দূরের লক্ষ্যবস্তুকে একেবারে নিখুঁত ভাবে নিশানা করে আবার তাক লাগিয়ে দিল সিঁদুর অভিযানে ব্যবহৃত ভারতের ‘সুদর্শন চক্র’ (এস ৪০০ ট্রায়াম্ফ)। সেই নিখুঁত নিশানার ভিডিয়ো প্রকাশ করল বায়ুসেনা। শুক্রবার রাজস্থানের পোখরানে ‘বায়ু শক্তি ২০২৬’ সামরিক মহড়ায় আবার শক্তিপ্রদর্শন হল এস ৪০০-এর। আর সেই ভিডিয়োর সঙ্গে লেখা, সেনার ইতিহাসে সবচেয়ে দূরের লক্ষ্যবস্তুকে নিশানা করার রেকর্ড তৈরি হল। আরও লেখা, ‘‘দৃষ্টির বাইরে যেতে পারে শত্রু, কিন্তু নাগালের বাইরে নয়।’’
প্রসঙ্গত, দেশের আকাশসীমাকে নিশ্ছিদ্র করতে রাশিয়ার থেকে এই ঘাতক অস্ত্র কেনে ভারত। আরও বেশ কয়েকটি এস ৪০০ কেনার কথা চলছে। দূরপাল্লার এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সিঁদুর অভিযানে সফল হয়েছে। দেশের আকাশসীমাকে দুর্ভেদ্য প্রহরীর মতো রক্ষা করেছে। পোখরানে সেই সুদর্শন চক্রের আরও এক বার শক্তিপরীক্ষা হয়ে গেল।
সুপারসনিক (শব্দের চেয়ে দ্রুতগতি সম্পন্ন) যুদ্ধবিমান, ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে আসা ড্রোন থেকে শুরু করে শত্রুপক্ষের ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র— ২০১৮ সালে মস্কোর থেকে পাওয়া এস-৪০০ ট্রায়াম্ফ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রায় নির্ভুল ভাবে বহুমুখী হামলার মোকাবিলায় সক্ষম। গত বছরের মে মাসে অপারেশন সিঁদুর-পর্বে সেই সক্ষমতার প্রমাণও দিয়েছে ভ্লাদিমির পুতিনের দেশের অস্ত্র। মস্কোর এই ‘সুদর্শন চক্র’র অ্যারে রেডার ৬০০ কিলোমিটার পর্যন্ত ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং যুদ্ধবিমানকে চিহ্নিত করতে সক্ষম। তবে এস ৪০০-এর ক্ষেপণাস্ত্রগুলির পাল্লা সর্বোচ্চ ৪০০ কিলোমিটার। নতুন ব্যবস্থায় ‘দিগন্তের বাইরে’ও শত্রুর গতিবিধি ঠাহর করে তা ধ্বংস করার পরিকল্পনা নিয়েছে ভারত।