পূর্ব যাদবপুরের অন্তর্গত মুকুন্দপুর এলাকার মৃত বিএলও অশোক দাসের স্ত্রী সুদীপ্তা এ বার পুলিশের দ্বারস্থ হলেন। তাঁর অভিযোগ, কাজের চাপেই অশোক আত্মঘাতী হয়েছেন। শুক্রবার পূর্ব যাদবপুর থানায় জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে তিনি লিখেছেন, ‘‘এই এসআইআর কাজের জন্য আমার স্বামীর মৃত্যু হয়। তাই আপনার কাছে অনুরোধ বিষয়টি তদন্ত করে বাধিত করিবেন।’’
মুকুন্দপুরের অহল্যানগরে বৃহস্পতিবার সকালে পেশায় স্কুলশিক্ষক অশোকের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সকালে স্নানঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁকে দেখতে পান বাড়ির লোকেরা। সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধার করে ইএম বাইপাসের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে ‘মৃত’ ঘোষণা করেন। বিজেপি কাউন্সিলর সজল ঘোষ অভিযোগ করেছিলেন, তৃণমূল কাউন্সিলর অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের বিএলএ ২ রাজু বিশ্বাস বিএলও অশোক এবং তাঁর পরিবারকে হুমকি দিয়েছিলেন। সেই আতঙ্কেই তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন।
কিন্তু অশোকের স্ত্রী সুদীপ্তা শুক্রবার সরাসরি অভিযোগের আঙুল তুলেছেন নির্বাচন কমিশনের দিকে। স্পষ্ট ভাষায় লিখেছেন, ‘‘বিএলও-র কাজের দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রচুর মানসিক চাপ চলছিল।’’ পূর্ব যাদবপুর থানা সূত্রের খবর, এই ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৮ ধারায় (আত্মহত্যায় প্ররোচনা) মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু হয়েছে। একটি সূত্র জানিয়েছে, অশোকের ঘরের টেবিল থেকে একটি ‘সুইসাইড নোট’ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সেখানেও ‘কাজের চাপের’ প্রসঙ্গ উল্লেখ করে লেখা, ‘‘এসআইআরের চাপ মেনে নিতে পারছি না। আমার শরীর খারাপ হয়ে যাচ্ছে। তাই আমি এই দুনিয়া ছেড়ে মা-বাবার কাছে চলে যাচ্ছি।’’
আরও পড়ুন:
দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগর এলাকার বহড়ু হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক ছিলেন অশোক। পাশাপাশি, চলতি বছরের বাংলায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর কর্মসূচিতে তিনি বিএলও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পূর্ব যাদবপুরের চিতকালিকাপুর এফপি স্কুলের ১১০ নম্বর বুথের বিএলও ছিলেন তিনি। নির্বাচন সংক্রান্ত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি নিয়মিত বিদ্যালয়ের পাঠদানও করতেন বলে সহকর্মীরা জানান। তাঁকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ খারিজ করে বৃহস্পতিবার অনন্যা বলেছিলেন, ‘‘ভদ্রলোককে চিনতাম। পারিবারিক পরিচয় রয়েছে। শিক্ষক দিবসে আমরা তাঁকে সংবর্ধনাও দিয়েছি। ওঁর মৃত্যুর ঘটনায় আমি স্তম্ভিত। এই ঘটনায় রাজনীতি নেই। অহল্যানগরে ১১০ নম্বর পার্টে ৯৭৩ জন ভোটার। তাঁদের মধ্যে বেশির ভাগেরই এসআইআর-এর কাজ শেষ। শুনানিও সম্পন্ন হয়েছে। ফলে তাঁর উপর কোনও চাপ ছিল বলে মনে হয় না। আমার এলাকায় ৫৭টি পার্ট রয়েছে, ৫৭ জন বিএলও-র কেউ কি অভিযোগ করেছেন? অভিযোগ করেছেন এক জন বিজেপি কাউন্সিলর এবং বিজেপি-র এক জন বিএলএ ২। বিজেপির ওই বিএলএ ২ এলাকার মানুষ নন এবং ওই কাউন্সিলর মাঝেমধ্যেই আমার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করে থাকেন।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) শুরু হয়ে গিয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। গ্রাম থেকে শহর, বাড়িতে বাড়িতে পৌঁছোতে শুরু করেছেন কমিশনের বুথ স্তরের আধিকারিকেরা (বিএলও)। শুরু হয়ে গিয়েছে এনুমারেশন ফর্ম বিলিও।
- শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, দেশের আরও ১১টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলেও একই সঙ্গে শুরু হয়েছে এসআইআরের কাজ। যাঁরা কর্মসূত্রে বাইরে থাকেন, তাঁদের জন্য অনলাইনে এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করার ব্যবস্থা করেছে কমিশন।
-
ট্রাইবুনালে নিষ্পত্তি হওয়া বুথভিত্তিক তালিকা প্রকাশ করে দিল নির্বাচন কমিশন, নাম দেখা যাবে কমিশনেরই ওয়েবসাইটে
-
অন্ধকারে ঢিল ছুড়বে না সুপ্রিম কোর্ট! এসআইআর মামলায় ফর্ম-৬ নিয়ে তৃণমূলের দাবি ওড়ালেন প্রধান বিচারপতি
-
ট্রাইবুনালে কাজই শুরু হয়নি, প্রবেশেও বাধা! নতুন মামলা সুপ্রিম কোর্টে, কী হচ্ছে জানতে চাইবেন প্রধান বিচারপতি কান্ত
-
ভোটার ট্রাইবুনালের কাজ শুরু! মোথাবাড়ি মাথায় রেখে কঠোর নিরাপত্তা, দফতর দর্শনে গিয়ে কী দেখল আনন্দবাজার ডট কম
-
পরিকাঠামো তৈরি, সোমবারেই ট্রাইবুনালে শুরু হয়ে যাবে শুনানি! রবিতে জোকার অফিস ঘুরে দেখে সিদ্ধান্ত নিলেন প্রাক্তন বিচারপতিরা