কলকাতার পূর্ব যাদবপুর থানার অন্তর্গত মুকুন্দপুর এলাকার অহল্যানগরে বৃহস্পতিবার সকালে এক বিএলও-র অস্বাভাবিক মৃত্যুকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল। মৃতের নাম অশোক দাস। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সকালে স্নানঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁকে দেখতে পান বাড়ির লোকেরা। সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধার করে ইএম বাইপাসের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
বিজেপি কাউন্সিলর সজল ঘোষের অভিযোগ, তৃণমূল কাউন্সিলর অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের বিএলএ ২ রাজু বিশ্বাস ওই বিএলও এবং তাঁর পরিবারকে হুমকি দেন। কারও নাম বাদ গেলে অশোককে দেখে নেওয়া হবে, পরিবারকে তুলে নিয়ে যাওয়া হবে, এমন হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। সজল তাঁর সমাজমাধ্যমে এই মর্মে একটি অডিয়ো (যদিও সেই অডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম) পোস্ট করেছেন। সজলের দাবি, মৃতের স্ত্রী এই অভিযোগ করছেন। যদিও মৃতের পরিজনদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁরা ফোন ধরেননি। অন্য দিকে, সজলের অভিযোগ খারিজ করে অনন্যা বলেন, ‘‘ভদ্রলোককে চিনতাম। পারিবারিক পরিচয়ও রয়েছে। শিক্ষক দিবসে আমরা তাঁকে সংবর্ধনাও দিয়েছি। ওঁর মৃত্যুর ঘটনায় আমি স্তম্ভিত। এই ঘটনায় রাজনীতি নেই। অহল্যানগরে ১১০ নম্বর পার্টে ৯৭৩ জন ভোটার। তাঁদের মধ্যে বেশির ভাগেরই এসআইআর-এর কাজ শেষ। শুনানিও সম্পন্ন হয়েছে। ফলে তাঁর উপর কোনও চাপ ছিল বলে মনে হয় না। আমার এলাকায় ৫৭টি পার্ট রয়েছে, ৫৭ জন বিএলও-র কেউ কী অভিযোগ করেছেন? অভিযোগ করেছেন এক জন বিজেপি কাউন্সিলর এবং বিজেপি-র এক জন বিএলএ ২। বিজেপির ওই বিএলএ ২ এলাকার মানুষ নন এবং ওই কাউন্সিলর মাঝেমধ্যেই আমার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করে থাকেন।’’ এদিকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের নির্দেশে, শুক্রবার প্রয়াত বিএলও-র বাড়িতে যাবেন দক্ষিণ কলকাতা জেলা তৃণমূলের সভাপতি দেবাশিস কুমার, কলকাতা পুরসভার মেয়র পারিষদ বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় এবং মুখ্যসচেতক বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত।
আরও পড়ুন:
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোন কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা। তিনি বাড়িটি পরিদর্শন করেন এবং ঘটনার সময়ক্রম ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক ভাবে এটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অশোক দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগর এলাকার বহড়ু হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। পাশাপাশি, চলতি বছরের বাংলায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর কর্মসূচিতে তিনি বিএলও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পূর্ব যাদবপুরের চিতকালিকাপুর এফপি স্কুলের ১১০ নম্বর বুথের বিএলও ছিলেন তিনি। নির্বাচন সংক্রান্ত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি নিয়মিত বিদ্যালয়ের পাঠদানও করতেন বলে সহকর্মীরা জানান।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য নথিবদ্ধ করা হয়েছে এবং ঘরের ভেতরের পরিবেশ পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে। তদন্তকারী আধিকারিকেরা স্নানঘরের দরজা, ফ্যানের হুক, দড়ি বা কাপড়ের নমুনা সংগ্রহ করেছেন এবং সিসিটিভি ফুটেজ, ফোনের কল ডিটেল্স, কর্মস্থলের নথি ও সাম্প্রতিক নোটিস সংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই করে সম্ভাব্য চাপ, মানসিক অবস্থা ও অন্য কোনও সংশ্লিষ্ট কারণের সূত্র খোঁজার কাজ চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) শুরু হয়ে গিয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। গ্রাম থেকে শহর, বাড়িতে বাড়িতে পৌঁছোতে শুরু করেছেন কমিশনের বুথ স্তরের আধিকারিকেরা (বিএলও)। শুরু হয়ে গিয়েছে এনুমারেশন ফর্ম বিলিও।
- শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, দেশের আরও ১১টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলেও একই সঙ্গে শুরু হয়েছে এসআইআরের কাজ। যাঁরা কর্মসূত্রে বাইরে থাকেন, তাঁদের জন্য অনলাইনে এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করার ব্যবস্থা করেছে কমিশন।
-
ভোটার ট্রাইবুনালের কাজ শুরু! মোথাবাড়ি মাথায় রেখে কঠোর নিরাপত্তা, দফতর দর্শনে গিয়ে কী দেখল আনন্দবাজার ডট কম
-
পরিকাঠামো তৈরি, সোমবারেই ট্রাইবুনালে শুরু হয়ে যাবে শুনানি! রবিতে জোকার অফিস ঘুরে দেখে সিদ্ধান্ত নিলেন প্রাক্তন বিচারপতিরা
-
জোকার ট্রাইবুনাল অফিসের কাজ প্রায় শেষ, শীঘ্রই শুরু হবে শুনানি, সম্পন্ন ১৯ প্রাক্তন বিচারপতির সহায়কদের প্রশিক্ষণ
-
এসআইআরে বাদ-পড়া ৯১ লক্ষ নামের মধ্যে ৬৩ শতাংশই হিন্দু! মুসলিম কত? হিসাব কষেছে তৃণমূল, কী বলছে বিজেপি?
-
নথি জমা দিয়েও নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগ ববি হাকিমের কেন্দ্রে, এসআইআর জট মেটিয়াবুরুজেও