Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৫ অক্টোবর ২০২১ ই-পেপার

অ্যাসিড ‘খেলেন’ বধূ, অভিযুক্ত শ্বশুরবাড়ি

নিজস্ব সংবাদদাতা
২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ০৩:৫৯

মেয়ে বিমানসেবিকা হতে চেয়েছিলেন। শ্বশুরবাড়ির তাতে মত ছিল না। সংসারে শান্তির কথা ভেবে শ্বশুরবাড়ির কথাই মেনে নিতে বলেছিলেন বাবা-মা। পারিবারিক অশান্তির জেরে সেই মেয়েকেই অ্যাসিড খাইয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজন প্রাণে মারার চেষ্টা করেছেন বলে সোমবার সিঁথি থানায় অভিযোগ দায়ের হল। ই এম বাইপাসের এক বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই তরুণীর অবস্থা সঙ্কটজনক।

২০১৩-র ১৯ জানুয়ারি টালিগঞ্জের করুণাময়ীর বাসিন্দা তানিয়া চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে দমদমের পৃথ্বীজিৎ সামন্তের বিয়ে হয়। তাঁদের দু’বছর আট মাসের এক মেয়ে রয়েছে। পরিবার সূত্রে খবর, ৩০ বছরের ওই বধূ বিমানসেবিকার প্রশিক্ষণ শেষ করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বাড়ির বৌয়ের চাকরি করায় ব্যবসায়ী পরিবারের মত ছিল না। তানিয়ার মা অমিতা চট্টোপাধ্যায় জানান, শ্বশুরবাড়ির মত না থাকায় তাঁরাও কথা বাড়াননি। মায়ের অভিযোগ, বেশ কয়েক মাস ধরেই তানিয়া মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন। রবিবার দুপুরে অসুস্থ বাবাকে দেখতে করুণাময়ীর বাড়িতে গিয়েছিলেন ওই তরুণী। অমিতা বলেন, ‘‘বিকেলে দমদমের বাড়িতে ফিরে ফোন করেছিল। তার পরে আর কথা হয়নি। সন্ধ্যায় দিদি ফোন করে বলল, মেয়ের শাশুড়ি ওদের ফোনে বলেছেন, তানিয়া অ্যাসিড খেয়েছে। জানি না কী হবে!’’

করুণাময়ীর বাড়ি থেকে বাবা ইন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছনোর আগে তানিয়ার মেসোমশাই ও মাসতুতো দিদি সেখানে পৌঁছে যান। সোমবার মাসতুতো দিদি মিতালি মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘হাসপাতালে পৌঁছে দেখি, শ্বশুরবাড়ির কেউ নেই। মেঝেয় ওকে ফেলে রেখে সকলে পালিয়েছে।’’ হাসপাতালের মেঝেয় পড়ে থাকা তানিয়ার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময়ে প্রথমে তাঁকে চিনতে পারেননি মাসতুতো দিদি ও মেসোমশাই। মিতালি বলেন, ‘‘তানিয়া বাবার প্যান্ট ধরে টানলে তখন বুঝি, আমার বোনই ওই অবস্থায় পড়ে রয়েছে!’’ এর পরে সেখান থেকে তানিয়াকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। মা অমিতা বলেন, ‘‘মেয়ের অবস্থা ভাল নয়। খাদ্যনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চিকিৎসকেরা বলছেন, বাঁচার

Advertisement

সম্ভাবনা খুবই কম।’’

মেয়ের এই পরিণতির জন্য শ্বশুরবাড়ির লোকজনকেই দায়ী করেছেন মা। অমিতার কথায়, ‘‘পৃথ্বীজিতের জেঠু বলেছেন, তিনি যখন যান, তখন তানিয়া মুখ থুবড়ে মেঝেয় পড়ে ছিল। চার দিকে বমি ছড়িয়ে ছিল। জেঠুর বক্তব্য, রান্নাঘরের সামনে বোতলে অ্যাসিড ছিল। সেটাই মেয়ের পেটে গিয়েছে। তখন মেয়ের শ্বশুর, শাশুড়ি, ননদ, স্বামী সকলে উপস্থিত। সকলের উপস্থিতিতে মেয়ে কী ভাবে অ্যাসিড খেল?’’ ইন্দ্রনাথবাবুর অভিযোগ, ‘‘আমার মেয়েকে অ্যাসিড খাইয়ে মারার চেষ্টা হয়েছে। পুলিশকে তা জানিয়েছি।’’ প্রতিক্রিয়া জানতে তানিয়ার স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে প্রথমে তিনি ফোন ধরেননি। পরে আবার কথা বলার চেষ্টা হলে দেখা যায়, ফোন বন্ধ। জবাব মেলেনি টেক্সট মেসেজরও। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে শুরু হয়েছে তদন্ত।

পারিবারিক অশান্তির কারণ প্রসঙ্গে অমিতার বক্তব্য, তানিয়ার ননদ রঞ্জিতা সামন্তের ওড়িশার ভদ্রকে বিয়ে হয়েছিল। সম্প্রতি তাঁকে দমদমের বাড়িতে নিয়ে আসেন তানিয়ার শাশুড়ি। তিনি মেয়েকে আর শ্বশুরবাড়িতে পাঠাতে চান না। সেই থেকেই অশান্তির সূত্রপাত। সপ্তাহ দুই আগে তানিয়াকে মারধরের খবর পেয়ে দমদমের বাড়িতে যান ইন্দ্রনাথ ও অমিতা। কিন্তু তখনই মেয়েকে বাড়ি আনলেন না কেন? অমিতা বলেন, ‘‘কত বার বলেছি, এ ভাবে অশান্তির সংসারে থাকতে হবে না। নাতনিকে নিয়ে করুণাময়ীর বাড়িতে চলে আয়। কিন্তু মেয়ে বলত, শাশুড়ি আমাকে তাড়াতেই তো চাইছে। আমি বাড়ি ছেড়ে যাব না।’’ তানিয়ার যাতে কষ্ট না হয়, সে জন্য তাঁর এবং নাতনির

সব খরচ ইন্দ্রনাথ দিতেন বলে জানিয়েছেন অমিতা।

গার্ডেনরিচ শিপ বিল্ডার্সের প্রাক্তন কর্মী, ৬৭ বছরের ইন্দ্রনাথ বলেন, ‘‘মেয়ে চাকরি করতে চেয়েছিল। শ্বশুরবাড়ির লোকেদের বড্ড ভরসা করেছিলাম। তাই ওঁদের পক্ষ নিয়ে কথা বলেছিলাম। এতটা ভরসা করে এগোনো ঠিক হয়নি।’’

আরও পড়ুন

Advertisement