Advertisement
E-Paper

চিনা আধিপত্য রুখতে জাপানের নতুন কৌশল, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশের সঙ্গে সই হল সামরিক সমঝোতা চুক্তি

জাপানি প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি মাস কয়েক আগে বলেছিলেন, চিন যদি তাইওয়ানে কব্জা করার চেষ্টা করে তবে তাঁরা চুপ করে বসে থাকবেন না। এর পরেই চিন সরাসরি যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল।

শেষ আপডেট: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:৩৬
দক্ষিণ চিন সাগরে চিনা যুদ্ধজাহাজ।

দক্ষিণ চিন সাগরে চিনা যুদ্ধজাহাজ। —ফাইল চিত্র।

তাইওয়ানকে ঘিরে বেজিঙের সঙ্গে টানাপড়েনের আবহে নতুন কৌশলগত পদক্ষেপ করল টোকিয়ো। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সরকার বৃহস্পতিবার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ফিলিপিন্সের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা চুক্তি সই করেছে। ফিলিপিন্সের রাজধানী ম্যানিলায় স্বাক্ষরিত ‘অ্যাকুইজ়িশন এবং ক্রস-সার্ভিসিং এগ্রিমেন্ট’ (এসিএসএ) শীর্ষক ওই চুক্তিতে যৌথ সামরিক প্রশিক্ষণ এবং আপৎকালীন পরিস্থিতিতে গোলাবারুদ, জ্বালানি, খাদ্য এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা ও চিকিৎসা সরঞ্জামের করমুক্ত বিনিময়ের কথা বলা হয়েছে।

চুক্তি সইয়ের পরে জাপানের বিদেশমন্ত্রী তোশিমিতসু মোতেগি এবং ফিলিপিন্সের বিদেশমন্ত্রী থেরেসা লাজারো এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ‘‘জরুরি পরিস্থিতিতে আমরা একে অপরের পাশে দাঁড়াব।’’ দক্ষিণ চিন সাগর ঘিরে চিনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই বিবাদ চলছে ফিলিপিন্সের। ওই অঞ্চলে লালফৌজের দাপট প্রতিরোধ করতে এবং তাইওয়ানের নিরাপত্তার স্বার্থে ২০২৪ সালে সামরিক জোট ‘স্কোয়াড’ গঠন করেছে আমেরিকা। জাপান ও ফিলিপিন্স, দুই দেশই তার সদস্য। ফিলিপিন্স এবং চিনের বিরোধ দক্ষিণ চিন সাগরের সেকেন্ড থমাস শোলে দ্বীপকে কেন্দ্র করে। ফিলিপাইন দ্বীপের পালাওয়ান থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ওই দ্বীপে ১৯৯৯ সালে ফিলিপিন্স নৌবাহিনী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার একটি জাহাজে অস্থায়ী নৌঘাঁটি বানিয়ে অবস্থান নিয়েছিল প্রায় দু’দশক আগে।

এর পরে ২০১২ সালে ফিলিপিন্সের কাছ থেকে স্কারবোরো শোলে দ্বীপের দখল নিয়েছিল চিনা পিপল্‌‌স লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)। যা নিয়ে দু’দেশের যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ২০১৬ সালের এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বের মোট বাণিজ্য সামগ্রীর প্রায় ২১ শতাংশই দক্ষিণ চিন সাগরের জলপথ দিয়ে পরিবহণ করা হয়। বিগত কয়েক বছরে সেই পরিমাণ আরও বেড়েছে। ফলে প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে চিনের সংঘাতের পারদ চড়ছে। ফিলিপিন্সের পাশাপাশি ভিয়েতনাম, ব্রুনেই, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশও শি জিনপিং সরকারের আগ্রাসী নীতির বিরোধিতা করেছে অতীতে। এই পরিস্থিতিতে ওই অঞ্চলে দেশের সঙ্গে আর্থিক ও সামরিক সমঝোতা গড়ে তোলার এই জাপানি উদ্যোগ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সামরিক পর্যবেক্ষকদের অনেকেই।

গত নভেম্বরে জাপানি প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি বলেছিলেন, চিন যদি তাইওয়ানে কব্জা করার চেষ্টা করে তবে তাঁরা চুপ করে বসে থাকবেন না। এর পরেই চিনা প্রতিরক্ষা দফতর হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, তাইওয়ান পরিস্থিতি নিয়ে নাক গলানো বন্ধ না করলে ‘ধ্বংসাত্মক সামরিক পদক্ষেপের’ মুখে পড়বে জাপান। জবাবে চিনা রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কড়া কূটনৈতিক বার্তা দিয়েছিল টোকিয়ো। সেই উত্তেজনা প্রশমন করতে সে সময় হস্তক্ষেপ করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কয়েক বছর আগে তাইওয়ান সংলগ্ন জাপানি দ্বীপ সেনকাকুর নাম হঠাৎ করেই বদলে দিয়াওয়ু করে দিয়েছিল চিন। বেশ কয়েক বার তার জলসীমায় রণতরীও পাঠায় লালফৌজ। এই নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে টোকিয়ো বার বার অভিযোগ জানালেও, তাতে পাত্তা দেয়নি বেজিং। উল্টে অন্যায় ভাবে সংশ্লিষ্ট দ্বীপটি জাপান দখল করে রেখেছে বলে পাল্টা প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে জিনপিং সরকার।

Military drill South China Sea Defence Japan Philippines Taiwan Crisis China vs Japan
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy