Advertisement
E-Paper

‘কী বলব, কী বলতে পারব, শিখিয়ে দিয়েছিলেন সিবিআইয়ের আইনজীবী’! দাবি আরজি করের নির্যাতিতার বাবার

আদালতে নির্যাতিতার আইনজীবীর বক্তব্য, প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ, প্রতিবেশী সঞ্জীব মুখোপাধ‍্যায়, সোমনাথ দে— এই তিন জনকে তদন্তের আওতায় আনা হোক।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬ ১৯:৩৬

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

আদালতে কী বলবেন, কী বলবেন না, তা শিখিয়ে দিয়েছিলেন সিবিআইয়ের আইনজীবী। শিয়ালদহ আদালতে গিয়ে এমনটাই দাবি করলেন আরজি কর হাসপাতালে নির্যাতিতার বাবা। নির্যাতিতার পরিবারের দাবি, তাদের প্রতিবেশী, পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক-সহ তিন জনকে তদন্তের আওতায় আনা হোক। সিবিআই অনুসন্ধান না-করে কী ভাবে তাঁদের তদন্তের আওতার বাইরে রেখেছে, সেই প্রশ্নও আদালতে তুলেছে নির্যাতিতার পরিবার। শুক্রবার সিবিআই শিয়ালদহ আদালতে স্টেটাস রিপোর্ট জমা দিয়েছে।

আদালতে নির্যাতিতার আইনজীবীর বক্তব্য, প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ, প্রতিবেশী সঞ্জীব মুখোপাধ‍্যায়, সোমনাথ দে— এই তিন জনকে তদন্তের আওতায় আনা হোক। সিবিআই কোনও অনুসন্ধান না করে, কী ভাবে তাঁদের তদন্তের আওতার বাইরে রাখছে, সেই প্রশ্নও তুলেছেন। আদালতে সিবিআইয়ের বক্তব্য, ওই তিন জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ নেই।

নির্যাতিতার বাবা আদালতে দাবি করেন, কোর্টে কী বলতে হবে, তা সিবিআইয়ের আইনজীবী আগে থেকে শিখিয়ে দিয়েছিলেন। ভয় দেখানো হয়েছিল। তাই তাঁরা পদক্ষেপ করতে পারেনি। এখন বলা হচ্ছে যে, লিখিত অভিযোগ কেন করেননি তাঁরা।

আদালত থেকে বেরিয়ে নির্যাতিতার বাবা বলেন, ‘‘আমাদের শিখিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তদন্তকারী অফিসার সীমা পাহুজা বাড়িতে গিয়ে বলেছিলেন, এর বাইরে কিছু বললে সঞ্জয়কে আটকে রাখতে পারব না। ভয় দেখানো হয়েছে। আজ বলছে লিখিত অভিযোগ দিইনি।’’ তিনি এখানেই থামেননি। আরও বলেন, ‘‘সিবিআইয়ের আইনজীবী পার্থ দত্ত শিখিয়েছিলেন, কী বলব, কী বলতে পারব। তাঁর নির্দেশেই বলতে হবে। সে কথা স্বীকারও করেছিলেন তিনি কোর্টে। তবে কী শিখিয়েছিলেন, তা এখন বলা যাবে না।’’ নির্যাতিতার বাবা দাবি করে আরও বলেন, ‘‘আগে কোর্ট রুমে ঢুকতেই দেওয়া হয়নি। ১১ জানুয়ারি প্রথম কোর্ট রুমে ঢুকি।’’ তিনি কটাক্ষ করে বলেন, ‘‘অনুরাগ মোদী নির্মল ঘোষের আইনজীবীর পিঠ চাপড়ে বলেছেন, কিছু হবে না। এই হচ্ছে সিবিআইয়ের আইনজীবীর চরিত্র।’’

নির্যাতিতার মা তথা বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথ বলেন, ‘‘ঘটনার দিন ১০টা ৫৩ মিনিটে ফোন গিয়েছিল, আপনার মেয়ে অসুস্থ। ড্রাইভারকে ডেকে নীচে নামতে নামতে ফোন এল, আপনার মেয়ে সুইসাইড করেছে। তাড়াতাড়ি আসুন।’’ নির্যাতিতার মা আরও বলেন, ‘‘আমরা ওখানে (আরজি কর হাসপাতাল) গিয়ে সাড়ে ৩ ঘণ্টা বসেছিলাম। আমাদের দেখতে দেওয়া হয়নি। সেখানে বড় আইপিএস স্তরের অফিসারদের ভিড় ছিল। ক্রাইম সিনে থিকথিকে ভিড় ছিল।’’ নির্যাতিতার মা বলেন, ‘‘যাঁরা অপরাধস্থলে (ক্রাইম সিনে) ছিলেন, সকলেই অপরাধী।’’ এর পরে তিনি আরজি করের এক অধ্যাপকের দিকেও আঙুল তুলেছেন। তাঁর কথায়, ‘‘সুমিত রায় তপাদার দেখলেন, মৃতদেহের গায়ে বস্ত্র নেই, তখন তিনি একটা কম্বল চাপা দিয়ে দিলেন। ডাক্তার হয়ে তিনি যেটা করলেন, সেটাও তো অপরাধ করলেন। তিনি কেন তদন্তের আওতায় আসবেন না?’’

নির্যাতিতার মা অভিযোগ করে বলেন, ‘‘সুমিত রায় সন্দীপ ঘোষকে ফোন করে বলেন, এখানে একটা পিজিটি সুইসাইড করেছে। আমি বলছি না, কোর্টে দাঁড়িয়ে ট্রায়ালের সময়ে ওঁরা বলেছেন, লেখাও রয়েছে। (ফোন পেয়ে) তখন সন্দীপ বলেন, দেহ মর্গে পাঠিয়ে দাও। বাবা-মা কি ছিল না সেখানে?’’

নির্যাতিতার বাবা এ-ও জানান, বড় বা ছোট পর্দায় তাঁর কন্যাকে নিয়ে কোনও সিনেমা বা ছবি করা যাবে না। আদালতের বারণ রয়েছে।

RG Kar Rape and Murder Case
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy