Advertisement
E-Paper

এ বার মালদহে বিএলও-র মৃত্যু! এসআইআরের কাজের চাপকে দুষছে মৃতার পরিবার

মৃতার স্বামীর দাবি, অসুস্থ অবস্থাতেও এসআইআরের কাজ করতে হচ্ছিল তাঁর স্ত্রীকে। ডাক্তার তাঁকে বিশ্রাম নেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু এসআইআরের কাজের চাপে বিশ্রামও নিতে পারেননি।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:০৭
Another BLO death in Malda, West Bangal, family blamed SIR work pressure

মৃত বিএলও সম্পৃতা চৌধুরী সান্যাল। — ফাইল চিত্র।

রাজ্যে আবার বুথ স্তরের আধিকারিকের (বিএলও) মৃত্যু। বুধবার ভোরে মৃত্যু হয় ওই বিএলও-র। ঘটনাটি ঘটেছে মালদহের ইংরেজবাজার পুরসভার ফুলবাড়ি পাকুরতলা এলাকায়। পরিবারের অভিযোগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) কাজের চাপ ছিল। সেই চাপেই অসুস্থ হয়ে পড়েন ওই বিএলও।

মৃত বিএলও-র নাম সম্পৃতা চৌধুরী সান্যাল। পাকুরতলা এলাকাতেই তাঁর বাড়ি। পেশায় তিনি এক জন আশাকর্মী। ইংরেজবাজার পুরসভা এলাকার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের ১৬৩ নম্বর বুথে বিএলও-র দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন সম্পৃতা। পরিবার সূত্রে খবর, গত কয়েক দিন ধরে অসুস্থ ছিলেন সম্পৃতা। ডাক্তারও দেখাচ্ছিলেন। তবে বুধবার ভোরে নিজের বাড়িতে মৃত্যু হয় তাঁর।

মৃতার স্বামীর দাবি, অসুস্থ অবস্থাতেও এসআইআরের কাজ করতে হচ্ছিল তাঁর স্ত্রীকে। তার মধ্যে ঠান্ডাও পড়েছে। এসআইআরের কাজের সঙ্গে আশাকর্মীর কাজ সামলাতে হচ্ছিল সম্পৃতাকে। এত কাজের চাপে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। ডাক্তার তাঁকে বিশ্রাম নেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু এসআইআরের কাজের চাপে বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ ছিল না।

খবর পেয়ে মৃতার বাড়িতে যান ইংরেজবাজার পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর গায়ত্রী ঘোষ। বিএলও-র মৃত্যুর জন্য নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, কমিশনের অতিরিক্ত চাপের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন সম্পৃতা, যার পরিণতি মৃত্যু। তবে তৃণমূলের উপরই পাল্টা দায় চাপাচ্ছে বিজেপি। দলের দক্ষিণ মালদা সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায় এ প্রসঙ্গে বলেন ‘‘যে কোনও মৃত্যুই দুঃখজনক। তবে সব দায় নির্বাচন কমিশনকে চাপিয়ে দিলে হবে না। তৃণমূলের যাঁরা জনপ্রতিনিধি বা নেতৃত্ব আছেন তাঁরাও বিএলও-দের উপর চাপ সৃষ্টি করছেন। ফলে এই সব সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।’’

এই নিয়ে রাজ্যে এখনও পর্যন্ত এসআইআর পর্বে সাত জন বিএলও-র মৃত্যু হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে এসআইআরের কাজ শুরুর চার দিন পর প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল। ‘কাজের চাপে’ মৃত্যু হয় পূর্ব বর্ধমানের বিএলও নমিতা হাঁসদার। এর ১০ দিন পরে জলপাইগুড়িতে এক বিএলও মারা যান। অভিযোগ, কাজের চাপে আত্মঘাতী হন ডুয়ার্সের মাল ব্লকের নিউ গ্লেনকো চা-বাগান এলাকার বাসিন্দা শান্তিমুনি ওঁরাও। এর পরে ২১ নভেম্বর নদিয়ার কৃষ্ণনগরে আত্মঘাতী হন এক বিএলও। নাম রিঙ্কু তরফদার। তাঁর দেহের পাশ থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করে পুলিশ। তার পরে মুর্শিদাবাদে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান জাকির হোসেন নামে এক বিএলও। গত ২৮ ডিসেম্বর বাঁকুড়ার রানিবাঁধে হারাধন মণ্ডল নামে এক বিএলও-র আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। গত শনিবার মৃত্যু হয় কোচবিহারের আশিসের। সেই ঘটনার চার দিনের মধ্যে রাজ্যে আরও এক বিএলও-র মৃত্যু হল।

অন্য দিকে, মঙ্গলবার মুর্শিদাবাদের নওদায় মুর্শিদাবাদের নওদা ব্লকের বালি ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়। মৃতের নাম মোজাম্মেল শেখ ওরফে কালু। পরিবারের দাবি, ভোটার কার্ড এবং ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তথ্যের কিছু বিচ্যুতি ছিল। দু’টি নথিতে তাঁর নাম দু’রকম ভাবে নথিভুক্ত হয়েছিল। এই ত্রুটি সংশোধনের কারণে গত ৩১ ডিসেম্বর তাঁকে শুনানির জন্য তলব করা হয়। শুনানি সেরে ফেরার পর থেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। তাঁর বদ্ধমূল ধারণা হয়েছিল, নথির এই ভুলের কারণে হয়তো তাঁকে এ দেশ ছাড়তে হবে। মঙ্গলবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় সপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু বাঁচানো যায়নি।

BLO Death Malda
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy