করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত এক জনের দেহ সৎকার করাতে গিয়ে স্থানীয়দের প্রবল বাধার সামনে পড়ল পুলিশ। ঘটনাকে ঘিরে দু’তরফের মধ্যে ধুন্ধুমার বাধে। ভাঙচুর হয় পুলিশের গাড়িও। বাধ্য হয়ে সৎকার না করেই দেহটি নিয়ে শ্মশান থেকে ফিরে যায় পুলিশ। বুধবার রাতে ব্যারাকপুরের রাসমণিঘাট শ্মশানের সামনের ঘটনা।
সূত্রের খবর, পিপিই পরা লোকজন শ্মশানের সামনে দেহ নামানোর সময়ে গোলমাল শুরু হয়। ব্যারাকপুর পুরসভা সূত্রে খবর, উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসকের নির্দেশে দেহটি বারাসতের কোভিড হাসপাতাল থেকে ওই শ্মশানে আনা হয়েছিল।
স্থানীয়েরা জানান, ২০ নম্বর ওয়ার্ডের ওই শ্মশানে বুধবার রাত দেড়টা নাগাদ দু’টি পুলিশের গাড়ির পাহারায় শববাহী গাড়িতে করে একটি দেহ আনা হয়। তাঁদের অভিযোগ, পুলিশ গভীর রাতে করোনায় মৃতদের দেহ ওই শ্মশানে দাহ করছে। ওই রাতে গোলমালের পরে টিটাগড় থানার পুলিশ এবং স্থানীয় কাউন্সিলরের মধ্যস্থতায় দেহ তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। তার পরেই এলাকা শান্ত হয়। তবে স্থানীয়েরা জানান, তাঁরা সংক্রমণের আশঙ্কায় ভুগছেন। পুলিশ জানায়, সংক্রমণের আশঙ্কা নেই। কারণ দেহটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-র নিয়ম মেনেই প্যাকেটবন্দি করা হয়েছিল।
অন্য দিকে বিজেপির অভিযোগ, চারটি দেহ আনা হয়েছিল। ব্যারাকপুরের পুর প্রধান উত্তম দাস অবশ্য বলেন, “একটিই দেহ ছিল। বিজেপি রাজনীতি করছে। জেলাশাসকের নির্দেশে দাহ করার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। করোনা-আক্রান্তের দেহ এই শ্মশানে আর দাহ করা হবেও না।”
ব্যারাকপুরের মহকুমাশাসক আবুল কালাম আজাদ ইসলাম জানান, বারাসতের কোভিড হাসপাতালে মৃতের দেহ ব্যারাকপুরের শ্মশানে দাহ করা হবে, এমন কোনও নির্দেশ এই মুহূর্তে নেই। উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক চৈতালি চক্রবর্তী বলেন, “স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশ মতোই সব করা হয়েছে।”
আরও পড়ুন: ‘ক্যানসার রোগীর ঘরের বাইরেই খাবার রেখে দিচ্ছে পরিবার’
(অভূতপূর্ব পরিস্থিতি। স্বভাবতই আপনি নানান ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিয়ো আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন, feedback@abpdigital.in ঠিকানায়। কোন এলাকা, কোন দিন, কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই দেবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।)