ইরানের হুমকির জেরে কার্যত অবরুদ্ধ হরমুজ় প্রণালী। পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী এই সরু প্রণালীর দুই পারে দাঁড়িয়ে রয়েছে প্রায় ৭০০টি ট্যাঙ্কার। এগুলির মধ্যে ৩৩৪টি ট্যাঙ্কার অশোধিত তেল বহন করছে। কিন্তু ট্যাঙ্কারগুলি ইরানের পতাকাবাহী না-হওয়ায় হামলার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ তেহরান হুঁশিয়ারির সুরে জানিয়ে দিয়েছে, হরমুজ় প্রণালী ধরে অন্য দেশের ট্যাঙ্কার বা জাহাজ গেলে তারা সেগুলিতে আগুন লাগিয়ে দেবে। এই পরিস্থিতিতে হরমুজ ধরে এগোনোর চেষ্টা করছেন না নাবিকেরা।
সামুদ্রিক পণ্য পরিবহণের উপর নজরদারি চালানো দুই সংস্থা ‘উইন্ডওয়ার্ড’ এবং ‘কেপলার’-এর পরিসংখ্যান বলছে, গত রবিবার মাত্র তিনটি ট্যাঙ্কার মোট ২৮ লক্ষ ব্যারেল নিয়ে হরমুজ় পেরোতে পেরেছিল। সোমবার মাত্র একটি ছোট ট্যাঙ্কার হরমুজ় পেরোনোর ‘দুঃসাহস’ দেখাতে পেরেছে। ২০২৬ সালের পরিসংখ্যান বলছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে পর্যন্ত হরমুজ় প্রণালী ধরে ১ কোটি ৯৮ ব্যারেল তেল রফতানি করা হয়েছে। কিন্তু এখন তা ৮৬ শতাংশ কমে গিয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই, পশ্চিম এশিয়ার তেল এবং অন্যান্য জ্বালানির উপর নির্ভরশীল দেশগুলির ভাঁড়ারে ক্রমশ টান পড়ছে।
আরও পড়ুন:
চিন এবং ভারত অনেকাংশেই অশোধিত তেল আমদানির ক্ষেত্রে পশ্চিম এশিয়ার উপর নির্ভর করে থাকে। প্রতি দিন গোটা বিশ্বে রফতানিযোগ্য তেলের ২০ শতাংশ যায় এই হরমুজ় প্রণালী ধরে। আর ভারতের আমদানি করা ৫০ শতাংশ তেল হরমুজ় হয়েই আসে। এই পরিস্থিতিতে ইরান এবং ওমানের মধ্যবর্তী এই প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত ভারতও। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের তরফে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পদার্থের জোগানের কথা মাথায় রেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।
একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, আপাতত অন্য দেশে তেল রফতানি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধির উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। অশোধিত তেল ছাড়াও প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির ক্ষেত্রে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলির উপর নির্ভরশীল নয়াদিল্লি। দেশে মোট চাহিদার ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ প্রাকৃতিক গ্যাসই অন্য দেশ থেকে আমদানি করতে হয় ভারতকে। আর আমদানিকৃত গ্যাসের সিংহভাগ আসে হরমুজ় প্রণালী হয়েই।
এই পরিস্থিতিতে রাশিয়া, ব্রাজ়িল থেকে তেল এবং গ্যাস আমদানির পরিমাণ বৃদ্ধি করতে পারে ভারত। যদিও কেন্দ্রের একটি সূত্রের দাবি, আপাতত দেশে বেশ কয়েক দিনের তেল মজুত রয়েছে। তাই স্বল্প মেয়াদে হরমুজ় বন্ধ থাকলেও চিন্তার কারণ নেই। তবে এই অবরোধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বিকল্প উপায় ভাবতে হতে পারে ভারতকে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
- আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
- শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
-
০৯:১৩
মোজতবা জীবিতই, শান্তিচুক্তির আলোচনাতে যোগও দিচ্ছেন! দাবি রুবিয়োর, ইরানের উপর বিধিনিষেধ কি তুলবেন ট্রাম্প? -
সংঘর্ষবিরতি, ৩০ হাজার কোটির বিনিয়োগ পরিকল্পনা! আমেরিকা এবং ইরানের সংঘাতের অবসানে খসড়া চুক্তিতে আর কী রয়েছে?
-
‘চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত, ঘোষণার অপেক্ষা’! সমঝোতা প্রসঙ্গে দাবি ট্রাম্পের, জানান, খুলবে হরমুজ়! কী মত ইরানের
-
সুযোগ পেলেই চোরাগোপ্তা হামলা! সাবেক পারস্যের হাতে মার খাওয়ার প্রতিশোধ নিচ্ছে ‘নিরীহ’ আরব রাষ্ট্র
-
হরমুজ় প্রণালীতে চলল গুলি! ইরান-আমেরিকার মধ্যে বাড়ল উত্তেজনা, সংঘর্ষবিরতিতে কি ইতি? কী বললেন ডোনাল্ড ট্রাম্প