এক মাসের ব্যবধানে দমকলের ডিজি এবং সচিবকে লেখা হয়েছিল দু’টি অভিযোগপত্র। মেমো নম্বর যথাক্রমে ১০৭৭০ এবং ২০। প্রথম অভিযোগপত্রের সিলমোহর অনুযায়ী, চিঠিটি দমকলের সদর দফতরে ডিজি-র অফিসে গৃহীত হয়েছে ২০২৫-এর ১ ডিসেম্বর। দ্বিতীয় অভিযোগপত্র গৃহীত হয়েছে চলতি মাসের ২ তারিখে। অভিযোগপত্রে রয়েছে, হুগলি, ভদ্রেশ্বর ও চন্দননগর দমকল কেন্দ্রের একাধিক কর্মী-আধিকারিক হোটেলের ‘এনওসি’ (আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানকে ফিট সার্টিফিকেট প্রদান) দেওয়ার জন্য টাকা দাবি করছেন আবেদনকারীর কাছ থেকে।
আনন্দপুরের নাজিরাবাদে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পরে ওই চিঠি দু’টি ঘিরে শোরগোল পড়েছে ফ্রি স্কুল স্ট্রিটে, দমকলের সদর দফতরের আনাচকানাচে। প্রশ্ন উঠেছে, তা হলে কি অর্থের বিনিময়ে দমকলে ‘বেআইনি’ কোনও কিছু ‘আইনি’ হয়ে যায়? যে কারণে বার বার আগুন লাগে ও প্রাণহানি ঘটে। প্রতি বারই অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহতা ও মৃত্যু-মিছিল দেখে হুঁশ ফেরে সরকারের শীর্ষ মহলের। তখনই কমিটি গঠন, ফায়ার অডিটের উপরে জোর দেওয়া হয়। কিন্তু দমকল কেন্দ্রের কঙ্কালসার চেহারার পরিবর্তন হয় না। হুগলি, ভদ্রেশ্বর, চন্দননগর দমকল কেন্দ্রের কর্মী-আধিকারিকদের বিরুদ্ধে টাকা তোলার এমনই অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগপত্রের প্রাপ্তির কথা স্বীকার করে দমকলের ডিজি রণবীর কুমার বৃহস্পতিবার বলেন, ‘‘তদন্ত চলছে। অভিযোগ ঠিক কিনা, খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’’ দফতরের কর্মী-আধিকারিকদের বিরুদ্ধে প্রথম অভিযোগপত্রটি লেখা হয়েছে গত বছরের ১ ডিসেম্বর। ফের অভিযোগ পাঠানো হয়েছে চলতি মাসের ২ তারিখে। অভিযোগপত্রে লেখা হয়েছে, ‘অতীতে দমকলের জেলার শীর্ষ আধিকারিকদের বার বার জানিয়েও কাজ হয়নি। সে জন্য ডিজি, সচিবকে লিখতে বাধ্য হচ্ছি। দয়া করে দ্রুত ব্যবস্থা নিন।’’ প্রায় দু’মাস পার হতে চললেও এখনও তদন্তের নিষ্পত্তি হল না কেন? প্রশ্ন করা হলেও সদুত্তর মেলেনি ডিজি-র থেকে।
প্রথম অভিযোগপত্রে হুগলি জেলা ব্যবসায়িক সংগঠনের তরফে হুগলি, ভদ্রেশ্বর ও চন্দননগর দমকল কেন্দ্রের একাধিক কর্মী-আধিকারিকের নাম উল্লেখ করে দমকলের ডিজি-কে লেখা হয়েছে, ‘জেলার একাধিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শনে গিয়ে বেআইনি ভাবে টাকা দাবি করছেন কর্মী-আধিকারিকেরা।’ এমনকি, অতীতেও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে ডিজি-কে লেখা চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে। টাকা তোলার এজেন্ট হিসাবে চন্দননগর ও হুগলি দমকল কেন্দ্রের দুই দমকলকর্মীর নামও চিঠিতে রয়েছে।
ওই অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ‘অতীতে জেলার ডিভিশনাল অফিসারকে নালিশ করেও কোনও কাজ হয়নি।’ অভিযোগপত্রে উল্লেখ, বিগত দশ বছর ধরে এই বেআইনি কর্মকাণ্ডের কথা জেলার দায়িত্বে থাকা দমকল আধিকারিকদের বার বার জানানো হয়েছে। কিন্তু কিছুই হয়নি। হুগলি-চুঁচুড়া হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের তরফে একই ভাবে চলতি মাসের ২ তারিখ লেখা চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, হুগলি দমকল কেন্দ্রের কর্মী ও আধিকারিকেরা হোটেল পরিদর্শনের নামে ব্যবসায়ীদের থেকে টাকা দাবি করছেন। এমনকি, হোটেল পরিদর্শনের সময়ে বাক্সবন্দি খাবারের অর্ডার দিলেও টাকা শোধ করছেন না।’ কর্মী-আধিকারিকদের দাবি না মেটালে হোটেলের ফায়ার লাইসেন্স বাতিল করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে দমকলের সচিব খলিল আহমেদ বলেন, ‘‘আমরা যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে অভিযোগপত্র খতিয়ে দেখছি।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)