১১টি বিধানসভা কেন্দ্র। ৪৪ লক্ষ মানুষ। তার নিরাপত্তার দায়িত্ব পুলিশ কমিশনারেটের। নির্বাচনের মুখে তাই টহলদারি-সহ গোটা নজরদারি ব্যবস্থাটাকেই সম্পূর্ণ ঢেলে সাজানোর সিদ্ধান্ত নিলেন ব্যারাকপুর কমিশনারেটের কর্তারা। প্রত্যেক পুলিশকর্মীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া এই সময়ে সকলকেই দিন-রাত এক করে কাজ করতে হবে।
পুলিশ কমিশনার নীরজকুমার সিংহের দাবি, ‘‘সমস্ত থানার ওসিদের টহলদারি ও খুঁটিনাটি নজরদারির দিকে জোর দিতে বলা হয়েছে। রাজ্য সড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে এবং বড় রাস্তাগুলোয় নাকা করা হচ্ছে। নজর রাখছে সাদা পোশাকের পুলিশও।’’ এ ছাড়া, ব্যারাকপুর কমিশনারেটের গোয়েন্দা দফতরের অফিসারদের নিয়ে একটি দল করা হয়েছে। নির্বাচনের আগে সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে রাজনৈতিক হিংসা
অথবা গণ্ডগোলের তথ্য সংগ্রহ করছেন তাঁরা। পাশাপাশি, আগে পুলিশ লাইন বা লাটবাগান থেকে মহিলা পুলিশ এনে কাজ সামাল দেওয়া হতো। কিন্তু ইদানীং বিভিন্ন ঝামেলায় বা বড়সড় অপরাধে মহিলাদের ভূমিকা বাড়তে থাকায় শিল্পাঞ্চলের সবক’টি থানায় মহিলা অফিসার ও কনস্টেবলের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে নিজেই টহল দিচ্ছেন মহকুমাশাসক তথা নির্বাচনী আধিকারিক পীযূষ গোস্বামী। নিজের ডায়েরিতে যাবতীয় অভিযোগ এবং পাল্টা বক্তব্য নোট করে নিচ্ছেন তিনি। কখনও বিরোধীদের সঙ্গে কথা বলছেন, কখনও শাসক দলের সঙ্গে। এলাকায় সাধারণ ভোটারদের কাছ থেকেও নিরাপত্তাজনিত সমস্যা বা ভোট নিয়ে বক্তব্য শুনছেন। কমিশনারেট সূত্রে খবর, মহকুমা প্রশাসন নির্বাচন কমিশনকে সব তথ্য দেওয়ার পাশাপাশি পুলিশও বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে শাসক ও বিরোধীদের সভা, মিছিলের ভিডিও রেকর্ডিং করছে। ছবি তুলে রাখা হচ্ছে টহলদারিরও।
ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে এখন ৯ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকলেও প্রথম দফার নির্বাচন শুরু হওয়ার আগেই বাহিনীর একটা বড় অংশকে যেখানে যখন ভোট হবে, তখন সেখানে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফলে এলাকা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সকাল-বিকেল কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিয়ে পুলিশের রুট মার্চ ভোটের দিন কতটা কাজে লাগবে, তা কার্যত সেদিন শিল্পাঞ্চলের ১১টি বিধানসভা কেন্দ্রে বাহিনীর সংখ্যার উপর নির্ভর করবে।
কেন্দ্রীয় বাহিনী আরও বাড়ানোর জন্য নির্বাচনী আধিকারিকদের চাপ দিচ্ছেন বিরোধীরা। শাসক দলের প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠছে মিছিল-মিটিং বা প্রচারে। বিরোধীদের অভিযোগ, শাসক দলের আশ্রিত দুষ্কৃতীরা বিরোধীদের দেওয়াল লিখন থেকে ব্যানার টাঙানো— সবেতেই বাধা দিচ্ছে। এবং সবটাই হচ্ছে আড়াল থেকে। আরও অভিযোগ, পুলিশকে জানালেও তেমন সাড়া মিলছে না প্রশাসনের তরফে।
পুলিশ কমিশনার বা মহকুমাশাসক অবশ্য বিরোধীদের এমন অভিযোগ মানতে চাননি। তাঁদের দাবি, ‘‘অভিযোগ পাওয়া মাত্রই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’’
দৃশ্যত ‘ব্যবস্থা’ নেওয়া হয়েছে মুকুল রায়ের খাস তালুক বীজপুরেই। বিধায়ক পুত্র শুভ্রাংশু রায়ের সমর্থনে লাগানো হোর্ডিং-ব্যানার-ফেস্টুন টহল দেওয়ার সময়ে খুলে দিয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। কোথাও কোথাও ছিঁড়েও ফেলা হয়েছে। মহকুমাশাসক বলেন, ‘‘সরকারি বা বিধিভঙ্গ হচ্ছে এমন কোনও জায়গায় হোর্ডিং দেখলেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’’
তবে আঁটোসাঁটো পুলিশি নজরদারি এবং নিবার্চন কমিশনের কড়াকড়ির পরেও অনেকেরই প্রশ্ন, শেষ পর্যন্ত প্রশাসন শাসক দলের কাছে প্রশাসকই থাকবে তো?