মাধ্যমিক পরীক্ষার সেন্টার ফি হিসাবে প্রধান পরীক্ষা কেন্দ্রগুলিতে পরীক্ষা চালাতে ছাত্রপিছু ২৩ টাকা করে দিচ্ছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। তারা জানিয়েছে, এর পরে দরকার হলে প্রধান পরীক্ষা কেন্দ্রের অধীনে থাকা অন্য স্কুলগুলি সেন্টার ফি হিসাবে ছাত্রদের থেকে ৩৫ টাকা করে নিতে পারে। কিন্তু অভিযোগ, সেই বাবদ পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোথাও ৫০ টাকা, কোথাও ৮০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। অধিকাংশ প্রধান শিক্ষকের মতে, কোনও পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষা চালাতে ছাত্রপিছু ৩৫ টাকা যথেষ্ট নয়। তাই বাধ্য হয়েই বেশি টাকা নিচ্ছেন তাঁরা।
প্রধান শিক্ষকেরা জানাচ্ছেন, একটি প্রধান পরীক্ষা কেন্দ্রের (মেন ভেনু) অধীনে কয়েকটি পরীক্ষা কেন্দ্র (সাব ভেনু) থাকে। পরীক্ষার আগে ফর্ম পূরণের সময়ে স্কুলগুলি পরীক্ষার্থীদের থেকে ওই ফি বাবদ সর্বাধিক ৩৫ টাকা নেয়। এই বাবদ সংগৃহীত টাকা তারা প্রধান পরীক্ষা কেন্দ্রে পাঠায়। প্রধান পরীক্ষা কেন্দ্র এর পরে তাদের অধীনে থাকা পরীক্ষা কেন্দ্রগুলিতে প্রয়োজন মতো পরীক্ষা চালানোর খরচ পাঠায়।
প্রধান পরীক্ষা কেন্দ্রগুলির প্রধান শিক্ষকেরা জানাচ্ছেন, তাঁদের অধীনে থাকা স্কুলগুলি থেকে পরীক্ষা বাবদ প্রাপ্ত ফি যথেষ্ট নয়। উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটার মণ্ডলপাড়া হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক দেবাশিস ঘোষ জানান, তাঁদের অধীনস্থ চারটি পরীক্ষা কেন্দ্রে গাড়িতে করে প্রশ্ন পাঠানো, খাতা সংগ্রহ, অসুস্থ পরীক্ষার্থীকে হাসপাতালে পাঠানো, পরীক্ষা কেন্দ্রে পুলিশ রাখা-সহ নজরদারির দায়িত্বে থাকা শিক্ষক ও পর্যবেক্ষকদের চা-জলখাবার-সহ বিভিন্ন খরচ লেগেই থাকে। দেবাশিস বলেন, ‘‘আমাদের অধীনে থাকা চারটি পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে ফি বাবদ প্রাপ্ত মোট টাকার ৫০ শতাংশ আবার সেখানেই পাঠাই। কারণ, তাদেরও পরীক্ষা চালানোর খরচ আছে। দূরে দূরে থাকা চারটি স্কুলে গাড়ি ভাড়া করে প্রশ্ন পাঠানো, খাতা সংগ্রহ করার জন্য পেট্রলের খরচ ওই টাকায় ওঠে না। ছাত্রপিছু ৩৫ টাকা বাড়ানো দরকার।’’ কলকাতার একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘‘পরীক্ষা দেখতে আসা বিশেষ পর্যবেক্ষকদের গাড়ি-জলখাবারের খরচ কোথা থেকে পাব? তাঁরা স্কুলের নির্দিষ্ট সময়ের অনেক আগে আসেন, সারা দিন থাকেন। তাঁদের খাবারের খরচ এই টাকায় চালানো কষ্টকর। কোনও পরীক্ষার্থী অসুস্থ হলে তাকে হাসপাতালেও পাঠাতে হয়। তাই ৩৫ টাকার চেয়ে বেশিই নিতে হয়।’’
প্রধান শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সংগঠন ‘অ্যাডভান্সড সোসাইটি ফর হেডমাস্টার্স অ্যান্ড হেডমিস্ট্রেসেস’-এর রাজ্য সম্পাদক চন্দন মাইতি বলেন, ‘‘পরীক্ষা কেন্দ্রের ফি বাবদ ৩৫ টাকা কখনওই যথেষ্ট নয়। কেন এর পুরোটা পর্ষদ দেবে না? পড়ুয়াদের কাছ থেকে কেন টাকা নেওয়া হবে? এ নিয়ে পর্ষদকে চিঠি দিয়েছি।’’
তবে যে সব স্কুল ৩৫ টাকার মধ্যেই কাজ চালাচ্ছে, তাদের অভিযোগ, এর বেশি নেওয়া অন্যায্য। ‘কলেজিয়াম অব অ্যাসিস্ট্যান্ট হেডমাস্টার্স অ্যান্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট হেডমিস্ট্রেসেস’-এর সম্পাদক সৌদীপ্ত দাস বলেন, ‘‘পর্ষদও প্রতিটি প্রধান পরীক্ষা কেন্দ্রকে পরীক্ষা চালাতে ২৩ টাকা পাঠাচ্ছে। এর পরে প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্র ছাত্রপিছু আরও ৩৫ টাকা করে নিচ্ছে। এতে পুরোটা ভাল ভাবে চলে যাওয়া উচিত। বেশি টাকা নেওয়া হলে পরীক্ষার্থীদের উপরে চাপ বাড়ছে। এ নিয়ে পর্ষদকে চিঠিও দিয়েছি।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)