নিরাপত্তাগত ঝুঁকি থাকায় পশ্চিম এশিয়ার ১৪টি দেশ থেকে মার্কিন নাগরিকদের চলে যেতে বলল আমেরিকা। মঙ্গলবার ভোরে (ভারতীয় সময় অনুসারে) আমেরিকার বিদেশ দফতরের সহ-সচিব মোরা নামদার সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে ওই ১৪টি দেশের নামোল্লেখ করেছেন।
সমাজমাধ্যমের ওই পোস্টে আমেরিকার নাগরিকদের যে কোনও গণপরিবহণে চেপে ওই দেশগুলি থেকে বেরিয়ে আসতে বলা হয়েছে। কারণ হিসাবে বলা হয়েছে, দেশগুলিতে মার্কিন নাগরিকদের ‘গুরুতর নিরাপত্তাগত ঝুঁকি’ রয়েছে।
পশ্চিম এশিয়ার এই ১৪টি দেশ হল বাহরিন, মিশর, ইরান, ইরাক, ইজ়রায়েল (ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক, গাজ়া-সহ), জর্ডন, কুয়েত, লেবানন, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সিরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং ইয়েমেন। এই দেশগুলিতে থাকা মার্কিন নাগরিকদের যে কোনও প্রয়োজনে প্রতিরক্ষা দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের পরিধি ক্রমশ বাড়ছে। শনিবার প্রথমে ইজ়রায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত শুরু হলেও ক্রমশ পশ্চিম এশিয়ার অন্য দেশগুলি এই সংঘাতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে জড়িয়ে পড়ছে। কারণ কাতার, কুয়েত, আমিরশাহির মতো দেশগুলিতে মার্কিন সেনাঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা শুরু করেছে ইরান। ইরানের হয়ে আমেরিকা-ইজ়রায়েলের বিরুদ্ধে সংঘাতে নেমেছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজ়বুল্লাও। এই পরিস্থিতিতে স্রেফ নিরাপত্তাগত কারণে, না কি বৃহত্তম কোনও সামরিক পদক্ষেপের জন্য আমেরিকা নাগরিকদের ১৪টি দেশ ছেড়ে বেরিয়ে আসতে বলল, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।
পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন দূতাবাসগুলিকে নিশানা করে হামলা চালানো হচ্ছে। কুয়েতের পর সোমবার গভীর রাতে সৌদি আরবের মার্কিন দূতাবাসে হামলা হয়েছে। কে বা কারা এই হামলা চালিয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট না-হলেও অনেকেই মনে করছেন এগুলির নেপথ্যে ইরানের হাত রয়েছে। সোমবারই জর্ডনের রাজধানী আম্মানের মার্কিন দূতাবাসের তরফে জানানো হয়, গুরুত্বপূর্ণ জায়গা থেকে কূটনৈতিক আধিকারিকদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সৌদি আরবে মার্কিন দূতাবাস থেকে আমেরিকার নাগরিকদের পরবর্তী নির্দেশিকা জারি না-হওয়া পর্যন্ত দূতাবাসে না-যাওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কুয়েতের দূতাবাস চত্বরে হামলার পর সোমবার একই ধরনের সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছিল।