Advertisement
E-Paper

সাক্ষাৎ বিপদ ব্যাটারি-রিকশা

দৃশ্য ১। নিউ টাউনের আকাঙ্ক্ষা মোড় থেকে রিকশায় উঠে আরাম করে বসেছিলেন এক যুবক। বাংলা গান বাজছে। অন্য পাঁচটা রিকশার থেকে গতি বেশ বেশি। কিন্তু কিছু দূর এসে ডান দিক ঘুরতেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেটি গেল উল্টে। পড়ে মাথায় চোট পেলেন ওই যুবক। রবিবার বিকেলের ঘটনা।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ মার্চ ২০১৭ ০৩:৩১
বিপত্তি: উল্টে গিয়ে দুর্ঘটনা। রবিবার, নিউ টাউনে। ছবি: শৌভিক দে

বিপত্তি: উল্টে গিয়ে দুর্ঘটনা। রবিবার, নিউ টাউনে। ছবি: শৌভিক দে

দৃশ্য ১। নিউ টাউনের আকাঙ্ক্ষা মোড় থেকে রিকশায় উঠে আরাম করে বসেছিলেন এক যুবক। বাংলা গান বাজছে। অন্য পাঁচটা রিকশার থেকে গতি বেশ বেশি। কিন্তু কিছু দূর এসে ডান দিক ঘুরতেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেটি গেল উল্টে। পড়ে মাথায় চোট পেলেন ওই যুবক। রবিবার বিকেলের ঘটনা।

দৃশ্য ২। রিকশার সাজ-সজ্জা দেখেই ভালই লেগেছিল প্রবীণ বসু দম্পতির। কিন্তু তা চলতে শুরু করতেই তাঁদের ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি অবস্থা! চার চাকার গাড়ির মতো হু হু করে এগিয়ে চলেছে রিকশা। গন্তব্যস্থলের আগেই ভাড়া মিটিয়ে ভয়ে নেমে পড়লেন বসু দম্পতি। অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী শান্তনু বসু বললেন, ‘‘ওরে বাবা, আর চড়ব না। ব্রেক বলে কোনও বস্তুই তো নেই।’’

পথে নতুন নামা এই রিকশাগুলি কেমন? এই রিকশায় বসেছে মোটর। ব্যাটারির সাহায্যে তা গাড়ির মতো চলছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, ব্রেক কষলে হুমড়ি খেয়ে সামনে পড়ার অবস্থা তৈরি হচ্ছে। তাঁরাই জানাচ্ছেন, সল্টলেক থেকে নিউ টাউনের মধ্যে কম-বেশি এমন ৫০টির মতো রিকশা চোখে পড়ছে তাঁদের।

বিষয়টি নিয়ে একে অন্যের দিকে আঙুল তুলেছে স্থানীয় প্রশাসন ও আঞ্চলিক পরিবহণ দফতর। বিধাননগর পুর কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছেন, মোটরচালিত এই ধরনের রিকশা তাঁদের এক্তিয়ারে পড়ে না। অন্য দিকে আঞ্চলিক পরিবহণ দফতর সূত্রে খবর, এগুলি দেখার কথা স্থানীয় প্রশাসনেরই। কেন্দ্রীয় মোটর ভেহিক্যাল্‌স আইন অনুসারে এই ধরনের যানের ক্ষেত্রে লাইসেন্স দেওয়া হয় না।

সল্টলেকের তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশের কথায়, শ্রম কমাতে অনেকেই এই ধরনের রিকশা কিনে বা ভাড়ায় চালাচ্ছেন। তবে সেগুলির অনুমতির বিষয়টি তাঁদের এক্তিয়ারভুক্ত নয়।

তা হলে কোথা থেকে আসছে এই সব রিকশা? স্থানীয় রিকশা চালকদের একাংশ বলছেন, মোটরচালিত হলে রিকশা চালানোর পরিশ্রম অনেকটা কমে যায়। কমে যায় যাতায়াতের সময়ও। তবে তাঁরা মানছেন, এই ধরনের রিকশার ক্ষেত্রে দুর্ঘটনার সম্ভাবনাও থাকছে।

বিধাননগরের মেয়র সব্যসাচী দত্ত বলেন, ‘‘আইনানুগ পদক্ষেপ করতে হলে এই ধরনের রিকশা যেখানে তৈরি হচ্ছে, সেখানে নিয়ন্ত্রণ দরকার বা প্রযুক্তিগত ত্রুটি সংশোধনের কথা ভাবা দরকার। স্রেফ রিকশা বন্ধ করলেই সমাধান হবে না।’’ যদিও বিধাননগর পুলিশের এক কর্তা জানান, এই ধরনের রিকশার অনুমতি নেই। তাই প্রাথমিক ভাবে কোথায় কত এমন রিকশা চলছে, তাই নিয়ে সমীক্ষা করে কড়া পদক্ষেপ করা হবে।

Battery-Rickshaw Accident
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy