়ো-ডায়াগনোসিস বিভাগে কাজ করেননি। রেজিস্ট্রার ও অন্যান্য নথি খতিয়ে দেখেও ওই চিকিৎসকের কোনও অস্তিত্ব মেলেনি। পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট বিভাগের মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টরাও অভীক নামে কোনও চিকিৎসকের কথা মনে করতে পারেননি।

সেই রিপোর্টও জনস্বার্থ মামলায় দাখিল করেছিলেন রৌনক। তিনি বলেন, ‘‘ভুয়ো তথ্য দিয়ে সার্ভিস কোটায় সুযোগ পাওয়া গুরুতর অপরাধ। সেই রিপোর্ট জমা পড়ার পরেও কেন স্বাস্থ্য দফতর অভীকের পিজিটি-শিপ খারিজ করবে না?’’

রৌনকের আইনজীবী এক্রামুল বারি জানান, আদালতে অভীকের আইনজীবী দাবি করেছেন, ওই রিপোর্ট অসত্য। জানা যাচ্ছে, আদালতের নির্দেশ মতো শীঘ্রই নতুন করে অভিযোগ জমা দেবেন মামলাকারী।

অন্য দিকে অভীকের দাবি, ‘‘সমস্ত বৈধ নথি আছে। শংসাপত্র দিয়েছিলেন বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ, বিভাগীয় প্রধান। তৎকালীন স্বাস্থ্য- শিক্ষা অধিকর্তা নিজে সার্ভিস কোটা পাওয়ার সার্টিফিকেট দিয়েছিলেন।’’ তাঁর আরও দাবি, ‘‘অনাময় হাসপাতালের সুপার হেল্‌থ সার্ভিস ক্যাডারের। সম্ভবত তিনি আমাকে সার্টিফায়েড করার অথরিটি নন। আমি মেডিক্যাল এডুকেশন সার্ভিসের। তাই কোথায়, কী কাজ করেছি, সেই সম্পর্কে শংসাপত্র দেওয়ার অধিকার রয়েছে অধ্যক্ষ, বিভাগীয় প্রধানের।’’ অভীকের পাল্টা অভিযোগ, নিলম্বিত করা হলেও বেতনের একটি অংশ দেওয়া হয়। কিন্তু এক বছরের কিছু সময় বেশি ধরে তাঁকে সেই বেতনও দেওয়া হচ্ছে না।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Avik Dey

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy