স্বামী বিবেকান্দের জন্মদিবসের সকাল থেকে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল একটি পোস্টার ঘিরে। সিমলা স্ট্রিটে স্বামীজির পৈতৃক ভিটের আশপাশ মুড়ে দেওয়া হয়েছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি-সহ পোস্টার দিয়ে। তাতে লেখা, ‘স্বাগতম যুবরাজ’। সৌজন্যে জোড়াসাঁকোর তৃণমূল বিধায়ক বিবেক গুপ্ত।
কিন্তু বিতর্কের আঁচ পেয়ে স্বয়ং অভিষেকই বিবেককে নির্দেশ দিলেন ওই পোস্টার অবিলম্বে সরিয়ে ফেলতে হবে। সন্ধ্যার পরেই সেই তৎপরতা শুরু হয়েছে বলে খবর। ক্যামাক স্ট্রিট সূত্রের খবর, ‘যুবরাজ’ পোস্টার ঘিরে বিতর্কের বিষয়টি অভিষেককে অবগত করা হয়। তার পরেই তিনি নির্দেশ দেন বিবেককে।
যদিও বিবেক এ ব্যাপারে নীরব। তাঁকে একাধিক বার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তৃণমূল সূত্রে খবর, গোটা ঘটনায় অভিষেক ‘ক্ষুব্ধ’। ঘটনাচক্রে, সিমলা স্ট্রিটে যে এলাকায় স্বামীজির বাড়ি, সেটি শ্যামপুকুর বিধানসভার অন্তর্গত। যেখানকার বিধায়ক রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা। এলাকা টপকে কেন বিবেক সেখানে হোর্ডিং টাঙাতে গেলেন, তা নিয়েও তৃণমূলের মধ্যে কৌতূহল রয়েছে। এমনিতেই বিবেকের কার্যকলাপ নিয়ে দলের অন্দরে নানাবিধ আলোচনা রয়েছে। কয়েক মাস আগে একটি কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল হিন্দিভাষী এই বিধায়ককে। সেই দায়িত্ব দেওয়া হয় মন্ত্রী শশীকে। নানা ঘটনার সূত্রে তৃণমূলে এই কৌতূহলও রয়েছে যে, ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটে বিবেক আবার টিকিট পাবেন কি না, তা নিয়ে। তার মধ্যেই জুড়ে গেল পোস্টার বিতর্ক। অনেকের মতে বিধানসভা ভোটে টিকিট ‘অনিশ্চিত’ হয়ে যাওয়ার জল্পনা থেকেই বিবেক ওই পোস্টার লাগাতে গিয়েছিলেন, যাতে অভিষেকের খাতায় খানিক নম্বর তোলা যায়। কিন্তু তাতে হয়েছে হিতে বিপরীত। এর ফলে বিবেকের টিকিট ‘অনিশ্চিত’ থেকে ‘নেই’ হয়ে গেল কিনা, তা অবশ্য বোঝা যাবে তৃণমূল তাদের প্রার্থিতালিকা প্রকাশ করার পর।
স্বামীজির জন্মদিবসে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সোমবার বিকালে অভিষেক গিয়েছিলেন সিমলা স্ট্রিটে। তখনও পোস্টারগুলি সেখানে ছিল বলেই খবর। যে পোস্টারে কেবল অভিষেকের ছবিই রয়েছে। স্বামীজির কোনও ছবি নেই। তাতে লেখা, ‘স্বাগতম যুবরাজ’। ওই পোস্টার নিয়ে সকাল থেকেই রাজনৈতিক আক্রমণ শুরু করেছিল বিজেপি। তাদের বক্তব্য, এমন পোস্টার স্বামীজির বাড়ির সামনে বসিয়ে আসলে স্বামী বিবেকানন্দকেই অসম্মান করেছে তৃণমূল। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, ‘‘আমি ৩৩ বছর ধরে এখানে আসি। প্রত্যেক বছর স্বামীজির জন্মদিনে আমি হোর্ডিং দিই। তাতে নিজের নামটা পর্যন্ত লিখতে দিই না। আর এদের ঔদ্ধত্য কোথায় গিয়েছে! মুখ্যমন্ত্রীর ভ্রাতুষ্পুত্রকে ‘যুবরাজ’ লিখছে!’’ শুভেন্দু আরও বলেন, ‘‘আমি শুনেছি, এখানকার প্রধান মহারাজ আর কারও ছবি লাগাতে কাউন্সিলরদের বারণ করেছিলেন। তার পরেও এরা শোনেনি।’’ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের ভাষা ছিল আরও আক্রমণাত্মক। তিনি বলেছিলেন, ‘‘একসময় এখানে স্বামীজি ঘুরে বেড়াতেন। এখন কয়লাচোর, গরুচোরেরা ঘুরে বেড়ায়। বাংলার মানুষের উচিত এদের উৎখাত করা। না হলে বিবেকানন্দের মতো প্রতিভা এই মাটিতে আর দেখা যাবে না।’’ প্রাথমিক ভাবে তৃণমূল আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় বিজেপি-কে বিঁধেছিল। কিন্তু বিতর্কের জল যে গড়াবে, সেই অনুমান শাসকদলের নেতাদের মধ্যেও ছিল। একাধিক মুখপাত্র প্রতিক্রিয়া এড়িয়ে গিয়েছিলেন। তবে বিকাল গড়াতেই পদক্ষেপ করলেন স্বয়ং অভিষেক।