Advertisement
০২ মার্চ ২০২৪

আকণ্ঠ মদ আর ঘণ্টায় ১০০ কিমি গতিই ডেকে আনল দুর্ঘটনা

পুলিশ জানিয়েছে, ওই তরুণীর ব্রেথ অ্যানালাইজার পরীক্ষায় ১৫০ মিলিগ্রাম অ্যালকোহল পাওয়া গিয়েছে, যা স্বাভাবিকের থেকে পাঁচ গুণ বেশি। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ব্রেথ অ্যানালাইজারে ৩০ মিলিগ্রাম অ্যালকোহল ধরা পড়া মানেই সেই অবস্থায় গাড়ি চালানো নিষিদ্ধ। সেই জায়গায় ১৫০ মিলিগ্রামের অর্থ হল, ওই তরুণী আকণ্ঠ মদ্যপান করেই গাড়ি চালাচ্ছিলেন।

তদন্ত: প্রগতি ময়দান থানায় অদিতির (বাঁ দিকে) গাড়িটি পরীক্ষা করছেন ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞেরা। সোমবার। নিজস্ব চিত্র

তদন্ত: প্রগতি ময়দান থানায় অদিতির (বাঁ দিকে) গাড়িটি পরীক্ষা করছেন ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞেরা। সোমবার। নিজস্ব চিত্র

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৭ নভেম্বর ২০১৮ ০১:০৬
Share: Save:

গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে বসার আগে ২১ বছরের অদিতি আগরওয়াল যে আকণ্ঠ মদ্যপান করেছিলেন, রবিবারই সে কথা জানিয়েছিল পুলিশ। সে দিন সকালে অদিতির গাড়িই ইএম বাইপাসে হরিমোহন রাম নামে এক পথচারীকে পিষে দেয়। তদন্তকারী অফিসারদের দাবি, জেরায় ওই তরুণী জানিয়েছেন, শনিবার রাতে তিনি কোনও পানশালায় ছিলেন না। দক্ষিণ কলকাতার গড়িয়াহাট এলাকায় এক বন্ধুর বাড়িতে রাতভর পার্টি ছিল। সেই পার্টি থেকেই তিনি তাঁর নারকেলডাঙা রোডের আবাসনে ফিরছিলেন। তবে ওই পরিমাণ মদ্যপান করেও দুর্ঘটনার পরে নিজেকে পুলিশের হাত থেকে বাঁচাতে যে ভাবে ঠান্ডা মাথায় গাড়ি ঘুরিয়ে তিনি বাইপাসের একটি হোটেলে ঢুকে পড়েন, তা দেখে রীতিমতো বিস্মিত তদন্তকারী অফিসারেরা। তদন্তকারীদের ধারণা, ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন অদিতি।

পুলিশ জানিয়েছে, ওই তরুণীর ব্রেথ অ্যানালাইজার পরীক্ষায় ১৫০ মিলিগ্রাম অ্যালকোহল পাওয়া গিয়েছে, যা স্বাভাবিকের থেকে পাঁচ গুণ বেশি। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ব্রেথ অ্যানালাইজারে ৩০ মিলিগ্রাম অ্যালকোহল ধরা পড়া মানেই সেই অবস্থায় গাড়ি চালানো নিষিদ্ধ। সেই জায়গায় ১৫০ মিলিগ্রামের অর্থ হল, ওই তরুণী আকণ্ঠ মদ্যপান করেই গাড়ি চালাচ্ছিলেন।

সোমবার প্রগতি ময়দান থানায় আসে রাজ্য ফরেন্সিক দফতরের অধিকর্তা ওয়াসিম রাজার নেতৃত্বাধীন একটি দল। সেখানে তাঁরা দুর্ঘটনা ঘটানো গাড়িটির পরীক্ষা করেন। দেখা যায়, গাড়িটির উইন্ডস্ক্রিন ও বাঁ দিকের কিছুটা অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই গাড়ি থেকে বেশ কিছু নমুনা সংগ্রহ করে ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞেরা। ওয়াসিম রাজা বলেন, ‘‘গাড়িটির ‘ইভেন্ট ডেটা রেকর্ডার’ পরীক্ষা করে দেখা হবে। তা হলেই বোঝা যাবে, দুর্ঘটনার সময়ে সেটির গতিবেগ কত ছিল। তা ছাড়া, গাড়ির ‘ইনফরমেশন টেলিমেট্রিক সিস্টেম’-এর সাহায্যে বোঝা যাবে, দুর্ঘটনার সময়ে তাতে গান বা ভিডিয়ো চলছিল কি না। ওই তরুণী সে সময়ে ব্লুটুথ স্পিকারের মাধ্যমে মোবাইলে কথা বলছিলেন কি না, জানা যাবে সেটাও।’’ তবে গাড়িটি যে ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাতে ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের অনুমান, দুর্ঘটনার সময়ে সেটির গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি ছিল। বাইপাসে বেঁধে দেওয়া গতির থেকে যা অনেকটাই বেশি।

এক ফরেন্সিক অফিসার জানিয়েছেন, গাড়িটির উইন্ডস্ক্রিন যে ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে, তীব্র গতিতে ধাক্কা মারার পরে হরিমোহন নামে ওই ব্যক্তি ছিটকে শূন্যে উঠে যান। তার পরে উইন্ডস্ক্রিনে তাঁর মাথা প্রবল জোরে ধাক্কা খায়। এর পরে তিনি মাটিতে পড়ে যান। তখন তাঁকে গাড়ির সামনের চাকা পিষে দেয়। শুধু উইন্ডস্ক্রিনই নয়, গাড়ির বাঁ দিকের নীচের অংশটিও যে ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাতে তদন্তকারীদের অনুমান, গাড়িটি হরিমোহনকে ধাক্কা মারার পরে ফুটপাতেও ধাক্কা মারে।

এ দিন ঘটনাস্থলে ফরেন্সিক দল ছাড়াও আসে কলকাতা পুলিশের ফেটাল সেকশন ট্র্যাফিক পুলিশের অফিসারেরাও। তাঁরা জানান, যেখানে ঘটনাটি ঘটেছে, তার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। শুধু ঘটনাস্থল নয়, ওই তরুণী যে পথ ধরে এসেছেন, সেই গোটা রাস্তারই ভিডিয়ো ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত তরুণী পেশায় ইন্টিরিয়র ডিজাইনার। তবে তাঁর কোনও অফিস নেই। ফোনের মাধ্যমেই তিনি তাঁর গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। নারকেলডাঙা রোডে বেলেঘাটা বাইপাস মোড়ের কাছে একটি বিলাসবহুল আবাসনে থাকেন অদিতি। সোমবার দুপুরে ওই আবাসনে গেলে নিরাপত্তারক্ষীরা জানান, অদিতিদের বাড়িতে কেউ নেই। রক্ষীরা জানান, সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলবেন না বলেও তাঁর বাড়ির লোক জানিয়েছেন। এমনকি, ওই আবাসনের সেক্রেটারির সঙ্গে কথা বলতে চাইলেও তিনি কিছু বলতে অস্বীকার করেন।

লালবাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রেফতারের পরে অদিতিকে মহিলা সেলে রাখা হয়েছে। সেখানে তিনি কথাবার্তা বিশেষ বলছেন না। খাওয়াদাওয়াও করছেন নামমাত্র। পুলিশকে তিনি জানিয়েছেন, মাসে অন্তত এক বার ওই ধরনের পার্টিতে যেতেন তিনি।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
Follow us on: Save:
Advertisement

Share this article

CLOSE