E-Paper

ধুঁকছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগ, ক্ষুব্ধ পড়ুয়ারা

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত বাগবাজার উইমেন্স কলেজে সাংবাদিকতা বিভাগের স্নাতকোত্তরে সিমেস্টার পিছু খরচ প্রায় ১৮ হাজার টাকা। সেখানেও কোনও ল্যাবে বা হাতেকলমে কাজ শেখার সুযোগ নেই। এই নিয়ে হতাশ অনেক শিক্ষার্থীই।

হিন্দোল ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬ ০৮:৫৯

—প্রতীকী চিত্র।

স্থায়ী শিক্ষকের ছ’টি পদের মধ্যে রয়েছেন মাত্র এক জন। হাতেকলমে সংবাদমাধ্যমের কাজ শেখার পরিকাঠামো কার্যত গড়েই ওঠেনি। ফলে, অন‍্য বিশ্ববিদ‍্যালয়গুলির সঙ্গে তুলনায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (জার্নালিজ়ম অ্যান্ড মাসকমিউনিকেশনস) বিভাগটি দিন দিন পিছিয়ে পড়ছে বলে আক্ষেপ উঠে আসছে।

বিভাগের এক ছাত্রীর বক্তব্য, “যাদবপুর বা অন্য কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে নিজস্ব রেডিয়ো বা নিউজ় রুম প্রোডাকশনের বন্দোবস্ত রয়েছে। ডিপ্লোমা কোর্সেও দেখি, আজকাল হাতেকলমে কাজ শেখার সুযোগ অনেক বেশি। সাংবাদিকতা নিয়ে পড়ে সংবাদমাধ্যমের প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ না পেলে লাভ কী হবে!”

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত বাগবাজার উইমেন্স কলেজে সাংবাদিকতা বিভাগের স্নাতকোত্তরে সিমেস্টার পিছু খরচ প্রায় ১৮ হাজার টাকা। সেখানেও কোনও ল্যাবে বা হাতেকলমে কাজ শেখার সুযোগ নেই। এই নিয়ে হতাশ অনেক শিক্ষার্থীই। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাবর্ষের ঢিমে গতি বা ক‍্যালেন্ডার মেনে না চলা নিয়েও অনেকের ক্ষোভ রয়েছে। বিভাগের এক ছাত্র বলেন, “অন্যান্য বিভাগের বেশির ভাগেরই তৃতীয় সিমেস্টারের পরীক্ষা হয়ে গিয়েছে, অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারাও অনেক ক্ষেত্রে পরবর্তী ধাপেএগিয়ে গিয়েছে। এ দিকে, আমাদের পরীক্ষা এত দেরিতে হচ্ছে। আমরা পিছিয়ে যাচ্ছি।”

২০২৫ সালে ৭৫ বছর পূর্ণ করেছে এ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা শিক্ষার অন‍্যতম পুরনো এই বিভাগ। কিন্তু দীর্ঘ অবহেলা ও যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার ব‍্যর্থতায় নানা সমালোচনার দিক উঠে আসছে। অভিযোগ, গত ২৮ বছরে স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ হয়নি। ছাত্রছাত্রীরা বলছেন, যে দক্ষতাগুলি এখন সংবাদমাধ্যমে কাজ করার জন্য অপরিহার্য, তা রপ্ত করার সুযোগই মিলছে না। খবরের কাগজের পাতা করা এবং খবর সাজানোর বিন্যাসের (লেআউট ডিজ়াইন) মতো দিকগুলি এখনও কাগজ-কলমে এঁকে পড়ানো হয় বিশ্ববিদ্যালয়ে। জনৈক ছাত্রের কথায়, “অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা ইন্টার্নশিপ করছে, সংবাদমাধ্যমে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করছে। আমরা সেই সুযোগ থেকেও বঞ্চিত। নিজের উদ্যোগে কোথাও ইন্টার্নশিপ করতে চাইলেও প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র মেলে না। ফলে অভিজ্ঞতা ছাড়াই কোর্স শেষ করতে হচ্ছে।”

সংবাদমাধ্যমের পেশাদার জগতের সঙ্গে ছাত্রছাত্রীদের সমন্বয়ের দিকটা একেবারেই গুরুত্ব পাচ্ছে না বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিভাগীয় প্রধান পীযূষকান্তি পাণিগ্রাহী এই নিয়ে কথা বলতে চাননি। রাজ্যের উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় এই বিভাগের প্রাক্তনী। তিনি বলেন, “আমারএখনও বিভিন্ন বিভাগ ধরে ধরে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হয়নি। বিভিন্ন বিভাগেই কিছু সমস‍্যা আছে। সমস‍্যা ধরে ধরে পর্যালোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Calcutta University

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy